ইবোলা থেকে বিরল প্রজাতির গরিলাদের রক্ষায় ডিআর কঙ্গোর কঠোর পদক্ষেপ

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় আফ্রিকার সবচেয়ে পুরোনো সংরক্ষিত বনাঞ্চল বিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে জোরদার করা হয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা। স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় মাউন্টেন প্রজাতির গরিলাদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। খবর আল জাজিরার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত মে মাসে ডিআরসি ও প্রতিবেশী উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের মহাপরিচালক ইমানুয়েল দ্য মেরোদ বলেন, মানুষের বসতি না থাকায় বিরুঙ্গার মতো বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে। ২০১৮-২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায়ও বিরুঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এবারও পার্কটি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন দে মেরোদ। ইবোলা মোকাবিলায় পার্কের ভেতর ও আশপাশে ছয়টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয় মাসের জরুরি কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে ৪০ জন প্

ইবোলা থেকে বিরল প্রজাতির গরিলাদের রক্ষায় ডিআর কঙ্গোর কঠোর পদক্ষেপ

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় আফ্রিকার সবচেয়ে পুরোনো সংরক্ষিত বনাঞ্চল বিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে জোরদার করা হয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা। স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় মাউন্টেন প্রজাতির গরিলাদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। খবর আল জাজিরার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত মে মাসে ডিআরসি ও প্রতিবেশী উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের মহাপরিচালক ইমানুয়েল দ্য মেরোদ বলেন, মানুষের বসতি না থাকায় বিরুঙ্গার মতো বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে।

২০১৮-২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায়ও বিরুঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এবারও পার্কটি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন দে মেরোদ।

ইবোলা মোকাবিলায় পার্কের ভেতর ও আশপাশে ছয়টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয় মাসের জরুরি কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে ৪০ জন প্যারামেডিক ও ৮০ জন পার্ক রেঞ্জার।

দে মেরোদ জানান, পার্ক অতিক্রমকারী সড়কগুলোতে স্থাপিত চেকপোস্টে যাত্রীদের চলাচল পর্যবেক্ষণ, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা এবং প্রাথমিক আইসোলেশন সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া শহরের উত্তর ও দক্ষিণে স্থাপিত চেকপোস্টগুলোতে সংক্রমণপ্রবণ এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দিতে পার্ক প্রশাসন সুরক্ষা সরঞ্জাম, থার্মোমিটার, মরদেহ বহনের ব্যাগ এবং যানবাহনও সরবরাহ করেছে।

১৯৮০ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া বিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন কয়েকটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। প্রায় ৮০০ রেঞ্জার এই বনাঞ্চল পাহারা দেন।

দ্য মেরোদ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরুঙ্গার সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়েছে। চেকপোস্টে সংগৃহীত সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কঙ্গোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে চেকপোস্টগুলোতে দুজন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হলে তার সংস্পর্শে আসা অন্যদেরও দ্রুত শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।

বিরুঙ্গা বিশ্বের অতি বিরল মাউন্টেন গরিলার অন্যতম প্রধান আবাসস্থল। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তথ্য অনুযায়ী, ডিআরসি, রুয়ান্ডা ও উগান্ডা মিলিয়ে গ্রেটার বিরুঙ্গা অঞ্চলে এ প্রজাতির গরিলার সংখ্যা মাত্র এক হাজারের কিছু বেশি।

গরিলা ডক্টরসের পশুচিকিৎসক এডি সিয়ালুহা বলেন, মানুষের সঙ্গে ৯০ শতাংশের বেশি জিনগত মিল থাকায় মাউন্টেন গরিলাও ইবোলাসহ মানুষের বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

তবে গত পাঁচ দশকে এ অঞ্চলে একাধিকবার ইবোলা ছড়িয়ে পড়লেও বিরুঙ্গা বা ডিআরসির অন্য কোথাও কোনো মাউন্টেন গরিলার মধ্যে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়নি।

সিয়ালুহা বলেন, মানুষের মাধ্যমে সংক্রমণ ঠেকাতে দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং গরিলাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় আগের প্রাদুর্ভাবে ইবোলায় কিছু গরিলা প্রজাতির ৯০ শতাংশেরও বেশি মারা গিয়েছিল। তাই বিরুঙ্গার গরিলাদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে অন্য অঞ্চলের মতো আমাদের গরিলাদের ক্ষেত্রেও এমন বিপর্যয় না ঘটে।

সূত্র : আল জাজিরা

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow