ইমাম আজ-জাহাবি (রহ.)

ইসলামী ইতিহাস ও হাদিসশাস্ত্রের জগতে অবিস্মরণীয় নাম ইমাম আজ-জাহাবি। তার পূর্ণ নাম ইমাম শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আজ-জাহাবি (রহ.)। তিনি ছিলেন একজন মহান মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ, জীবনীকার ও সমালোচক। হাদিসের বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই ‘ইলমুর রিজাল’ ও ইতিহাসচর্চায় তার অবদান অতুলনীয়। ইমাম আজ-জাহাবি (রহ.) ৬৭৩ হিজরি মোতাবেক ১২৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার দামেস্ক নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ছিল জ্ঞান ও ধর্মচর্চায় সুপরিচিত। তার পিতা স্বর্ণকার (জাহাবি অর্থ স্বর্ণকার) হলেও পরিবারে ইলমের ঐতিহ্য ছিল দৃঢ়। শৈশব থেকেই তিনি তীক্ষ্ণ মেধা, প্রবল স্মরণশক্তি এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি গভীর আগ্রহের পরিচয় দেন। খুব অল্প বয়সেই আজ-জাহাবি (রহ.) কোরআন মুখস্থ করেন এবং এরপর হাদিস শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। দামেস্ক ছিল সে সময় ইসলামী জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র। এখানকার বিখ্যাত আলেমদের কাছে তিনি হাদিস, ফিকহ, আকিদা ও ইতিহাস অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি মিশর, হিজাজ ও অন্যান্য ইসলামী অঞ্চলে ভ্রমণ করে বহু শায়খের কাছ থেকে ইলম হাসিল করেন। তার শিক্ষকদের মধ্যে ইবন দাকিকুল ঈদ, আল-মিজ্জি এবং ইবন তাইমিয়া (রহ.) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ই

ইমাম আজ-জাহাবি (রহ.)

ইসলামী ইতিহাস ও হাদিসশাস্ত্রের জগতে অবিস্মরণীয় নাম ইমাম আজ-জাহাবি। তার পূর্ণ নাম ইমাম শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আজ-জাহাবি (রহ.)। তিনি ছিলেন একজন মহান মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ, জীবনীকার ও সমালোচক। হাদিসের বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই ‘ইলমুর রিজাল’ ও ইতিহাসচর্চায় তার অবদান অতুলনীয়। ইমাম আজ-জাহাবি (রহ.) ৬৭৩ হিজরি মোতাবেক ১২৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার দামেস্ক নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ছিল জ্ঞান ও ধর্মচর্চায় সুপরিচিত। তার পিতা স্বর্ণকার (জাহাবি অর্থ স্বর্ণকার) হলেও পরিবারে ইলমের ঐতিহ্য ছিল দৃঢ়। শৈশব থেকেই তিনি তীক্ষ্ণ মেধা, প্রবল স্মরণশক্তি এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি গভীর আগ্রহের পরিচয় দেন।

খুব অল্প বয়সেই আজ-জাহাবি (রহ.) কোরআন মুখস্থ করেন এবং এরপর হাদিস শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। দামেস্ক ছিল সে সময় ইসলামী জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র। এখানকার বিখ্যাত আলেমদের কাছে তিনি হাদিস, ফিকহ, আকিদা ও ইতিহাস অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি মিশর, হিজাজ ও অন্যান্য ইসলামী অঞ্চলে ভ্রমণ করে বহু শায়খের কাছ থেকে ইলম হাসিল করেন। তার শিক্ষকদের মধ্যে ইবন দাকিকুল ঈদ, আল-মিজ্জি এবং ইবন তাইমিয়া (রহ.) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ইমাম আজ-জাহাবি (রহ.) মূলত হাদিসবেত্তা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও ইতিহাস ও জীবনীচর্চায় তার দক্ষতা ছিল অসাধারণ। তিনি বর্ণনাকারীদের চরিত্র, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্মরণশক্তি বিচার করতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম মানদণ্ড প্রয়োগ করতেন। এজন্য তাকে আহলুস সুন্নাহর অন্যতম নির্ভরযোগ্য সমালোচক হিসেবে গণ্য করা হয়। তার রচিত গ্রন্থগুলো ইসলামী জ্ঞানভান্ডারের অমূল্য সম্পদ। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে—‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’, যেখানে নবী-সাহাবি থেকে শুরু করে পরবর্তী যুগের আলেমদের জীবনী সংকলিত হয়েছে; ‘তারিখুল ইসলাম, যা ইসলামের ইতিহাসচর্চায় এক বিশাল ও বিস্তৃত গ্রন্থ; ‘মিজানুল ই’তিদাল’, যেখানে দুর্বল ও বিতর্কিত হাদিস বর্ণনাকারীদের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ‘তাজকিরাতুল হুফফাজ’, ‘আল-কাবায়ের’ প্রভৃতি গ্রন্থ তার গভীর পাণ্ডিত্য ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে।

ব্যক্তিজীবনে ইমাম আজ-জাহাবি (রহ.) ছিলেন বিনয়ী, সংযমী ও তাকওয়াবান। তিনি ক্ষমতা বা খ্যাতির পেছনে ছোটেননি; বরং ইলমকে আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তার ভাষা ছিল পরিমিত, সমালোচনায় ন্যায়পরায়ণ এবং সিদ্ধান্তে ভারসাম্যপূর্ণ। ৭৪৮ হিজরি মোতাবেক ১৩৪৮ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্কেই এ মহান আলেম ইন্তেকাল করেন। তবে তার লেখা ও চিন্তাধারা আজও ইসলামী শিক্ষার জগতে জীবন্ত। হাদিস, ইতিহাস ও ইসলামী চিন্তাধারায় যারা গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন, তাদের জন্য ইমাম আজ-জাহাবি (রহ.) এখনো অনিবার্য ও অনুকরণীয় নাম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow