ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি দুই যুবক। সোমবার (২৪ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।  নিহতরা হলেন- বজলুর রশীদ (৩৮) ও মো. মনোহার আলী (৩৬)। তাদের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে। বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছোট ছেলে। অন্যদিকে মনোহার আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের বড় ছেলে।  নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে মনোহার প্রায় ৪ বছর ও বজলুর রশীদ দেড় বছর আগে ইরাক যান। তাদের কারো বৈধ কাগজপত্র ও আকামা ছিল না। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারী দোকানে কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। একপর্যায়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি চলন্ত প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়৷ এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হোন। এরপর স্থানীয় থানা পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠান।  এদিকে তাদের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহত মনোহারের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান রয়েছে। অপরদিকে বজলুর রশীদেরও স্ত্রী

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি দুই যুবক। সোমবার (২৪ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- বজলুর রশীদ (৩৮) ও মো. মনোহার আলী (৩৬)। তাদের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে। বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছোট ছেলে। অন্যদিকে মনোহার আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের বড় ছেলে। 

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে মনোহার প্রায় ৪ বছর ও বজলুর রশীদ দেড় বছর আগে ইরাক যান। তাদের কারো বৈধ কাগজপত্র ও আকামা ছিল না। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারী দোকানে কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। একপর্যায়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি চলন্ত প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়৷ এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হোন। এরপর স্থানীয় থানা পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠান। 

এদিকে তাদের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহত মনোহারের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান রয়েছে। অপরদিকে বজলুর রশীদেরও স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান রয়েছে। 

মনোহার সুদে টাকা নিয়ে ইরাকে গিয়েছিলেন৷ এখনো তার সেই টাকা পরিশোধ হয়নি। আয় উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তিকে হারানোর খবরে দিশেহারা স্ত্রী সোমা আক্তার।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ঋণ করে ইরাকে গেছে৷ সেখানে সে ভালো অবস্থায় ছিল না। এরমধ্যে তার মৃত্যুর খবর এলো। এখন আমরা কিভাবে চলমু৷ আমাদের সন্তানকে আর কে আদর করবে৷ আমার সন্তান যেন তার বাবার মুখটি শেষবারের মত দেখতে পারে সে জন্য সরকারের কাছে দাবি রইল, যেন দ্রুত আমার স্বামীর লাশ দেশে পাঠানো হয়৷’

একই দাবি জানান নিহত বজলুর রশীদের পরিবার ও স্বজনরা। বড়ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার ছোট ভাই বজলুর রশীদ দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল৷ তার লাশটি যেন দ্রুত দেশে আসে। সে জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। 

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি, ইরাকে মাদারগঞ্জের ২ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। 

তিনি বলেন, লাশ দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে পরিবারের প্রতি আমার বার্তা- তারা যেন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব, যেন লাশগুলি দেশে আনার ব্যাপারে দূতাবাসকে চিঠি দেওয়া হয়।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow