ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা : জ্বালানি ও বাণিজ্যে বৈশ্বিক চাপ
যুদ্ধ, রক্তপাত, সংঘাত, সহিংসতা কোন সমাধানের পথ হতে পারেনা। বরং যুদ্ধ বয়ে আনে অস্থিরতা, অশান্তি,অগনিত মৃত্যু, বিপুল বিশাল সম্পদের ক্ষতি এবং এর পেছনে থাকে ধ্বংসের স্তূপ। কোন দেশ, জাতির জন্য যুদ্ধ বয়ে আনেনা মঙ্গল বার্তা। তবু মানুষ, দেশ, রাষ্ট্র, সরকার জড়িয়ে পড়ে যুদ্ধে। রাজ্য জয়, সম্পদ দখল, আধিপত্য বিস্তার, স্বার্বভৌমত্বক প্রতিষ্ঠাই মূলত : যুদ্ধে জড়াবার দৃশ্যত : কারণ। ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলে হামলা বা যুদ্ধ শুরুর কারণ ভিন্ন। মার্কিন আধিপত্য বিস্তার, কেল সম্পদ নি জেদের করায়াত্ব করা, মার্কিন ঘাটি স্থাপনই এই হামলার লক্ষ্য। ইরান এই হামলায় ব্যবহার করছে সর্বাধুনিক ব্যালেস্টিক মিজাইল। এই মিসাইল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১২ থেকে সাড়ে ১২ হাজার কিলো মিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। এই মিসাইল ব্যবহার করেন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউত্তাপের যে কোন দেশে হামলা চালাকে পারবে ইরান। এই শক্তিশালী আত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক মিজাইল বিশ্বের আর কোন দেশে নেই- এমন দাবি ইরানের। কাজেই হামলা ঠেকানোর মতো পারমাণবিক সক্ষমাতা নেই ইরানের শত্রুপক্ষের কাছে। এমনি অবস্থায় এই বহুপাক্ষিক যুদ্ধে শুধু জ্বালানি তেল, এলপিজি, এলএনজি সংকট
যুদ্ধ, রক্তপাত, সংঘাত, সহিংসতা কোন সমাধানের পথ হতে পারেনা। বরং যুদ্ধ বয়ে আনে অস্থিরতা, অশান্তি,অগনিত মৃত্যু, বিপুল বিশাল সম্পদের ক্ষতি এবং এর পেছনে থাকে ধ্বংসের স্তূপ। কোন দেশ, জাতির জন্য যুদ্ধ বয়ে আনেনা মঙ্গল বার্তা। তবু মানুষ, দেশ, রাষ্ট্র, সরকার জড়িয়ে পড়ে যুদ্ধে। রাজ্য জয়, সম্পদ দখল, আধিপত্য বিস্তার, স্বার্বভৌমত্বক প্রতিষ্ঠাই মূলত : যুদ্ধে জড়াবার দৃশ্যত : কারণ। ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলে হামলা বা যুদ্ধ শুরুর কারণ ভিন্ন। মার্কিন আধিপত্য বিস্তার, কেল সম্পদ নি জেদের করায়াত্ব করা, মার্কিন ঘাটি স্থাপনই এই হামলার লক্ষ্য। ইরান এই হামলায় ব্যবহার করছে সর্বাধুনিক ব্যালেস্টিক মিজাইল। এই মিসাইল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১২ থেকে সাড়ে ১২ হাজার কিলো মিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। এই মিসাইল ব্যবহার করেন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউত্তাপের যে কোন দেশে হামলা চালাকে পারবে ইরান। এই শক্তিশালী আত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক মিজাইল বিশ্বের আর কোন দেশে নেই- এমন দাবি ইরানের। কাজেই হামলা ঠেকানোর মতো পারমাণবিক সক্ষমাতা নেই ইরানের শত্রুপক্ষের কাছে। এমনি অবস্থায় এই বহুপাক্ষিক যুদ্ধে শুধু জ্বালানি তেল, এলপিজি, এলএনজি সংকটে বাংলাদেশসহ বিশে^র দেশে দেশে বহুবিধ সংকটে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মূলত : শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল হামলা চালালে পরবর্তীতে ইরান পাল্টা আকাশ পথে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র,ইসরাইলে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, দুবাই, আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শারজাহ, বাহরাইন, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সকল তেল সমৃদ্ধ দেশে থাকা মার্কিন ঘাটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। হামলা চলে এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে, তেল স্থাপনায়। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রাণালি বন্ধ ঘোষণা বিশ^ব্যাপী এখন জ্বালানি তেল ও এলপিজি,এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পথে। তাছাড়া হরমুজ প্রাণালি ব্যবহার করে পণ্যবাহি জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগ্য পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ পর্যায়ে হরমুজ প্রানীর পরিবর্তে বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যায় বাড়তে কয়েকগুণ। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ^ব্যাপী জ্বালানি তেল, এলপিজি, এলএনজি সংকট তীব্রতর হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেল, এলপিজি, এলএনজি সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে।
এখন পযন্ত শুধু আকাশ পথে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধেও প্রভাব পুড়ছে পারস্য উপসাগরীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে। হামলা-পাল্টা হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে প্রায় সহস্রাধিকের বেশি মানুষ। নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার স্ত্রী। বন্ধ করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের গতি বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে উভয়পক্ষ থেকেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব রাজনীতির এক অস্থির অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। এখানকার সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথকে বদলে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের কালো ধোঁয়া সারা বিশ্বকে আবার ভাবিয়ে তুলেছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি রূপে ছড়াতে থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার মতো দূরবর্তী অঞ্চলেও এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ সরাসরি এই যুদ্ধের অংশ নয়; তবুও অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ কিছু ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাবও পড়তে পারে দীর্ঘমেয়াদি। প্রত্যক্ষ প্রভাবের চেয়ে যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে আরও বেশি। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এই যুদ্ধ।
এমনিতেই বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ধাক্কা লাগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের। এরই মধ্যে বিগত সরকারের লুটপাট আর অর্থ পাচারের ফলে দেশের অর্থনীতি তলানিতে। তাছাড়া সদ্য বিদায় নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ নির্ভর অর্থনীতি,সামাজিক ও ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতে নাকাল মানুষ। এমনি এক বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদলের পর এখনো অর্থনীতিতে গতি ফেরেনি। বিদেশি ঋণের ফাঁদ আর মূল্যস্ফীতির চাপে অর্থনীতি রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকিতে। অর্থনৈতিক এই টানাপড়েনের মধ্যেই নতুন সরকার ক্ষমতা নেয়ার শুরুতেই আবার শুরু হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। যুদ্ধের স্থায়িত্ব যত বেশি হবে, তার প্রভাব ততই বাড়তে থাকবে। বিশেষ করে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, জ্বালানি তেল, রেমিট্যান্স প্রবাহ, বিমান পরিবহন, শেয়ার বাজারে এর প্রভাব পড়বে অনেক বেশি। অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে ডলারের দাম বেড়ে গেলে সার্বিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে টালমাটাল পরিস্থিতির তৈরি হবে। যুদ্ধের এসব প্রভাব ভাবিয়ে তুলছে সরকারসহ দেশের মানুষকে।
গত ২রা মার্চ রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে। সচিবালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আপাতত শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। মধ্যপ্রাচ্যের এ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবির বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের যে স্টক (মজুত) রয়েছে, তা নিয়ে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। তবে সংকটের সময় কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সংকট আমরা আগেও দেখেছি। এনার্জি রিলেটেড (জ্বালানি-সম্পর্কিত) ক্ষেত্রে কিছু ফ্লাকচুয়েশন (ওঠানামা) হতে পারে।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল ঘিরে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় যদি সরবরাহ বিঘিণ্নত হয় বা হরমুজ প্রণালি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ যেহেতু শতভাগ আমদানিনির্ভর, তাই এ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সরাসরি এসে পড়বে দেশের উৎপাদন ও পরিবহন খাতে।’ ‘তেলের দাম বাড়া মানেই সবকিছুর দাম বাড়া। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে। মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি তৈরি হবে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে। আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এমনিতেই সংকটে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়লে এ ঘাটতি আরও বিস্তৃত হবে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ডলারের চাহিদা বাড়বে, ফলে টাকার ওপর চাপ তৈরি হবে। বিনিময় হার আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, যা আমদানি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধ দুটোকেই কঠিন করে তুলবে।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির অভিমত, ‘বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এবং বহুমুখী হতে পারে। তবে এ সংকটের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা মূলত নির্ভর করবে যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং এর বিস্তৃতির ওপর। যুদ্ধ দ্রুত থেমে গেলে এর প্রভাব হয়তো খুব প্রকট হবে না। কিন্তু এটি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘিœত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে ।
করোনার পর এক বছর ইরানের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি সামান্য বাড়লেও দুই অর্থবছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ-ইরানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১ কোটি ডলারের সামান্য বেশি। এর মধ্যে বড় অংশ বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি। এর বিপরীতে ইরান থেকে আমদানি হয় সামান্য। মাঝেমধ্যেই সেই আমদানি আবার শূন্য হয়। বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
এর মধ্যে ১ কোটি ৮ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৮ ডলারের পাটের সুতা, ৯৫ হাজার ৩১০ ডলারের নিট পোশাক এবং ৯ হাজার ৩৫১ ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তার আগে গত ২০২০-২১ অর্থবছরেও ইরানে পণ্য রপ্তানি ছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের। পরের বছর সেই রপ্তানি কমে ১ কোটি ১৯ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। পরের বছর রপ্তানি কমে হয় ১ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইরান থেকে বাংলাদেশে ৫ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়। তার আগের তিন বছর দেশটি থেকে কোনো আমদানি হয়নি। গত ২০২০-২১ অর্থবছর দেশটি থেকে আমদানি হয়েছিল ৩ লাখ ডলারের পণ্য। অবশ্য ইরান থেকে পণ্য আমদানি বছর দশেক আগে কিছুটা বেশি ছিল। গত ২০১০-১১ অর্থবছরে ৪৪৯ কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়। তার পরের বছর থেকে সেই আমদানি কমতে থাকে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯৯ কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়।
হরমুজ খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেসব জাহাজ যায়, সেগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে। এখন সেই জাহাজ ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক ঘুরে যেতে হবে।’ ‘মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে কার্গো বিমানও চলছে না। তাতে জরুরি পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও এলএনজি আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ‘যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের সক্ষমতা কমবে, ফলে তারা পোশাকের মতো পণ্যে কম ব্যয় করবেন। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারে উৎপাদন খরচ বাড়বে, কারণ বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ। তৃতীয়ত, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যদি বিকল্প নৌপথ বেছে নিতে হয়, তাহলে সামগ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হয়; তাহলে কুয়েত, ইরাক, ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রপ্তানি বাজার প্রভাবিত হতে পারে।’ তদুপরি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা ও ইরানের পাল্টা হামলায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যের কর্মসংস্থান। কমতে পারে রেমিট্যান্স প্রবাহ। প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে। সেখান থেকে আসে দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৪৯ শতাংশ।
অন্যদিকে,দেশে বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয় কমবেশি ৭০ লাখ টন। যার বেশিরভাগই আনা হয় মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার দেশগুলো থেকে। এই যুদ্ধে তেল সরবরাহ সংকটে পড়বে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে পুরো জ্বালানি খাতে নেমে আসবে বিপর্যয়। এরই মধ্যে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।’ রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রত্যশা যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘসহ ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের শক্তিধর সকল রাষ্ট্রকে আন্তরিক ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ যুদ্ধ কখনো শান্তি বয়ে আনেনা, যুদ্ধ নয়-শান্তিই হোক বিশ্ববাসীর বড় চাওয়া।
মোতাহার হোসেন : সম্পাদক-ক্লাইমেট জার্নাল২৪.কম, সাধারণ সম্পাদক-বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম। ৭ মার্চ, ২০২৬।
What's Your Reaction?