ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, যা থাকছে আলোচনায়  

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক। দুই দেশের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। আজ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।  শনিবার (১১ এপ্রিল) জিও নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাই এ আলোচনার মূল লক্ষ্য। আলোচনার উদ্দেশে ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ১৫ দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।  পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এ বৈঠকে আলোচনা হবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে- পারমাণবিক কর্মসূচি ইরানের পারমাণবিক ও ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নজরদারি আরোপ করতে চায় তারা। অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর স্বীকৃতি চায় ইরান। তাদের মতে, এটি তাদের সার্বভৌম অধিকারের অংশ। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সব নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার চায় তারা। এছাড়া, তারা বিদেশে জব্দকৃত তাদের সব অর্থসম্পদ ফেরত চায়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, যা থাকছে আলোচনায়  

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক। দুই দেশের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। আজ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। 

শনিবার (১১ এপ্রিল) জিও নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাই এ আলোচনার মূল লক্ষ্য। আলোচনার উদ্দেশে ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ১৫ দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। 

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এ বৈঠকে আলোচনা হবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে-

পারমাণবিক কর্মসূচি

ইরানের পারমাণবিক ও ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নজরদারি আরোপ করতে চায় তারা। অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর স্বীকৃতি চায় ইরান। তাদের মতে, এটি তাদের সার্বভৌম অধিকারের অংশ।


অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা

ইরানের ওপর আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সব নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার চায় তারা। এছাড়া, তারা বিদেশে জব্দকৃত তাদের সব অর্থসম্পদ ফেরত চায়। ইরানের এই দাবিরও বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের প্রস্তাব, ইরান যদি নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে তাহলে ধাপে ধাপে এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালি

বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে রয়েছে দ্বিমত। ইরান এ প্রণালির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে। এমনকি হরমুজে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকেও ইরানি মুদ্রায় টোল আদায় করতে চায় তারা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা চেয়েছে। এমনকি ইরানি মুদ্রায় টোল দেওয়ার বিষয়টিরও বিরোধিতা করেছে তারা।


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহসহ তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ইরান অঞ্চলে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারও তাদের প্রধান দাবিগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রের চায়, হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরান তাদের সমর্থন বন্ধ করুক। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক উপস্থিতি কমাবে না বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ

সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এসব ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের ওপর ইরানের চালানো হামলার জবাবদিহি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। 

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, এই আলোচনায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় অগ্রগতি নাও আসতে পারে। তবে ধাপে ধাপে আস্থা তৈরির মাধ্যমে সংলাপ অব্যাহত থাকলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়তে পারে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow