ইরান যুদ্ধ শেষে কী অপেক্ষা করছে
গত কয়েক মাসে একাধিকবার শান্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ফলে বিনিয়োগকারী ও তেল ব্যবসায়ীরা এখন আর শুধু রাজনৈতিক ঘোষণায় ভরসা করছেন না। তারা বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চাইছেন। সবার মনেই আশঙ্কা রয়েছে যে, যুদ্ধ শেষ হলেও আদতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি-না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের ব্যাপার। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিও আবার খুলে দেওয়ার কথাও জানা গেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে এখনো সন্দেহ কাটেনি। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়। যুদ্ধ চলাকালে ইরান দ্রুতগতির নৌকা, মাইন ও ড্রোন ব্যবহার করে এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। যুদ্ধ শেষ হলেও সংকট কাটতে সময় লাগবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ সত্যিই শেষ হলেও তেলবাজার দ্রুত স্বাভাবিক হবে না। চলতি বছরেও আগের দামে ফেরার সম্ভাবনা কম, এমনকি পরিস্থিতি পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে প্রায় ১৬৬
গত কয়েক মাসে একাধিকবার শান্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ফলে বিনিয়োগকারী ও তেল ব্যবসায়ীরা এখন আর শুধু রাজনৈতিক ঘোষণায় ভরসা করছেন না। তারা বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চাইছেন। সবার মনেই আশঙ্কা রয়েছে যে, যুদ্ধ শেষ হলেও আদতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি-না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের ব্যাপার। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিও আবার খুলে দেওয়ার কথাও জানা গেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে এখনো সন্দেহ কাটেনি।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়। যুদ্ধ চলাকালে ইরান দ্রুতগতির নৌকা, মাইন ও ড্রোন ব্যবহার করে এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
যুদ্ধ শেষ হলেও সংকট কাটতে সময় লাগবে
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ সত্যিই শেষ হলেও তেলবাজার দ্রুত স্বাভাবিক হবে না। চলতি বছরেও আগের দামে ফেরার সম্ভাবনা কম, এমনকি পরিস্থিতি পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে প্রায় ১৬৬টি তেলবাহী জাহাজ আটকে আছে। এসব জাহাজে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। প্রথমে এসব জাহাজ সরাতে হবে, এরপর খালি জাহাজ প্রবেশ করে নতুন করে তেল বহন শুরু করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পূর্ণ সক্ষমতায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
উৎপাদন স্বাভাবিক করাও বড় চ্যালেঞ্জ
যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের বহু তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। তেল উত্তোলন আবার শুরু করা সহজ কাজ নয়। এতে জটিল প্রকৌশল, চাপ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘ সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলে তেলের ভূগর্ভস্থ স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে হবে।
এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে কিছু তেল শোধনাগার, গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মেরামতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন এবং ৩০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
তেলের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম
তেল ব্যবসায়ীরা এখনো পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। কারণ অতীতেও স্বল্প সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও পরে আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বীমা কোম্পানিগুলোও সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের খরচ কয়েক হাজার শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে অনেক জাহাজ কোম্পানি এখনো ওই পথে চলাচলে অনাগ্রহী।
বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কিছু বেশি। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের বাকি সময় গড়ে তেলের দাম প্রায় ৯৭ ডলার থাকতে পারে।
তবে পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় শান্ত থাকলে এবং উৎপাদন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু সেটি নির্ভর করছে ইরান সত্যিই কতটা স্থায়ীভাবে প্রণালি উন্মুক্ত রাখে তার ওপর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগের মতো সম্পূর্ণ মুক্ত চলাচল এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। অর্থাৎ যুদ্ধ থামলেও জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা এখনই শেষ হচ্ছে না।
What's Your Reaction?