ইরানকে দুর্বল করা গেল না, লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-কে ঘিরে চলমান সংঘাতে সামরিক ক্ষেত্রে কিছু সাফল্য পেলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক যুদ্ধে পিছিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এমন বিশ্লেষণ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। বিশ্লেষক ফেরাস আবু হেলালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ সাময়িকভাবে থেমে যাওয়ার পর ‘কে জিতল’—এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক ও জনমত পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের রাজনীতিবিদরা যেমন নিজেদের বিজয় দাবি করছেন, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনও সাফল্যের কথা বলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আধুনিক যুদ্ধের ফলাফল আগের মতো স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে “মানবাধিকার” ও “আন্তর্জাতিক আইন”-এর ধারণা প্রতিষ্ঠার পর যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ধারণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এখন “হৃদয় ও মন জয়” (hearts and minds) ধারণাটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা প্রথম স্পষ্টভাবে দেখা যায় ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে। বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিকভাবে কিছু কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছে—যেমন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ড এবং অবকাঠামোর ক্ষতি সাধন। তবে এসব সাফল্য রাজনৈতিক অর্জনে র

ইরানকে দুর্বল করা গেল না, লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-কে ঘিরে চলমান সংঘাতে সামরিক ক্ষেত্রে কিছু সাফল্য পেলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক যুদ্ধে পিছিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এমন বিশ্লেষণ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

বিশ্লেষক ফেরাস আবু হেলালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ সাময়িকভাবে থেমে যাওয়ার পর ‘কে জিতল’—এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক ও জনমত পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের রাজনীতিবিদরা যেমন নিজেদের বিজয় দাবি করছেন, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনও সাফল্যের কথা বলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আধুনিক যুদ্ধের ফলাফল আগের মতো স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে “মানবাধিকার” ও “আন্তর্জাতিক আইন”-এর ধারণা প্রতিষ্ঠার পর যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ধারণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এখন “হৃদয় ও মন জয়” (hearts and minds) ধারণাটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা প্রথম স্পষ্টভাবে দেখা যায় ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিকভাবে কিছু কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছে—যেমন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ড এবং অবকাঠামোর ক্ষতি সাধন। তবে এসব সাফল্য রাজনৈতিক অর্জনে রূপ নিতে পারেনি।

অন্যদিকে, ইরান দেখাতে সক্ষম হয়েছে যে তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রয়েছে। পাশাপাশি তারা হরমুজ প্রণালী-এর ওপর প্রভাব বাড়িয়ে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো—যেমন ইরানে সরকার পরিবর্তন, গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি, কুর্দি বাহিনীকে উসকে দেওয়া এবং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা—কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মিত্র দেশ এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে ইরানও পুরোপুরি লাভবান হয়নি। উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে তাদের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল করতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাতে এখনই চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করা কঠিন। তবে সামরিক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কৌশলগত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পিছিয়ে পড়ছে।

সূত্র: Middle East Eye.

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow