ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, ১ ডলারে মিলছে ১৫ লাখ

ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক ডলারে মিলছে ১৫ লাখ ইরানি রিয়াল। মুদ্রার মান ক্রমাগত কমতে থাকায় কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তারপর এই নতুন পতন দেখা গেলো। মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বনবাস্ট ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই রিয়াল তার মূল্যের প্রায় ৫ শতাংশ হারিয়েছে। এদিকে, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি দাবি করেছেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। রিয়ালের এই তীব্র পতনের মধ্যেও তিনি বাজার পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলেই উল্লেখ করেন। ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজারে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে অর্থনৈতিক দুরবস্থা কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদ হলেও, খুব দ্রুত তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে ও ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় বৈধতা সংকটে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা তখন সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানাতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে এই বিক্ষোভ দমন

ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, ১ ডলারে মিলছে ১৫ লাখ

ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক ডলারে মিলছে ১৫ লাখ ইরানি রিয়াল। মুদ্রার মান ক্রমাগত কমতে থাকায় কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তারপর এই নতুন পতন দেখা গেলো।

মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বনবাস্ট ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই রিয়াল তার মূল্যের প্রায় ৫ শতাংশ হারিয়েছে।

এদিকে, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি দাবি করেছেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। রিয়ালের এই তীব্র পতনের মধ্যেও তিনি বাজার পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলেই উল্লেখ করেন।

ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজারে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে অর্থনৈতিক দুরবস্থা কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদ হলেও, খুব দ্রুত তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে ও ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় বৈধতা সংকটে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা তখন সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানাতে শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে এই বিক্ষোভ দমন করে। চলতি মাসের শুরুতে এই অস্থিরতা অনেকটাই স্তিমিত হলেও, মনে করা হচ্ছে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটিই ছিল সবচেয়ে ‘রক্তক্ষয়ী দমন অভিযান’।

ভর্তুকি সংস্কার

বিক্ষোভের মধ্যেই সরকার একটি বড় ভর্তুকি সংস্কার কর্মসূচি চালু করে। এই সংস্কারের আওতায় আমদানিকারকদের জন্য থাকা বিশেষ বা প্রাধান্যভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার বাতিল করা হয়। তার পরিবর্তে সাধারণ ইরানিদের সরাসরি অর্থ সহায়তা দেওয়া শুরু হয়, যাতে তারা প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন।

ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদরেজা আরেফ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এই নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, দুর্নীতির কারণে প্রাধান্যভিত্তিক বিনিময় হার নীতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিল। তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো- বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে স্থিতিশীল করা।

তবে বাস্তবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালি পর্যায়ে মাসিক মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলেছে। ২১ ডিসেম্বর থেকে ১৯ জানুয়ারির সময়কালে বার্ষিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশে।

এর পাশাপাশি, ইরানের অনলাইন অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৮ জানুয়ারি থেকে আরোপ করা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এখনো বড় অংশে বহাল রয়েছে, যার ফলে অনলাইন ব্যবসা ও ডিজিটাল খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, সরকার মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবস্থার পক্ষেই রয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ বজায় রাখা প্রয়োজন।

সূত্র: আরব নিউজ

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow