ইরানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে স্টারলিংক

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থায় বিক্ষোভের তথ্য-প্রবাহ ঠিক রাখতে দেশটিতে এখন বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের মধ্যে ফোনালাপে ইরানে স্টারলিংক প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন প্রশাসনের মতে, ইরানে চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে স্টারলিংকই ‘তথ্য বের করার একমাত্র পথ’। স্টারলিংকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সরকার বহু বছর ধরে ভিপিএন ও অন্যান্য সফটওয়্যার সরঞ্জামের জন্য অর্থায়ন করে আসছে যাতে ইরানিরা সেন্সরশিপ এড়িয়ে যোগাযোগ রাখতে পারে। গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানি সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ কঠোরভাবে সীমিত করেছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় দুই হাজার জনের বেশি নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রযুক্তিখাতের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্সের নির্বাহী পরিচালক আহমদ আহমাদিয়ান বলেছেন, আগে নিষ্ক্রিয় থাকা ইরানের স্টারলি

ইরানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে স্টারলিংক

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থায় বিক্ষোভের তথ্য-প্রবাহ ঠিক রাখতে দেশটিতে এখন বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক।

এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের মধ্যে ফোনালাপে ইরানে স্টারলিংক প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন প্রশাসনের মতে, ইরানে চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে স্টারলিংকই ‘তথ্য বের করার একমাত্র পথ’। স্টারলিংকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সরকার বহু বছর ধরে ভিপিএন ও অন্যান্য সফটওয়্যার সরঞ্জামের জন্য অর্থায়ন করে আসছে যাতে ইরানিরা সেন্সরশিপ এড়িয়ে যোগাযোগ রাখতে পারে।

গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানি সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ কঠোরভাবে সীমিত করেছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় দুই হাজার জনের বেশি নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিখাতের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্সের নির্বাহী পরিচালক আহমদ আহমাদিয়ান বলেছেন, আগে নিষ্ক্রিয় থাকা ইরানের স্টারলিংক অ্যাকাউন্টগুলো এখন সচল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন ফি মওকুফ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা উইটনেসের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহসা আলিমারদানি বলেছেন, ইরানে আনুমানিক ৫০ হাজার স্টারলিংক রিসিভার রয়েছে। তার মতে, এ সংখ্যা বাড়াতে পারলে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে এবং চলমান সহিংসতা নথিবদ্ধ করতেও তা সহায়ক হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইরানের ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক মানুষেরই স্টারলিংকে প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং দেশটির সরকার চাইলে সেবাটি জ্যাম বা বিঘ্নিত করতে পারে।

কেন্টিক নামের নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ডাগ ম্যাডরি জানিয়েছেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী নিজস্ব গ্রেট ফায়ারওয়াল গড়ে তুলেছে যা অনুমোদিত ট্রাফিক ছাড়া সবকিছু ব্লক করে। দেশটিতে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করায় ইন্টারনেট বন্ধ করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ইরানি কর্তৃপক্ষ সামরিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্টারলিংকের সংকেত জ্যাম করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র : সিএনএন

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow