ইরানের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, সমর্থনযোগ্য নয়: ফ্রান্স

ইরানের ওপর ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনীর চলমান হামলাকে ‘অনুমোদন করতে পারে না’ বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স। এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এসব বার্তা দিয়েছেন। ফরাসি গণমাধ্যম ফ্রান্স ২-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বারোট বলেন, এই সংঘাতের সাথে ফ্রান্সের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধকে সমর্থন করি না এবং আমরা এতে অংশ নিচ্ছি না।’ ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড মেনে চলছে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, যথাযথ উদ্দেশ্য ছাড়া এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। উল্লেখ্য যে, এই হামলায় এ পর্যন্ত ইরানে ১,২০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজার জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও ফ্রান্স পশ্চিমা জোটের এই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছে, তবুও তেহরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বারোট। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি ইরান একটি অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শক্তি হওয়ার অবস্থান ত্যাগ করবে।’ তিনি আরও য

ইরানের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, সমর্থনযোগ্য নয়: ফ্রান্স

ইরানের ওপর ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনীর চলমান হামলাকে ‘অনুমোদন করতে পারে না’ বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স। এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এসব বার্তা দিয়েছেন।

ফরাসি গণমাধ্যম ফ্রান্স ২-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বারোট বলেন, এই সংঘাতের সাথে ফ্রান্সের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধকে সমর্থন করি না এবং আমরা এতে অংশ নিচ্ছি না।’

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড মেনে চলছে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, যথাযথ উদ্দেশ্য ছাড়া এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

উল্লেখ্য যে, এই হামলায় এ পর্যন্ত ইরানে ১,২০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজার জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

যদিও ফ্রান্স পশ্চিমা জোটের এই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছে, তবুও তেহরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বারোট। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি ইরান একটি অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শক্তি হওয়ার অবস্থান ত্যাগ করবে।’

তিনি আরও যোগ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের আঞ্চলিক অবস্থানে আমূল পরিবর্তন এবং বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে।

সংঘাতের সরাসরি অংশীদার না হলেও, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ রক্ষায় ফ্রান্স একটি বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারোট নিশ্চিত করেছেন যে, বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এই মিশনে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় কিছু দেশও এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে। এই মিশনটি হবে মূলত রক্ষণাত্মক এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে এর প্রধান কাজ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান ইতোমধ্যেই ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের এই অবস্থান পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে একটি কূটনৈতিক বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কে এম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow