ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের এক তৃতীয়াংশ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গোয়েন্দা তথ্য বলছে, চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা ভূগর্ভস্থ টানেলে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে এগুলোর প্রকৃত অবস্থা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি। একই ধরনের মূল্যায়ন ইরানের ড্রোন সক্ষমতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং নৌ-সামরিক উৎপাদন অবকাঠামোর ৬৬ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা অকার্যকর করে দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও জটিল। কারণ, ইরান তাদের সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক গড়ে

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের এক তৃতীয়াংশ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গোয়েন্দা তথ্য বলছে, চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা ভূগর্ভস্থ টানেলে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে এগুলোর প্রকৃত অবস্থা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি। একই ধরনের মূল্যায়ন ইরানের ড্রোন সক্ষমতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং নৌ-সামরিক উৎপাদন অবকাঠামোর ৬৬ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা অকার্যকর করে দিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও জটিল। কারণ, ইরান তাদের সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এসব টানেলে ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও ড্রোন লুকিয়ে রাখা হয়, যা বিমান হামলার পরও অনেক ক্ষেত্রে অক্ষত থাকতে পারে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্রও পরবর্তীতে মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ লঞ্চার অকার্যকর করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা গেছে, ইরান এখনও আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, তারা সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর দিকে একদিনেই ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এমনকি প্রথমবারের মতো ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার ক্ষেত্রে কিছুটা সফল হলেও তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে পারেনি। বরং ইরান কৌশলগতভাবে তাদের অস্ত্র মজুদ আড়ালে রেখে আংশিকভাবে ব্যবহার করছে। দীর্ঘমেয়াদে লড়াই চালিয়ে যেতে এ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে দেশটি।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow