‘ইরানের প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা ভেঙে গেছে’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের মুখে ইরানের প্রতিরোধ মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক কৌশলগত বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল গোলাম মোস্তফা। তার দাবি, ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অজেয়তার দীর্ঘদিনের ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক দক্ষিণভিত্তিক নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের এই সাবেক প্রধান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ছিল বিশ্বের জ্বালানি সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। তার মতে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রও একই অবস্থান গ্রহণ করে। তবে প্রকৃত লক্ষ্য ছিল শুধু ইরান নয়, বরং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। গোলাম মোস্তফা বলেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল তেল ও গ্যাসক্ষেত্র এবং উত্তরের কাস্পিয়ান অঞ্চলের জ্বালানি সম্পদ পশ্চিমা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের মুখে ইরানের প্রতিরোধ মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক কৌশলগত বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল গোলাম মোস্তফা। তার দাবি, ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অজেয়তার দীর্ঘদিনের ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক দক্ষিণভিত্তিক নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের এই সাবেক প্রধান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ছিল বিশ্বের জ্বালানি সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ।
তার মতে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রও একই অবস্থান গ্রহণ করে। তবে প্রকৃত লক্ষ্য ছিল শুধু ইরান নয়, বরং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
গোলাম মোস্তফা বলেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল তেল ও গ্যাসক্ষেত্র এবং উত্তরের কাস্পিয়ান অঞ্চলের জ্বালানি সম্পদ পশ্চিমাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে বৈশ্বিক সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর তাদের প্রভাব আরও শক্তিশালী হতো।
তার মতে, ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযানের ফলে সেই বৃহত্তর পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই সংঘাতের পর পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্যের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মানুষের মনে যে ভয় ও অজেয়তার ধারণা ছিল, তা ভেঙে দিয়েছে। একইভাবে ইসরায়েলও যা খুশি তাই করতে পারে; এমন ধারণার অবসান হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরাকে ২০০৩ সালের অভিযানের সময় ব্যবহৃত বিস্ময় ও ভয় কৌশল ইরানের ক্ষেত্রেও প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে গোলাম মোস্তফা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ইতিহাস এবং জনগণের মনোবলকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, শক্তিশালী বিমানবাহিনী বা নৌবাহিনী ছাড়াই ইরান একযোগে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের আঞ্চলিক সামরিক অবকাঠামোর মোকাবিলা করেছে। বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরান কার্যকর পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গোলাম মোস্তফার মতে, যুদ্ধ চলাকালে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হলেও ইরান বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। এতে দেশটির সামরিক নেতৃত্বের দক্ষতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রমাণ মিলেছে।
তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক রাজনীতিতে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব ক্রমেই দুর্বল হবে এবং রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তিগুলোর জন্য নতুন কৌশলগত সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্কের উন্নতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা নতুন বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মনে করেন সাবেক এই পাকিস্তানি জেনারেল।
তার মতে, ভবিষ্যতে ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠতে পারে, যা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে পশ্চিমা জোটের বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
What's Your Reaction?