ইসবগুল কি হজমে সত্যিই উপকারী?

হজমের সমস্যা হলেই বহু পরিবারে প্রথম যে উপাদানটির কথা মনে পড়ে, তা হলো ইসবগুল। বছরের পর বছর ধরে রান্নাঘরের এক কোণে থাকা এই সাদামাটা উপাদানটি মূলত প্রয়োজনের সময়ই ব্যবহার করা হতো। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে হজমের সমস্যা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অন্ত্রের ওপর বাড়তে থাকা চাপের কারণে ইসবগুল নতুন করে নজরে এসেছে। ইসবগুল কী? ইসবগুল Plantago ovata নামের একটি উদ্ভিদের বীজের খোসা। পরিপক্ব গাছ থেকে পাওয়া ছোট বীজ প্রক্রিয়াজাত করে বাইরের আবরণ আলাদা করা হয়।  এই আবরণই বাজারে ইসবগুল বা সাইলিয়াম হাস্ক নামে পরিচিত। বীজ খাওয়ার উপযোগী হলেও খোসাতেই সবচেয়ে বেশি দ্রবণীয় ফাইবার থাকায় সেটিই বেশি ব্যবহৃত হয়। দেখতে হালকা রঙের ও প্রায় স্বাদহীন ইসবগুল পানি বা দুধে মিশালে দ্রুত ফুলে উঠে জেলির মতো গঠন তৈরি করে। এই তরল শোষণ ক্ষমতাই হজমে সাহায্য করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ব্যবহার করলে ইসবগুল মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে, পাতলা বা শক্ত মল স্বাভাবিক করতে এবং কিছু ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল ও খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এই প্রভাবগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। 

ইসবগুল কি হজমে সত্যিই উপকারী?

হজমের সমস্যা হলেই বহু পরিবারে প্রথম যে উপাদানটির কথা মনে পড়ে, তা হলো ইসবগুল। বছরের পর বছর ধরে রান্নাঘরের এক কোণে থাকা এই সাদামাটা উপাদানটি মূলত প্রয়োজনের সময়ই ব্যবহার করা হতো। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে হজমের সমস্যা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অন্ত্রের ওপর বাড়তে থাকা চাপের কারণে ইসবগুল নতুন করে নজরে এসেছে।

ইসবগুল কী?

ইসবগুল Plantago ovata নামের একটি উদ্ভিদের বীজের খোসা। পরিপক্ব গাছ থেকে পাওয়া ছোট বীজ প্রক্রিয়াজাত করে বাইরের আবরণ আলাদা করা হয়।  এই আবরণই বাজারে ইসবগুল বা সাইলিয়াম হাস্ক নামে পরিচিত। বীজ খাওয়ার উপযোগী হলেও খোসাতেই সবচেয়ে বেশি দ্রবণীয় ফাইবার থাকায় সেটিই বেশি ব্যবহৃত হয়।

দেখতে হালকা রঙের ও প্রায় স্বাদহীন ইসবগুল পানি বা দুধে মিশালে দ্রুত ফুলে উঠে জেলির মতো গঠন তৈরি করে। এই তরল শোষণ ক্ষমতাই হজমে সাহায্য করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ব্যবহার করলে ইসবগুল মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে, পাতলা বা শক্ত মল স্বাভাবিক করতে এবং কিছু ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল ও খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এই প্রভাবগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। 

ইসবগুল যেভাবে খাওয়া হয়

অল্প ও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। অবশ্যই পর্যাপ্ত তরল যেমন পানি, দুধ বা দই সঙ্গে নিতে হবে। এটি শুকনো অবস্থায় খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এতে অস্বস্তি বা শ্বাসরোধের ঝুঁকি থাকতে পারে। পরিমানের বেশি নিলে উপকারের চেয়ে বরং ক্ষতিই হতে পারে বেশি। তবে এটি কোনো খাবারের বিকল্প নয়, বরং একটি ফাইবার সাপ্লিমেন্ট। স্বাদ খুব কম হওয়ায়, মেশানো খাবারের স্বাদ তেমন বদলায় না। 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত ইসবগুল খেলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। গিলতে সমস্যা আছে এমন ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট অন্ত্রের রোগে ভোগা মানুষদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। হজমজনিত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপায়ে ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সংরক্ষণ, মেয়াদ ও গুণগত মান

ইসবগুল বায়ুরোধী পাত্রে, আর্দ্রতা ও তাপ থেকে দূরে রাখতে হয়। আর্দ্রতায় এটি জমাট বাধতে পারে এবং এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। গন্ধ, গঠন বা রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে তা নষ্ট হতে পারে। সঠিক সংরক্ষণে দীর্ঘদিন এর শোষণক্ষমতা বজায় থাকে।

সব মিলিয়ে, ইসবগুল হজমে সহায়ক হতে পারে ঠিকই, তবে এটি চূড়ান্ত সমাধান নয়। সচেতনভাবে ব্যবহার ও সুষম খাদ্যাভ্যাসে অন্ত্র সুস্থ থাকতে পারে। 

হজমের সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপায়ে নির্ভর করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow