ইসরায়েলবিরোধী পোস্টে বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসা

2 days ago 13
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্দেশ দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রম কঠোরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। বিশেষ করে, ইসরায়েলবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী পোস্ট দেওয়া ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে নেওয়া হচ্ছে নতুন ব্যবস্থা। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।  প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৫ মার্চ বিশ্বের মার্কিন কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও নতুন নীতির নির্দেশনা দেন।  নির্দেশনার এর আওতায়, নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদন পাঠানো হচ্ছে প্রতারণা প্রতিরোধ ইউনিটের (এফপিইউ) কাছে। সেখানে আবেদনকারীদের অনলাইন কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বা ইহুদিবিরোধী মনোভাব পোষণ করে থাকেন, তাহলে তার ভিসার আবেদন বাতিল করা হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনপন্থী আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ রোধ করা। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক মনোভাব’ প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসার আবেদন বাতিল করা হতে পারে। ইতোমধ্যে নতুন নীতির আওতায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, আমরা তোমাদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছি, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য নয়। নতুন এ নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী (অ্যান্টি-সেমিটিজম) নীতির অংশ। এর ফলে বহু শিক্ষার্থীকে আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি তুরস্কের শিক্ষার্থী রুমাইসার আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি বোস্টনের টাফটস ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছিলেন। একদিন, ইফতারের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, তারা মার্কিন ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তা ছিলেন।  রুমাইসার ‘অপরাধ’ ছিল, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগাজিনে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন, যেখানে তিনি ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুদান প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান। এ ঘটনার পর ইসরায়েলপন্থী ‘ক্যানারি মিশন’ নামের ওয়েবসাইট রুমাইসাকে কালো তালিকাভুক্ত করে। ওই ওয়েবসাইট মূলত ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। নতুন এ নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তবে মার্কিন প্রশাসন বলছে, এটি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনের পক্ষে মতপ্রকাশের কারণে মার্কিন ভিসার পথে নতুন বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
Read Entire Article