ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে হাইকোর্টে তলব
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা চালুর বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করায় রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে হাইকোর্টে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আইনজীবী মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন বলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি ও রেজিস্ট্রার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরও উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা না দিয়ে আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছেন। আরও পড়ুনইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির দুর্নীতি তদন্তে কমিটি তিনি বলেন, ভুক্তভোগী উপ-রেজিস্ট্রারকে বিগত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার আখ্যা দিয়ে একটি বিতর্কিত তদন্ত রিপোর্টের
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা চালুর বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করায় রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে হাইকোর্টে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আইনজীবী মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন বলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি ও রেজিস্ট্রার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরও উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা না দিয়ে আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছেন।
আরও পড়ুন
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির দুর্নীতি তদন্তে কমিটি
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী উপ-রেজিস্ট্রারকে বিগত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার আখ্যা দিয়ে একটি বিতর্কিত তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশের আলোকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর চাকরির স্থায়ী নিয়োগ আদেশ বাতিল করে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল দেওয়া রায়ে তার চাকুরিচ্যুতির অফিস আদেশকে (নিয়োগ আদেশ বাতিল) অবৈধ ঘোষণা করে। পরে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট, উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে যোগদানপত্র দিয়ে চাকরিতে পুনর্বহাল করে দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে উপ-রেজিস্টার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখেন।
কিন্তু হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৮ মে রায়ে তার যোগদানের দিন থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদানের জন্য আদেশ দেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের সুনিদিষ্ট নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত’ শর্ত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করে একই আদেশে যোগদানপত্র বাতিল করলে হাইকোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বাতিল আদেশটিও অবৈধ ঘোষণা করে আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিত আদেশসহ নির্দেশনা জারি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থগিতকৃত আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে গত ৬ জানুয়ারি ‘নো অর্ডার’ দিয়ে আপিলটি খারিজ করে দেন।
জানা যায়, হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতা না দেওয়ায়, গত বছর ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. শামুল আলম এবং রেজিস্ট্রার আইয়ুব হোসেনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না সে বিষয়ে একটি রুল জারি করেন হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
সর্বশেষ শুনানিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা আদেশ অনুযায়ী উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়ন না করলে হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন ও আদালত অবমাননা হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করায় রেজিস্ট্রার মো. আয়ুব হোসেনকে আদেশ লঙ্ঘন ও আদালত অবমাননার দায়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে সশরীরে কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. শামুল আলম যোগদান করার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি তোয়াক্কা না করে ইউজিসির নিয়োগ নিষেধ থাকা সত্ত্বেও নিজের মনমতো ও মনগড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেন, ডিন অলী উল্লাহসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে লিয়েন বিনা বেতনে ছুটির মাধ্যমে কোনো প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ দেন। যার ফলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।
এফএইচ/ইএ
What's Your Reaction?