ইয়ামালের পর ১৬ বছর বয়সী আরেক বিস্ময়, নজর ইউরোপীয় জায়ান্টদের

লিওনেল মেসির পর লামিনে ইয়ামাল যেন নতুন করে বদলে দিয়েছেন ফুটবলে কিশোর প্রতিভার সংজ্ঞা। কিশোর বয়সেই বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠেছেন তিনি। ইয়ামালের উত্থানের পর এখন ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর আরও কম বয়সী প্রতিভাদের দিকে। ফ্রান্সে তেমনই এক সম্ভাবনাময় নাম ১৬ বছর বয়সী লাসিনে মেগনান-পাভে। ফ্রান্সের ক্লাব মন্তেপিয়ের এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ দেখিয়েছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপের তথ্য অনুযায়ী, মেগনান-পাভের দিকে নজর রয়েছে বার্সেলোনা, চেলসি ও আর্সেনালের। বিশেষ করে চেলসি তাকে দলে ভেড়াতে বেশ আগ্রহী বলে জানা গেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ১.৮৭ মিটার উচ্চতার এই স্ট্রাইকার মন্তেপিয়ের একাডেমিতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন। শারীরিক গড়নের কারণে তাকে প্রথম দেখায় শক্তিশালী সেন্টার ফরোয়ার্ড মনে হলেও, তার খেলায় রয়েছে আরও অনেক বৈচিত্র্য। গোলের সামনে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলা, বল ধরে রাখা এবং ডিফেন্ডারদের পেছনে জায়গা তৈরি করে সেখানে ছুটে যাওয়ার দক্ষতাও রয়েছে তার। মন্তেপিয়ের সঙ্গে মেগনান-পাভের সম্পর্ক অব

ইয়ামালের পর ১৬ বছর বয়সী আরেক বিস্ময়, নজর ইউরোপীয় জায়ান্টদের

লিওনেল মেসির পর লামিনে ইয়ামাল যেন নতুন করে বদলে দিয়েছেন ফুটবলে কিশোর প্রতিভার সংজ্ঞা। কিশোর বয়সেই বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠেছেন তিনি। ইয়ামালের উত্থানের পর এখন ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর আরও কম বয়সী প্রতিভাদের দিকে। ফ্রান্সে তেমনই এক সম্ভাবনাময় নাম ১৬ বছর বয়সী লাসিনে মেগনান-পাভে।

ফ্রান্সের ক্লাব মন্তেপিয়ের এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ দেখিয়েছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপের তথ্য অনুযায়ী, মেগনান-পাভের দিকে নজর রয়েছে বার্সেলোনা, চেলসি ও আর্সেনালের। বিশেষ করে চেলসি তাকে দলে ভেড়াতে বেশ আগ্রহী বলে জানা গেছে।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ১.৮৭ মিটার উচ্চতার এই স্ট্রাইকার মন্তেপিয়ের একাডেমিতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন। শারীরিক গড়নের কারণে তাকে প্রথম দেখায় শক্তিশালী সেন্টার ফরোয়ার্ড মনে হলেও, তার খেলায় রয়েছে আরও অনেক বৈচিত্র্য। গোলের সামনে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলা, বল ধরে রাখা এবং ডিফেন্ডারদের পেছনে জায়গা তৈরি করে সেখানে ছুটে যাওয়ার দক্ষতাও রয়েছে তার।

মন্তেপিয়ের সঙ্গে মেগনান-পাভের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালের ৭ মার্চ মন্তেপিয়ে শহরে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার মাত্র সাত বছর বয়সে ক্লাবটির একাডেমিতে যোগ দেন। এরপর থেকে প্রায় পুরো ফুটবলীয় বেড়ে ওঠাই মন্তেপিয়ের বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে। বয়সের তুলনায় দ্রুত উন্নতি করায় তাকে নিয়মিতই বড় বয়সের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলানো হয়েছে।

এরপর আসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মাত্র ১৫ বছর বয়সে গত ২ ফেব্রুয়ারি মন্তেপিয়ের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি করেন মেগনান-পাভে। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। ক্লাবটির সভাপতি লরাঁ নিকোলাঁ জানান, মন্তেপিয়ের ইতিহাসে এত কম বয়সে আর কোনো খেলোয়াড় পেশাদার চুক্তিতে সই করেননি।

অর্থাৎ পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের আগেই ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন এই কিশোর। তবে মেগনান-পাভেকে নিয়ে মন্তেপিয়ের উদ্বেগের কারণ শুধু তার বয়স নয়, ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহও। লেকিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্সেনাল, বার্সেলোনা ও চেলসির নজর থাকায় নিজেদের একাডেমির এই প্রতিভাকে ধরে রাখা মন্তেপিয়ের জন্য সহজ হবে না।

ইতিমধ্যেই বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের কিছুটা দেখিয়েছেন মেগনান-পাভে। ২০২৬ সালের কুপ দে গামবার্দেলা প্রতিযোগিতায় মন্তেপিয়েকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো আসরে তিনটি গোল করেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। ভিশি, পঁতর্দিয়ের ও নিসের বিপক্ষে গোল করে দলের জয়ে অবদান রাখেন।

শেষ পর্যন্ত ফাইনালে অবশ্য স্বপ্নভঙ্গ হয় মন্তেপিয়ের। স্টেডে দ্য প্রিন্সেসে নাটকীয় ম্যাচে পিএসজির কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায় তারা। তবে পুরো প্রতিযোগিতায় মেগনান-পাভের পারফরম্যান্স নজর কাড়ে।

শুধু ক্লাব পর্যায়েই নয়, ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়কত্বও করেছেন এই তরুণ। নিজের প্রজন্মে তাকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, সেটিরও বড় প্রমাণ এটি।

তবে এত অল্প বয়সে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ পেলেও মেগনান-পাভে এখনই আকাশে উড়তে চায় না। প্রথম পেশাদার চুক্তিতে সই করার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এটিকে শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু একই সঙ্গে জানিয়েছিলেন, এটি কেবল শুরু।

এখানেই লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে তুলনাটা চলে আসে। ইয়ামাল মাত্র কিশোর বয়সেই বার্সেলোনার মূল দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। এরপর স্পেনের হয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবল এবং বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের ছাপ রেখে এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণদের একজন।

মেগনান-পাভে অবশ্য এখনো ইয়ামালের পর্যায়ের ধারেকাছেও পৌঁছাননি। দুজনের পজিশন ও খেলার ধরনও আলাদা। একজন উইঙ্গার, অন্যজন মূলত সেন্টার ফরোয়ার্ড। ফলে ইয়ামালের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করাও এখনই ঠিক হবে না।

তবে বয়স মাত্র ১৬, এরই মধ্যে পেশাদার চুক্তি, ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে নেতৃত্ব এবং চেলসি, আর্সেনাল ও বার্সেলোনার মতো ক্লাবের নজর- সব মিলিয়ে মেগনান-পাভের সামনে যে সম্ভাবনার দরজা খুলে গেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ইয়ামাল দেখিয়েছেন, কিশোর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা সম্ভব। এবার মেগনান-পাভের সামনে চ্যালেঞ্জ- প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিভা থেকে সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠা। সময়ই বলে দেবে, ইউরোপের ফুটবলে এই ১৬ বছরের ফরাসি তরুণের নাম কতটা বড় হয়ে ওঠে।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow