ঈদ ঘিরে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না ভৈরবের লক্ষাধিক জুতার কারিগর

ঈদ উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জুতা শিল্পের অন্যতম হাব কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ততই বাড়ছে কর্মব্যস্ততা। ৩ হাজারেরও বেশি কারখানায় এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন প্রায় লক্ষাধিক কারিগর। আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় এখানে উৎপাদিত বিশ্বমানের জুতা দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশের বাজারেও জায়গা করে নিচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাইকারি বাজারে বেচাকেনার ধুম লাগায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভৈরবে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩ হাজারেরও বেশি জুতার কারখানা রয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে লক্ষাধিক শ্রমিকের। একসময় সনাতন পদ্ধতিতে জুতো তৈরি হলেও এখন লেগেছে আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়া। বর্তমানে এখানে অন্তত ৩০টি নামী ব্র্যান্ডের পাদুকা উৎপাদিত হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব জুতা এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। জামালপুর সরিষাবাড়ি থেকে ভৈরবের উৎপাদিত পাদুকা কিনতে আসছেন বাবু ইসলাম। তিনি বলেন, ভৈরবের উৎপাদিত জুতা টেকসই ও গুনগত মান ভালো থাকায় আমরা প্রতিবছরই ঈদ মৌসুমে খুচরা দোকানে বিক্রির জন্য বিভিন্ন ধরণের জুতা কিনে নিয়ে য

ঈদ ঘিরে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না ভৈরবের লক্ষাধিক জুতার কারিগর

ঈদ উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জুতা শিল্পের অন্যতম হাব কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ততই বাড়ছে কর্মব্যস্ততা। ৩ হাজারেরও বেশি কারখানায় এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন প্রায় লক্ষাধিক কারিগর। আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় এখানে উৎপাদিত বিশ্বমানের জুতা দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশের বাজারেও জায়গা করে নিচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাইকারি বাজারে বেচাকেনার ধুম লাগায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভৈরবে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩ হাজারেরও বেশি জুতার কারখানা রয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে লক্ষাধিক শ্রমিকের। একসময় সনাতন পদ্ধতিতে জুতো তৈরি হলেও এখন লেগেছে আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়া। বর্তমানে এখানে অন্তত ৩০টি নামী ব্র্যান্ডের পাদুকা উৎপাদিত হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব জুতা এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

ঈদ ঘিরে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না ভৈরবের লক্ষাধিক জুতার কারিগর

জামালপুর সরিষাবাড়ি থেকে ভৈরবের উৎপাদিত পাদুকা কিনতে আসছেন বাবু ইসলাম। তিনি বলেন, ভৈরবের উৎপাদিত জুতা টেকসই ও গুনগত মান ভালো থাকায় আমরা প্রতিবছরই ঈদ মৌসুমে খুচরা দোকানে বিক্রির জন্য বিভিন্ন ধরণের জুতা কিনে নিয়ে যায়। আজকে ৭-৮ লাখ টাকার বিভিন্ন মডেলের জুতা কিনেছি। ঈদের তো আরও বেশ কদিন বাকী সেজন্যই আবারও জুতা কিনতে আসতে হবে।

নোয়াখালী এলাকা থেকে জুতা কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী আনার মোল্লা। তিনি বলেন, ভৈরবের কারখানার জুতা দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় আমরা পাইকারি কিনে আমাদের দোকানে বিক্রি করে লাভবান হতে পারি।

ভৈরব হাজী মার্কেটের পহেলা সুজ মালিক নবী হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার জুতা সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, নোয়াখালীসহ সারাদেশ থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বাহারি ডিজাইনের জুতা কিনতে আসেন। এই বছর আমাদের মার্কেটে পর্যাপ্ত জুতা রয়েছে। আমাদের দোকানে বেচাকেনা বেশ ভালো হয়েছে৷

ঈদ ঘিরে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না ভৈরবের লক্ষাধিক জুতার কারিগর

তাহমিনা স্যান্ডেল ফ্যাক্টরির মালিক মো. মিয়ার উদ্দিন বলেন, আমরা সাধারণ দেশের নামি-দামি ব্যান্ড কোম্পানিতে পাদুকা সরবরাহ করে থাকি। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে পাদুকা ব্যবসায়ীরা বাড়তি লাভের আশায় থাকি। বাজারে পাদুকা বেচাকেনা স্বাভাবিক রয়েছে। তাই এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় আশানুরূপ লাভ হয়েছেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে ভৈরব পাদুকা কারখানা মালিক সমিতির সভাপতি মো. আল আমিন বলেন, ভৈরবের উৎপাদিত দেশীয় এই জুতা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সরকারের নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সরকার যদি জুতা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করেন তাহলে এই শিল্পটি এগিয়ে যাবে আরও বহুদূর।

রাজীবুল হাসান/কেএইচকে/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow