ঈদ যাত্রায় গাড়ি-বাইক চালালে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গেই শুরু হয়েছে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা। কেউ ছুটছেন ব্যক্তিগত গাড়িতে, কেউ মোটরবাইকে। পরিবার নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় তাড়াহুড়া, ক্লান্তি কিংবা অসচেতনতার কারণে ঘটে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে একটু ভুল সিদ্ধান্তও হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ যাত্রায় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত গতি, ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা এবং যানবাহনের ত্রুটি। তাই নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে হলে যাত্রার আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। যাত্রার আগে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করুন দীর্ঘ পথে বের হওয়ার আগে গাড়ি বা বাইকের অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে- ব্রেক ঠিকভাবে কাজ করছে কি না টায়ারে পর্যাপ্ত বাতাস আছে কি না হেডলাইট, ব্রেক লাইট ও ইন্ডিকেটর সচল কি না ইঞ্জিন অয়েল ও কুল্যান্ট পর্যাপ্ত আছে কি না বাইকের চেইন বা গাড়ির ব্যাটারিতে সমস্যা আছে কি না অনেকেই ছোটখাটো সমস্যা এড়িয়ে যান। কিন্তু মহাসড়কে সেটিই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত গতিই সবচেয়ে
ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গেই শুরু হয়েছে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা। কেউ ছুটছেন ব্যক্তিগত গাড়িতে, কেউ মোটরবাইকে। পরিবার নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় তাড়াহুড়া, ক্লান্তি কিংবা অসচেতনতার কারণে ঘটে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে একটু ভুল সিদ্ধান্তও হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ যাত্রায় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত গতি, ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা এবং যানবাহনের ত্রুটি। তাই নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে হলে যাত্রার আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
যাত্রার আগে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করুন
দীর্ঘ পথে বের হওয়ার আগে গাড়ি বা বাইকের অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে-
- ব্রেক ঠিকভাবে কাজ করছে কি না
- টায়ারে পর্যাপ্ত বাতাস আছে কি না
- হেডলাইট, ব্রেক লাইট ও ইন্ডিকেটর সচল কি না
- ইঞ্জিন অয়েল ও কুল্যান্ট পর্যাপ্ত আছে কি না
- বাইকের চেইন বা গাড়ির ব্যাটারিতে সমস্যা আছে কি না
অনেকেই ছোটখাটো সমস্যা এড়িয়ে যান। কিন্তু মহাসড়কে সেটিই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
অতিরিক্ত গতিই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
ঈদে দ্রুত বাড়ি পৌঁছানোর তাড়ায় অনেকে গতিসীমা অমান্য করেন। বিশেষ করে ফাঁকা রাস্তা পেলেই গাড়ি বা বাইকের গতি বাড়িয়ে দেন। অথচ সামান্য অসাবধানতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মনে রাখবেন, কয়েক মিনিট আগে পৌঁছানোর চেয়ে নিরাপদে পৌঁছানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লান্ত বা ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না
দীর্ঘ সময় ড্রাইভ করলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে মনোযোগ কমে যায় এবং চোখে ঘুম চলে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো উচিত নয়। মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। যদি চোখে ঘুম আসে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামান, মুখে পানি দিন। চা বা কফি পান করুন। প্রয়োজনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।
মোটরবাইকে অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করুন
অনেক বাইকার ছোট দূরত্ব ভেবে হেলমেট ব্যবহার করেন না। কেউ আবার শুধু চালক হেলমেট পরেন, পেছনের যাত্রীকে দেন না। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানসম্মত হেলমেট দুর্ঘটনায় মাথার মারাত্মক আঘাতের ঝুঁকি অনেক কমায়। এছাড়া-
- জ্যাকেট ও গ্লাভস ব্যবহার করুন
- অতিরিক্ত গতিতে ওভারটেক করবেন না
- ভেজা রাস্তায় বাড়তি সতর্ক থাকুন
- মোবাইল ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলা বা মেসেজ দেখা এখন বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সেকেন্ডের জন্য মনোযোগ সরলেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রয়োজনে গাড়ি থামিয়ে কথা বলুন। আর নেভিগেশন ব্যবহার করলে আগে থেকেই সেট করে নিন।
শিশু ও বয়স্কদের দিকে বাড়তি নজর দিন
পরিবার নিয়ে যাত্রা করলে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের গাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা বা কোলে বসিয়ে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ যাত্রায় তাদের জন্য পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন।
আবহাওয়া ও রাস্তার পরিস্থিতি জেনে বের হন
বর্ষা বা ঝড়ো আবহাওয়ায় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতাও থাকতে পারে। তাই যাত্রার আগে আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া ভালো। রাতে ড্রাইভ করলে হাই বিমের ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন
ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ইন্স্যুরেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। এতে পথে ঝামেলা এড়ানো যাবে।
যাত্রাপথে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা
ঈদের সময় রাস্তায় যানজট ও চাপ বেশি থাকবেই। তাই উত্তেজিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক বা উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন। একটু ধৈর্যই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে নিরাপদ রাখতে পারে।
ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সবাই নিরাপদে আপনজনের কাছে পৌঁছাতে পারেন। তাই তাড়াহুড়া নয়, সচেতনতা আর দায়িত্বশীল ড্রাইভিং হোক এবারের ঈদ যাত্রার মূল মন্ত্র।
কেএসকে
What's Your Reaction?