খুলনার বাজারে কমেছে মাছ-মাংস-সবজির দাম। গত সপ্তাহে মাছ এবং মাংসের দাম বাড়লেও এখন তা অনেকটা কম। তবে ঈদের ছুটি হওয়ায় বাজারে ক্রেতা কম থাকায় বিক্রিও কম।
শনিবার (৫ এপ্রিল) খুলনার খালিশপুর, শিরোমনি, গল্লামারি এবং নিউ মার্কেট বাজার ঘুরে এমনটা দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে জানা যায়, বাজারে শাক-সবজির দাম ঈদের আগের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা কমেছে। তবে লেবু ও শসা আগের দামে রয়েছে। ঈদের আগে মুরগির মাংসের দাম কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেলেও তা কমেছে। ৭৫০ টাকার গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও তা এখন কমেছে।
শিরোমনি বাজারের সবজি ব্যবসায়ী হামিদ মোল্যা বলেন, লাউ ৩০ টাকা পিস, করলা ৮০ টাকা কেজি, লালশাক ২০ টাকা কেজি, কচুরলতি ৬০ টাকা কেজি, বরবটি ৬০ টাকা কেজি, শসা ৮০ টাকা কেজি ও লেবু প্রতি পিস ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, সবজির দাম অনেক কম থাকলেও আজ একদম বিক্রি হচ্ছে না। ঈদের ছুটি শেষ না হলে বাজারে ক্রেতা সমাগম ঘটবে না। ঈদে যারা বাড়ি যাননি তারা বাজার করতে এসেছেন।
গল্লামারি বাজারের মাছ বিক্রেতা সবুর হাসান বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে বাজারে খদ্দের নাই। তাই হাতেগোনা কয়েক পদের মাছ নিয়ে এসেছি। বিক্রি না হলে নষ্ট হবে। তিনি চিংড়ি মাছ ৫০০ টাকা কেজি, দেশি তেলাপিয়া ১২০ টাকা কেজি এবং নদীর আমাদি চ্যালা মাছ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন বলে জানান।
নিউ মার্কেট বাজারের মুরগি বিক্রেতা খায়রুল ইসলাম বলেন, ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকা ও কক ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা কম থাকায় বিক্রিও কম হচ্ছে। তবে ঈদের এই সময় বড় রেস্তোরাঁগুলো খোলা থাকায় ব্রয়লার মুরগি বিক্রি মোটামুটি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ক্রেতা ফরহাদ হোসেন বলেন, রোববার থেকে অফিস শুরু হবে। এজন্য শুক্রবার বিকেলে পরিবার নিয়ে খুলনায় চলে এসেছি। আজ শাক-সবজি কিনতে বাজারে এসেছি। কিছু জিনিসের দাম কম থাকলেও অনেক সবজির দাম কমেনি। লেবুর হালি ৪০ টাকা আর শসা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খালিশপুর বাজারে আসা সনিয়া তান্নি বলেন, ঈদের ছুটিতে এবার গ্রামে যাওয়া হয়নি। তাই রোজকারের মতো টুকটাক বাজার করতে হচ্ছে। গত মাস ধরে সবজির দাম কম থাকলেও মাংস ব্যবসায়ীরা ঈদের সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়েছে। ৭৫০ টাকার গরুর মাংস ৮০০ টাকায় আর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত বেশি রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
মো.আরিফুর রহমান/এফএ/এমএস