ঈদকে ঘিরে লেকপাড়ে জমে উঠেছে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট

ঈদকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে মাদারীপুর শহরের শকুনি লেকপাড়ে গড়ে উঠা চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলো। জানা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই শকুনি লেক। ২০১৫ সালে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এর সৌন্দর্য্য বর্ধণ করে মাদারীপুর পৌরসভা। কয়েক বছর আগেও হাতে গোনা কয়েকটি রেস্টুরেন্ট থাকলেও বর্তমানে ১৫টির বেশি রয়েছে। যত দিন যাচ্ছে লেকেরপাড়ের ফাঁকা জায়গায় নানা নামে গড়ে উঠছে রেস্টুরেন্ট। লেকের সৌন্দর্য্য উপভোগের পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করছেন দর্শনার্থীরা। এসব রেস্টুরেন্টগুলোতে শুধু চাইনিজ খাবারই নয়, পাওয়া যাচ্ছে ইন্ডিয়ান, বাংলা, থাইসহ বিভিন্ন রকমের খাবার। ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ, বসন্ত উৎসবসহ বিশেষ দিনে এসব রেস্টুরেন্টে মানুষের ঢল নামে। অনেক সময় দেখা যায়- বরিশাল, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ লেকপাড়ে ঘুরতে এসে প্রিয়জনকে নিয়ে পছন্দের খাবার খাচ্ছেন। প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে রেস্টুরেন্টের মান ভেদে এক থেকে দুই লাখ টাকা আয় করেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও দুই শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়েছে। পটুয়াখালি থেকে বাবার বাড়িতে আসা ফারজানা ইমু বলেন, শকুনি লেক অনেক সুন্দর। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি এখানে জড়িয়ে আ

ঈদকে ঘিরে লেকপাড়ে জমে উঠেছে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট

ঈদকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে মাদারীপুর শহরের শকুনি লেকপাড়ে গড়ে উঠা চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলো।

জানা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই শকুনি লেক। ২০১৫ সালে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এর সৌন্দর্য্য বর্ধণ করে মাদারীপুর পৌরসভা। কয়েক বছর আগেও হাতে গোনা কয়েকটি রেস্টুরেন্ট থাকলেও বর্তমানে ১৫টির বেশি রয়েছে। যত দিন যাচ্ছে লেকেরপাড়ের ফাঁকা জায়গায় নানা নামে গড়ে উঠছে রেস্টুরেন্ট। লেকের সৌন্দর্য্য উপভোগের পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করছেন দর্শনার্থীরা।

এসব রেস্টুরেন্টগুলোতে শুধু চাইনিজ খাবারই নয়, পাওয়া যাচ্ছে ইন্ডিয়ান, বাংলা, থাইসহ বিভিন্ন রকমের খাবার। ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ, বসন্ত উৎসবসহ বিশেষ দিনে এসব রেস্টুরেন্টে মানুষের ঢল নামে। অনেক সময় দেখা যায়- বরিশাল, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ লেকপাড়ে ঘুরতে এসে প্রিয়জনকে নিয়ে পছন্দের খাবার খাচ্ছেন। প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে রেস্টুরেন্টের মান ভেদে এক থেকে দুই লাখ টাকা আয় করেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও দুই শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়েছে।

ঈদকে ঘিরে লেকপাড়ে জমে উঠেছে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট

পটুয়াখালি থেকে বাবার বাড়িতে আসা ফারজানা ইমু বলেন, শকুনি লেক অনেক সুন্দর। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি এখানে জড়িয়ে আছে। এ লেককে ঘিরে কয়েক বছর ধরে অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। রেস্টুরেন্টগুলোর ডেকোরেশনও মনমুগ্ধকর এবং পরিবেশও ভালো। তাই ঈদে বাবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যাই। এখানকার খাবারের মানও বেশ ভালো।

ঢাকা থেকে আগত ফাতেমা আক্তার বলেন, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় থাকি। ঈদের সময় মাদারীপুরে আসলে পরিবারকে নিয়ে লেকে ঘোরার পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে খাওয়া হয়।

লবঙ্গ চাইনিজ রেন্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী শরিফুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী খাবারের মান ও সেবা বাড়ানো হয়েছে। মাদারীপুর ছাড়াও অন্যান্য জেলা থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থী আসে। ঈদের সময় লেকপাড়ের রেস্টুরেন্টগুলোতে ভিড় বাড়ে।

ডেলিসিয়াস চাইনিজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মনজুর হোসেন বলেন, শহরের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা হলো শকুনি লেক। তাই সব শ্রেণীর মানুষ লেকপাড়ে ঘুরতে আসেন এবং রেস্টুরেন্টগুলোতে খাওয়া-দাওয়া করেন।

ঈদকে ঘিরে লেকপাড়ে জমে উঠেছে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট

এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ি জানান, শুধুমাত্র ঈদের দিন দেড় লাখ টাকার খাবার বিক্রি হয়েছে। ঈদ পরবর্তী দিনগুলোতে এক থেকে দুই লাখ টাকার বিক্রি হয়। মাদারীপুরের মানুষজন বেশি ইতালি থাকেন। তাই এ ব্যবসা এখানে লাভজনক।

মাদারীপুরের উন্নয়ন সংস্থা দেশগ্রামের নির্বাহী পরিচালক এবিএম বজলুর রহমান খান বলেন, মাদারীপুরে হঠাৎ করে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা জামজমাট হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর আগেও ছোট্ট মফস্বল শহরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা এভাবে জমে উঠবে তা কেউ ভাবেনি।

মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক মোছা. জেসমিন আকতার বানু বলেন, লেকের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট মালিক-শ্রমিক ও দর্শণার্থীরা যাতে কোন ময়লা-আবর্জনা লেকে না ফেলে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। লেকের মাধ্যমে জেলার পরিচিতি বাড়ছে। এছাড়া লেকের রেস্টুরেন্টে ঘিরে অনেক মানুষের কর্মকসংস্থানও হয়েছে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow