ঈদযাত্রায় গাইবান্ধার মহাসড়কে এক দিনে দুই দুর্ঘটনা, আহত ২০
গাইবান্ধার ৩২ কিলোমিটার মহাসড়কে একদিনে দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রী, চালক ও পথচারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। পৃথক এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশু ও নারীসহ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে গোবিন্দগঞ্জের দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মাসুদ রানা। রাত ৩টার দিকে উপজেলার কাটাখালী ব্রিজ এলাকায় দুটি বাস ও মাইক্রবাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী ব্রিজ এলাকায় প্রথমে রংপুরগামী একটি মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস। পরে দুর্ঘটনার কবলে পড়া মাইক্রোবাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকামুখী একটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা চালক, গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা ও দমকলবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাৎক্ষণ
গাইবান্ধার ৩২ কিলোমিটার মহাসড়কে একদিনে দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রী, চালক ও পথচারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। পৃথক এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশু ও নারীসহ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকালে গোবিন্দগঞ্জের দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মাসুদ রানা। রাত ৩টার দিকে উপজেলার কাটাখালী ব্রিজ এলাকায় দুটি বাস ও মাইক্রবাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।
ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী ব্রিজ এলাকায় প্রথমে রংপুরগামী একটি মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস। পরে দুর্ঘটনার কবলে পড়া মাইক্রোবাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকামুখী একটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা চালক, গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা ও দমকলবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গুরতর আহতরা হলেন- রংপুরের শিশু শাওন (১০) এবং নিলফামরীর মুরসালিন (২৩) ও মনি (৩৫)। তারা মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। ঈদে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।
গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মাসুদ রানা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাইক্রোবাসের সামনের অংশে আটকে থাকা চালক ও এক যাত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। মাইক্রোবাসে আটকে থাকা আরও ৮/৯ জন যাত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে একই চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, রাতের দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১১ থেকে ১২ জনের মতো আহত রোগী আমাদের এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশু শাওন (১০), নারী মনি (৩৫) ও মুরসালিননের (২৩) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তিনজনকে রংপুর মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। আশঙ্কাজনক তিনজনের মধ্যে শিশু মুরসালিনের অবস্থা চরম সংকটাপন্ন।
এদিকে গতকাল দুপুরে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের দোকানঘর এলাকায় যাত্রীবাহীবাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে বাস খাদে পড়ে চালকসহ আটজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাস যাত্রী সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী ফারদিন পরিবহনের একটি বাস ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে গাইবান্ধা যাচ্ছিল। পথে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের দোকানঘর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে হয়। এতে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায় এবং বাসের চালকসহ ৮ যাত্রী আহত হন। পরে তাদের মধ্যে চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে রংপুরে পাঠানো হয়।
পলাশবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল জানান, খবর পেয়ে দ্রুত চালকসহ আহত বাস যাত্রীদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বাসচালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে ঘরেফেরা মানুষ, যাত্রীবাহী, ট্রাক, পিকআপ, বাসপণ্যবাহী যানবাহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়ছে মহাসড়কে। এসব গাড়িবহর আধিক্য থাকবে ঈদ পরবর্তী অন্তত এক সপ্তাহ পর্যন্ত।
স্থানীয় সচেতন মহল ও চালক-যাত্রীরা বলছেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে হলে হাইওয়েতে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। বিশেষ করে দূরপাল্লার চালকদের বিশ্রাম নিশ্চিত করা, গোবিন্দগঞ্জের প্রবেশমুখে থামিয়ে সতর্ক করা এবং গতিনিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে লেন মেনে চলাচল না করা এবং হঠাৎ থামা-চলাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, আনসার, র্যাব ও রংপুর রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) সদস্যরা মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়ে পুলিশ। জেলায় পুলিশের ২৮৩ জন সদস্য, আনসারের ৪২ জন এবং আরআরএফের ৪৫ জন সদস্য ও র্যাব দায়িত্ব পালন করছেন।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের ৫৩ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছে। গার্মেন্টস ছুটি হওয়ায় যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়ছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছি।
জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের কমান্ড্যান্ট আবু সোলায়মান বলেন, ঈদে প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী জেলার তিনটি উপজেলা ৪২ জন সদস্য কাজ করছে। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে ৩০ জন, পলাশবাড়িতে ৮ জন এবং সদরে ৪ জন কাজ করছে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, জননিরাপত্তাসহ ঘরমুখো মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশের বিপুল সংখ্যাক ২৮৩ জন সদস্য কাজ করছে। একই সঙ্গে ঈদ যাত্রাকে গুরুত্ব দিয়ে রংপুর রিজার্ভ ফোর্স থেকে ৪৫ জন সদস্যকে আনা হয়েছে। এছাড়া আনসার ও র্যাব সদস্যরাও কাজ করছে। এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটনি।
What's Your Reaction?