ঈদের আগে চোখ রাঙাচ্ছে মসলার বাজার

খুলনায় ঈদুল আজহাকে সামনে চোখ রাঙাচ্ছে মসলার বাজার। পাইকারি বাজার ছাড়াও অনেক ব্যবসায়ী খুচরা পর্যায়েও মসলার দাম বৃদ্ধি করেছেন। রোববার (২৪ মে) খুলনার পাইকারি বড় বাজার এবং খুচরা বাজারের মধ্যে নিউ মার্কেট, নতুন বাজার ও বয়রা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জানা গেছে. কোরবানিতে অতি প্রয়োজনীয় মসলা এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ ও জিরার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে মানভেদে ৫ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যা গত দুই সপ্তাহ আগেও ৪ হাজার ৩০০-৪ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০০-৫৫০ টাকা, গোলমরিচ ১১০০-১২০০ টাকা ও লবঙ্গ ১ হাজার ৩৫০-১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরা কেজিপ্রতি ৬০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত আর কাজু বাদাম ১৩০০-১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি মসলার ক্ষেত্রে এলসি খোলার জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের কারণে দেশের বাজারে মসলার দাম বেড়েছে। খুলনার বাজারে সরাসরি কোনো আমদানিকারক নেই। আমরা খাতুনগঞ্জ থেকে মস

ঈদের আগে চোখ রাঙাচ্ছে মসলার বাজার

খুলনায় ঈদুল আজহাকে সামনে চোখ রাঙাচ্ছে মসলার বাজার। পাইকারি বাজার ছাড়াও অনেক ব্যবসায়ী খুচরা পর্যায়েও মসলার দাম বৃদ্ধি করেছেন। রোববার (২৪ মে) খুলনার পাইকারি বড় বাজার এবং খুচরা বাজারের মধ্যে নিউ মার্কেট, নতুন বাজার ও বয়রা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে. কোরবানিতে অতি প্রয়োজনীয় মসলা এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ ও জিরার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে মানভেদে ৫ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যা গত দুই সপ্তাহ আগেও ৪ হাজার ৩০০-৪ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০০-৫৫০ টাকা, গোলমরিচ ১১০০-১২০০ টাকা ও লবঙ্গ ১ হাজার ৩৫০-১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরা কেজিপ্রতি ৬০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত আর কাজু বাদাম ১৩০০-১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি মসলার ক্ষেত্রে এলসি খোলার জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের কারণে দেশের বাজারে মসলার দাম বেড়েছে। খুলনার বাজারে সরাসরি কোনো আমদানিকারক নেই। আমরা খাতুনগঞ্জ থেকে মসলা নিয়ে আসি। পাইকারি বাজারে সীমিত লাভে বিক্রি করা হয়।

খুলনা বড় বাজারে পাইকারি বিক্রেতা ছাব্বির শেখ বলেন, রমজানের ঈদের সময় এলাচের দাম ছিল প্রতি কেজি ৪ হাজার ৪০০-৪ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ভালো মানের এলাচ ৬০০-৭০০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার-৫হাজার ২০০ টাকায়। এর থেকেও বেশি দামের এলাচ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দ্বিতীয় পর্যায়ের বিক্রেতা। তৃতীয় পর্যায়ের বিক্রেতারা খুচরা বিক্রি করেন। তবে সব মসলায় ৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত চলতি সপ্তাহে বেড়েছ। ঢাকায় আমদানিকারকরা দাম বৃদ্ধি করেছে বলে এই সমস্যা হচ্ছে।

নিউ মার্কেট বাজারের মুদিমনোহারি বিক্রেতা বলেন, এলাচ, দারুচিনি, জিরা, লবঙ্গ ও শুকনা মরিচের বিক্রি বেড়েছে। পরিমাণে বিক্রি এখন বেশি হচ্ছে। ঈদ চলে গেলে আবার বিক্রিও কমে যাবে। খুচরা এলাচ ১০০ গ্রাম ৫০০-৫২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করি। জিরা আস্তো ভালো মানেরটা ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এজন্য খুচরা বাজারে দাম একটু বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্য একজন খুচরা বিক্রেতা সলিমুল হক বলেন, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বাজার থেকে খুলনার বাজারে চাহিদা মতো সব ধরনের মসলা আনা হয়েছে। কিন্তু আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের কারণে সব ধরনের মসলার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার স্বাভাবিক হলে সব ধরনের মসলার দাম আবার কমেবে।

নিউ মার্কেটে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, মসলার এত দাম যে কেজি কেজি ধরে তো আর ক্রয় করা যায় না। প্রয়োজন মতো কিনতে হয়। তাতেও অনেক দাম। দুই মাসের ব্যবধানে সব মসলার দাম কেজিতে হিসাব করলে ১০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এলাচির দাম কেজিতে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সুযোগ বুঝে ব্যবসায়িরা যুদ্ধের অজুহাত দিয়ে মসলার দাম বাড়িয়েছে। বাজার মনিটরিং দুই বেলা করলে ব্যবসায়ীরা একটু ঠিক হবে। এছাড়া মসলার দামের গরমে ঘামতে হবে আমাদের।

বড় বাজারে আসা অন্য একজন ক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে। অনেকদিন বেশি করে মসলা ক্রয় করা হয় না। এজন্য পাইকারি বাজারে এসেছি। যাতে দাম একটু কমে পাওয়া যায়। কিন্তু খুচরা আর পাইকারি বাজারের যা ব্যবধান, তাতে মসলা কিনে লাভ হবে না। অনেক ব্যবসায়ীরা যুদ্ধের অজুহাতে মসলার দাম বেড়েছে। এগুলো একটু মনিটরিং করা প্রয়োজন। তাহলে দাম কিছুটা হলেও কমবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা সহকারী পরিচালক মো. ওয়ালিদ বিন হাবিব জাগো নিউজকে বলেন, গত ককেয়কদিন ধরে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করে একটা জিনিস দেখা গেছে যে, এখানে পাইকারি বাজারের থেকে খুচরা বাজারে দাম একটু বেশি।

তিনি আরও বলেন, মসলার ৯০ ভাগ আমদানি করা হয়। কিন্তু খুলনায় সরাসরি আমদানিকারক নেই। খুলনায় মসলার ৯০ ভাগই আসে খাতুনগঞ্জ থেকে। তবে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কারণ ছাড়া মসলার দাম বৃদ্ধি করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরিফুর রহমান/এনএইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow