ঈদের ছুটিতে চোরের নজরে ফাঁকা বাসা
ঈদুল আজহা ঘিরে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা একপাশে রেখে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। এসময়ে ঢাকার রাস্তাঘাটে যেমন যানজট কম থাকে আবার বাসাবাড়িও থাকে সুনসান। ফাঁকা ঢাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঈদের ছুটির সময় বাড়ে চোরচক্রের দৌরাত্ম্য। এসময়ে অনেকেই যখন গ্রামে যান তখন ফাঁকা বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনাও ঘটে অহরহ। ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরে সেই ভুক্তভোগীদের গ্রামে ফেরার আনন্দটাই যেন ম্লান হয়ে যায়। মূলত, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানী ফাঁকা হতে শুরু করলেই বাড়তে থাকে অদৃশ্য এ আতঙ্ক—ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তা। পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে ছুটে যাওয়া মানুষদের মনে থাকে একটাই প্রশ্ন—বাসাটা কি নিরাপদ থাকবে, ফিরে এসে কি বাসাটা অক্ষত পাবো? প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ছুটি ঘিরে রাজধানীজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। র্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান ও নজরদারিতে ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো। ফাঁকা বাসাবাড়ি কেন্দ্র করে যেন চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে,
ঈদুল আজহা ঘিরে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা একপাশে রেখে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। এসময়ে ঢাকার রাস্তাঘাটে যেমন যানজট কম থাকে আবার বাসাবাড়িও থাকে সুনসান।
ফাঁকা ঢাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঈদের ছুটির সময় বাড়ে চোরচক্রের দৌরাত্ম্য। এসময়ে অনেকেই যখন গ্রামে যান তখন ফাঁকা বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনাও ঘটে অহরহ। ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরে সেই ভুক্তভোগীদের গ্রামে ফেরার আনন্দটাই যেন ম্লান হয়ে যায়।
মূলত, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানী ফাঁকা হতে শুরু করলেই বাড়তে থাকে অদৃশ্য এ আতঙ্ক—ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তা। পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে ছুটে যাওয়া মানুষদের মনে থাকে একটাই প্রশ্ন—বাসাটা কি নিরাপদ থাকবে, ফিরে এসে কি বাসাটা অক্ষত পাবো?
প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ছুটি ঘিরে রাজধানীজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। র্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান ও নজরদারিতে ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো।
ফাঁকা বাসাবাড়ি কেন্দ্র করে যেন চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আবাসিক এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাসা ছেড়ে যাওয়ার আগে দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা, মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং প্রতিবেশীদের অবহিত রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।—এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য বলছে, দুই হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ঢাকা সিটির গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো মনিটর করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্তি ৭ হাজার পুলিশ সদস্য ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবে।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা গেছে, অপরাধীদের অপরাধের ধরন মাথায় রেখে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। তবে বিশাল এ নগরীর নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারাকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবেও দেখছে ডিএমপি।
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় বাসাবাড়িতে চুরির ঝুঁকি বাড়ে/সংগৃহীত ছবি
র্যাব জানিয়েছে, ১৫টি ব্যাটালিয়ন ঢাকা শহরসহ সারাদেশে একযোগে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ফাঁকা বাসাবাড়িতে চুরি প্রতিরোধে বেশকিছু পরামর্শও দিচ্ছে সরকারি এ সংস্থাটি।
আরও পড়ুন
ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাবতলী টার্মিনাল পরিদর্শনে র্যাব
২ হাজার সিসি ক্যামেরায় নজরদারি, ঈদে ডিউটিতে অতিরিক্ত ৭ হাজার পুলিশ
আইনশৃঙ্খলা ও যানজট পরিস্থিতি নজরদারিতে মনিটরিং সেল গঠন
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের নিয়মিত যে ডিউটি থাকে সেটার পাশাপাশি ঈদ ঘিরে আরও কয়েকটা বিষয় মাথায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান-মার্কেট ও ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তার বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়। ঈদযাত্রায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনারও বিষয় থাকে। ঈদের ঢাকার অধিকাংশ এলাকা আমাদের সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। আমাদের টহল পার্টি থাকবে, সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের নিয়ন্ত্রণে ঢাকা সিটিতে দুই হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমে আমরা ঢাকা সিটির গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো মনিটর করবো। কোথাও কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গেলে দ্রুত রেসপন্স করবো। ঈদকেন্দ্রিক রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্তি সাত হাজার পুলিশ সদস্য ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে পশুর হাটকেন্দ্রিক দুই হাজার ৪৮৯ জন। এই বিশেষ ডিউটি চলবে ২৮ মে পর্যন্ত। এরপর আবার ঈদ জামাত ও ঈদ পরবর্তী পৃথক ডিউটি রোস্টার করা হবে।
‘বর্তমানে ডিএমপিতে ৩২ হাজারের কিছু বেশি সদস্য আছে। তাদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সদস্য ছুটিতে যেতে পারবে’—যোগ করেন তিনি।
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে।—ডিএমপি কমিশনার
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা শহরসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে। আগের ঈদগুলোতে কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে এবারের ঈদনির্ভর কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বাড়তি চেকপোস্টের পাশাপাশি থাকছে অতিরিক্ত টহল ব্যবস্থা। এমনভাবে কার্যক্রম সাজানো হচ্ছে যেন ঈদের সময় কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা না থাকে।
ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া নগরবাসীর বাসাবাড়ির নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের এ মুখপাত্র বলেন, ঈদের সময় বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা বাড়ে। ফাঁকা বাসাবাড়ি কেন্দ্র করে যেন চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আবাসিক এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাসা ছেড়ে যাওয়ার আগে দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা, মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং প্রতিবেশীদের অবহিত রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা/ফাইল ছবি
সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক তথ্য বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা র্যাবকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
গত বুধবার (২০ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ নিরাপদ মহানগরী গড়ে তোলাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিজের প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, একটি নিরাপদ মহানগরী গড়ে তোলাই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপদ মহানগরী গড়তে জনগণ, গণমাধ্যম ও পুলিশের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যদের যেমন অপ্রতুলতা আছে, দ্রুত নগরায়ন হচ্ছে, জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ, ভাসমান জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি, বস্তি এলাকায় অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ—অনলাইন প্রতারণা, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, সাইবার অপরাধগুলো দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। কিশোর গ্যাং, মাদক, সংঘবদ্ধ অপরাধ—সবকিছু মিলিয়ে নিরাপদ মহানগরী গড়ে তোলার জন্য এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে।
আরও পড়ুন
ঈদ এলেই বাড়ে জাল নোটের কারবার, সরব প্রতারক চক্র
ঈদে বাড়ি গেলে গহনা আত্মীয়দের কাছে রাখার পরামর্শ পুলিশের
ঢাকার মানুষের নিরাপত্তায় সড়কে কাটছে পুলিশের ঈদ
ঈদ উদযাপন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। পরিকল্পিত ভ্রমণ, দ্রুতগতিতে চালাতে গাড়ি চালকদের তাগাদা না দেওয়া, ওভারটেকিং না করা এবং রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট না বসাতে জনসাধারণের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তায় যে পরামর্শ পুলিশ সদরদপ্তরের
নিরাপদে ভ্রমণ করুন: ঈদে যারা বাড়ি যাবেন, তারা ঈদের আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের মারাত্মক ভিড় এড়ানো সহজ হবে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
চালককে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ দেবেন না। চালক যেন নিয়ম মেনে গাড়ি চালান এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করেন সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালক যেন গাড়ি না চালায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
ঈদ ঘিরে বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী/ছবি: জাগো নিউজ
হাইওয়েতে নসিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল পরিহার করুন। হাইওয়েতে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চালাবেন না।
ট্রেনে ভ্রমণের সময় পাথর নিক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন। বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান শনাক্তকরণের লক্ষ্যে নৌযান মালিকরা নৌযানসমূহে ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়ি সংবলিত বয়া এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখুন। লঞ্চ ও ফেরিতে ওঠানামার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।
যাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কাউকে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা প্রতারক চক্রের সদস্য সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে খবর দিন বা ৯৯৯-এ কল করুন। অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণে সতর্ক থাকুন।
কোরবানির পশু সংক্রান্ত পরামর্শ: ট্রাক, লঞ্চ, নৌকা বা ট্রলারে অতিরিক্ত পশুবোঝাই করবেন না। মহাসড়কের ওপর এবং রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট বসাবেন না।
পশুর হাটে নির্ধারিত হারে হাসিল পরিশোধ করুন। কেউ অতিরিক্ত হাসিল অথবা চাঁদা দাবি করলে নিকটস্থ পুলিশকে জানান।
পশুবাহী পরিবহনের সামনে পশুর গন্তব্য/স্থান/পশুর হাটের নাম লিখে ব্যানার টানিয়ে রাখুন। কোরবানির পশুবাহী গাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গন্তব্যস্থল ব্যতীত কেউ কোথাও থামাতে পারবে না।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পশুর চামড়াবাহী যানবাহন সীমান্তমুখী হলে সেগুলো পাচার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের সন্দেহজনক ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশকে জানান বা ৯৯৯-এ কল করুন। কোরবানির পশু বা পণ্যবাহী ট্রাক/যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করবেন না।
পশুর হাটে অর্থ লেনদেনে সতর্ক থাকুন: পশুর হাটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন। বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা (কারেন্সি এস্কর্ট) নিন।
জাল টাকা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। এ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনো নোট জাল সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশকে জানান।
বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, নগদ ইত্যাদিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। কোনো অবস্থায়ই আপনার গোপন পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
শপিংমল/মার্কেটের নিরাপত্তা: শপিংমল/মার্কেটের নিরাপত্তায় সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্য প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করুন।
প্রয়োজনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কন্ট্রোল রুম (০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯), হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (০১৩২০১৮২৫৯৮), রেলওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (০১৩২০১৭৭৫৯৮), নৌপুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (০১৩২০১৬৯৫৯৮), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব (০১৭৭৭৭২০০২৯)-এসব নম্বরে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।
কেআর/এমকেআর/এমএফএ
What's Your Reaction?