ঈদের ছুটিতে প্রস্তুত শ্রীমঙ্গল, তবু দুশ্চিন্তায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা
দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পর্যটনের প্রবেশদ্বার, পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতির জেলা মৌলভীবাজার। জেলা শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দেশের চা বাগান আর পাহাড়ের সমারোহ বেষ্টিত উপজেলা শ্রীমঙ্গল। যেখানে রয়েছে প্রাণ প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্রে্যর অভয়ারণ্য। বিশেষ ছুটি কিংবা ঈদ মৌসুমে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে জেলার শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজগুলো। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং টুরিস্ট পুলিশের থাকে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি। এবার পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পাহাড়, টিলা, চা-বাগান আর হাওরের অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই জনপদে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামার প্রত্যাশা ছিল পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। কিন্তু ট্রেনের টিকিট স্বল্পতা, সড়ক পথে দীর্ঘ ভোগান্তি, সেই সাথে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘন ঘন ঝড়-বৃষ্টিকে ঘিরে এবার ঈদ পর্যটন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। প্রকৃতির লীলাভূমি, চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে সবুজে মোড়ানো চা-বাগান, ঝর্ণা,
দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পর্যটনের প্রবেশদ্বার, পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতির জেলা মৌলভীবাজার। জেলা শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দেশের চা বাগান আর পাহাড়ের সমারোহ বেষ্টিত উপজেলা শ্রীমঙ্গল। যেখানে রয়েছে প্রাণ প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্রে্যর অভয়ারণ্য।
বিশেষ ছুটি কিংবা ঈদ মৌসুমে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে জেলার শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজগুলো। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং টুরিস্ট পুলিশের থাকে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি।
এবার পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পাহাড়, টিলা, চা-বাগান আর হাওরের অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই জনপদে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামার প্রত্যাশা ছিল পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
কিন্তু ট্রেনের টিকিট স্বল্পতা, সড়ক পথে দীর্ঘ ভোগান্তি, সেই সাথে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘন ঘন ঝড়-বৃষ্টিকে ঘিরে এবার ঈদ পর্যটন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। প্রকৃতির লীলাভূমি, চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে সবুজে মোড়ানো চা-বাগান, ঝর্ণা, টিলা ও হাওরের অপরূপ সৌন্দর্যে পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
অন্যদিকে দেশের জনপ্রিয় সারি সারি চা-বাগানের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যে যেমন মোহিত করে প্রকৃতিপ্রেমিকদের; সেই সাথে আন্তর্জাতিক মণ্ডলে দেশকে করছে সমৃদ্ধ।
এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন দার্জিলিং টিলা, নয়নাভিরাম চা-কন্যা ভাস্কর্য, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), টি মিউজিয়াম, নীলকণ্ঠ, সাত রঙের চা কেবিন, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল মৎস্য অভয়াশ্রম, বধ্যভূমি-৭১, লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, ডিনস্টন ওয়ার সিমেট্রি, হরিণছড়া গলফ মাঠসহ দেশের বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন। যা এখানে আগত ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ করে।
তাছাড়া মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরত্বের প্রকৃতির সৌন্দর্যের আরেক উপজেলা কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও নূরজাহান চা-বাগান, হামহাম জলপ্রপাত, পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য।
শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রমজানের ঈদে অনেক বিদেশি পর্যটক বুকিং বাতিল করেছিলেন। এরপর থেকে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এবার ঈদুল আজহায় দীর্ঘ ছুটি থাকলেও বিদেশি পর্যটকদের বুকিং তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা অন্যান্য ট্যুর গাইডদের সঙ্গেও কথা বলে জেনেছি বুকিং তেমন আসছে না, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব, ঝড় বৃষ্টি এবং যাতায়াত ব্যবস্থার ভোগান্তির কারণে বুকিং পাওয়া যাচ্ছে না।
শ্রীমঙ্গল চামুং রেস্টুরেন্ট এন্ড ইকো ক্যাফের পরিচালক তাপস দাশ বলেন, আমাদের এখানে ঈদের জন্য বাড়তি আয়োজন থাকে যেখানে ভোজনরসিকদের জন্য আমাদের নতুন নতুন ম্যানু তৈরি করি; যাতে ভ্রমণের সাথে সাথে এখানে আসা পর্যটকরা খাবারে নতুনের স্বাদ পান, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হামের প্রাদুর্ভাব এবং প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে আমরা ট্যুরিস্টদের আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছি না।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি এবং গ্রেনেড সেলিম রিসোর্ট এর স্বত্বাধিকারী সেলিম আহমদ বলেন, আমাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন স্পট রয়েছে। প্রতিবছর ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে এখানে। ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে চা-বাগান ও পাহাড়ঘেরা এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন রিসোর্ট, ইকো কটেজ, গেস্ট হাউস ও হোটেল নতুন সাজে সেজে উঠেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বাড়ানো হয়েছে খাবারের বৈচিত্র্য। শিশু ও পরিবারভিত্তিক বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তুতির মধ্যেও বিরূপ আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা, কারণ এখন পর্যন্ত আশানুরূপ পর্যটকদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, হোটেল রিসোর্ট মিলিয়ে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। এবারের ঈদ মৌসুমে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলেও আমরা কিছুটা হতাশায় আছি এবারের আগাম বুকিং নিয়ে।
শ্রীমঙ্গল টুরিস্ট পুলিশ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ঈদ মৌসুমে যেহেতু এখানে হাজারো পর্যটক এবং দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে তাই প্রতিবছরের ন্যায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যুক্ত থেকে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়, যাতে পর্যটকরা নিরাপদভাবে এ অঞ্চলে ভ্রমণ করতে পারেন। আমরা ইতোমধ্যে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঈদে আসা পর্যটকরা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঘুরে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য বিভিন্ন পর্যটন স্পট, হোটেল ও রিসোর্ট এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি টুরিস্ট পুলিশ ও মোতায়েন থাকবে।
What's Your Reaction?