ঈদের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকের ঢল, খুশি ব্যবসায়ীরা

22 hours ago 8

সিলেটে ঢল নেমেছে পর্যটকদের। ঈদের ছুটিতে শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা সিলেটে আসেন। পর্যটকদের কাছে- সিলেটে যেন দেখার শেষ নেই। সিলেটের পাহাড়, নদী আর চা-বাগানের সৌন্দর্য টানে পর্যটকদের। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের চা-বাগান থেকে শুরু করে জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, লালাখাল, লোভাছড়া, সাদাপাথর- সব পর্যটনকেন্দ্রেই দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। অনেক পর্যটক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে রুম না পেয়ে গাড়ি ও রাস্তায় সময় কাটিয়েছেন।

তবে, পর্যটন এলাকায় যেতে ভাঙ্গাচুড়া রাস্তা ও সেনিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকরা।

এবার ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়ায় জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা জাফলং, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, লালাখাল, মালনিছড়া চা বাগান, লাক্কাতুরা চা বাগান, শাহজালাল মাজার, শাহপরান মাজার, আলী আমজাদের ঘড়ি, ক্বিন ব্রিজ, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল, বড়লেখা চা-বাগান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, চুনারুঘাটের পাথারিয়া পাহাড়, টাঙ্গুয়ার হাওর, জাদুকাটা নদী, বারিক্কাটিলা, নীলাদ্রি লেক (শহীদ সিরাজ লেক) দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সিলেটে ছুটে এসেছেন পর্যটকরা।

বুধবার (২ এপ্রিল) চায়ের রাজধানী বলে খ্যাত সিলেটের লাক্কাতুরা, মালনিছড়া, তারাপুরসহ বিভিন্ন চা-বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উঁচু-নিচু পাহাড়ের ঢেউ খেলানো সবুজের সমারোহে বিমোহিত পর্যটকরা। ঈদ ও পহেলা বৈশাখের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন অনেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেবিন জাহান ঈদের দিন রাতেই পরিবারের সঙ্গে এসেছেন সিলেটে। তিনি বলেন, সিলেটে আসলেই ভালো লাগে। সিলেটে দেখার যেন শেষ নাই। কোন স্পট রেখে কোথায় যাবো নির্ধারন করা মুস্কিল হয়ে যায়।

শারমিন আক্তার কালবেলাকে বলেন, দূরবর্তী পর্যটন স্পটগুলোতে সেনিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সমস্যা হয়। আশা করি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।

সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানিগঞ্জ, জৈন্তাপুরে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, লালাখাল, লোভাছড়া, সাদা পাথরসহ সব জায়গায় উপচে পড়া ভিড়। এতে ব্যবসায়ীরাও খুশি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ দশ নম্বর ঘাটের ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে, ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর সিলেটের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। নোয়াখালী থেকে আসা সুমন আহমদ কালবেলাকে বলেন, সাদাপাথরের ধলাই নদীর শীতল জল স্পর্শ করে মনটা চাঙ্গা হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ভালো থাকায় স্বল্প সময়ে আসতে পেরেছি। কিন্তু নৌকা ভাড়া একটু বেশি মনে হয়েছে।

জাফলংয়ে ঘুরতে আসা রিংকি বলেন, আমার বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ প্লান করে ঈদের ছুটি পেয়ে ঘুরতে আসছি। আসার পর আমরা খুব এনজয় করেছি। পর্যটকদের ভালো কোনো ওয়াস রুমের ব্যবস্তা নেই। তাই প্রশাসনকে অনুরোধ করব পর্যটকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখার।

জৈন্তা হিলস্ রিসোর্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তোফায়েল আহমদ বলেন, আমার রিসোর্টে ৩০টি রুম রয়েছে এর মধ্যে কাপল ১৬টি ও ডাবল বা ফ্যামেলি রুম ১৪ আছে। সব রুমগুলোতে গেস্ট রয়েছে। আমাদের খুব ভালো ব্যবসা হচ্ছে।

বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ওসি মো. শাহাদাৎ হোসেন কালবেলাকে বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার পর্যটকদের ঢল নেমেছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সক্রিয় রয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সাদা পোষাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মহানগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগ কাজ করছে।

সিলেটের প্রকৃতি ও সৌন্দর্য যেমন পর্যটকদের মুগ্ধ করছে, তেমনই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এই অঞ্চলের পর্যটন খাত আরও বিকশিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Read Entire Article