ঈশ্বরগঞ্জে কারিগরি কলেজে ভর্তির নামে লুটপাট, অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আলিনগর কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যভাবে অতিরিক্ত ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা উপেক্ষা করে ভুতুড়ে ও অযৌক্তিক খাতে অর্থ আদায় এবং ন্যূনতম শিক্ষা সুবিধার অভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৮ জানুয়ারি/২৬) সকালে এসব অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা কলেজের অধ্যক্ষকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা মানি রিসিট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার ৯৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসের অগ্রিম বেতন হিসেবে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়াও আইডি কার্ড ফি ১১০ টাকা, ল্যাব ফি ৩০০ টাকা, উন্নয়ন ফি ৪৫০ টাকাসহ মোট ১৪টি খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের আরও চিত্র উঠে আসে। লাইব্রেরি ফি বাবদ ২০০ টাকা নেওয়া হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীই জানেন না লাইব্রেরিটি ক
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আলিনগর কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যভাবে অতিরিক্ত ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা উপেক্ষা করে ভুতুড়ে ও অযৌক্তিক খাতে অর্থ আদায় এবং ন্যূনতম শিক্ষা সুবিধার অভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি/২৬) সকালে এসব অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এ সময় তারা কলেজের অধ্যক্ষকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা মানি রিসিট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার ৯৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসের অগ্রিম বেতন হিসেবে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়াও আইডি কার্ড ফি ১১০ টাকা, ল্যাব ফি ৩০০ টাকা, উন্নয়ন ফি ৪৫০ টাকাসহ মোট ১৪টি খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের আরও চিত্র উঠে আসে। লাইব্রেরি ফি বাবদ ২০০ টাকা নেওয়া হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীই জানেন না লাইব্রেরিটি কোথায় অবস্থিত। অধ্যক্ষের দেখানো লাইব্রেরি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের কয়েকটি বই ছাড়া কোনো একাডেমিক বই নেই। নেই শিক্ষার্থীদের বসার জন্য টেবিল-চেয়ার কিংবা পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ।
অন্যদিকে ৩০০ টাকা ল্যাব ফি নেওয়া হলেও কলেজের কম্পিউটার ল্যাব দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ল্যাবের অধিকাংশ কম্পিউটার নষ্ট ও অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এমনকি কলেজ ভবনের দোতলার বারান্দায় কাপড় শুকানোর দৃশ্যও দেখা গেছে, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য চরম অবমাননাকর বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বেতন ৪০ শতাংশ ছাড়ে নেওয়ার কথা থাকলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ সবার কাছ থেকেই শতভাগ বেতন আদায় করছে। গত বছর আইডি কার্ডের নামে ২০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো শিক্ষার্থী আইডি কার্ড পায়নি। অথচ চলতি বছর আবারও ১১০ টাকা করে আইডি কার্ড ফি আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। গত বছর অনিয়মের সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে অধ্যক্ষকে আমার সঙ্গে নিয়ে আসি। শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগগুলো করেছে, সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে। আশা করি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা দ্রুত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?