উচ্চ রক্তচাপ কোনো রোগ নয়, এটি একটি সতর্ক সংকেত
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার একটি সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা। যখন রক্তনালির দেয়ালের ওপর রক্তের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন এই সমস্যা দেখা দেয়। এতে হৃদ্যন্ত্রকে শরীরজুড়ে রক্ত পাম্প করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহৃত হয়। তবে এসব ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন সেবন করতে হয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি এক মার্কিন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত দিয়ে বলেন, রক্তচাপ কমানোর ওষুধ অনেক সময় মূল সমস্যার সমাধান করে না। কেন শুধু ওষুধে সমস্যার সমাধান হয় না? বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তচাপের ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যাকে কমায়, কিন্তু কেন রক্তচাপ বেড়েছে—সে মূল কারণটি দূর করে না। ফলে রক্তচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা মৃত্যুঝুঁকি পুরোপুরি কমে না। সহজভাবে বোঝাতে বলা যায়, যদি কোনো কারণে শরীরে ব্যথা হয়, তাহলে শুধু ব্যথানাশক খেলে ব্যথা সাময়িক কমতে পারে, কিন্তু ব্যথার কারণ দূর না করলে সমস্যা থেকেই যায়। তেমনি, রক্তচাপ বাড়ার পেছনের কারণ বন্ধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপ
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার একটি সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা। যখন রক্তনালির দেয়ালের ওপর রক্তের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন এই সমস্যা দেখা দেয়। এতে হৃদ্যন্ত্রকে শরীরজুড়ে রক্ত পাম্প করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহৃত হয়। তবে এসব ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন সেবন করতে হয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি এক মার্কিন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত দিয়ে বলেন, রক্তচাপ কমানোর ওষুধ অনেক সময় মূল সমস্যার সমাধান করে না।
কেন শুধু ওষুধে সমস্যার সমাধান হয় না?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তচাপের ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যাকে কমায়, কিন্তু কেন রক্তচাপ বেড়েছে—সে মূল কারণটি দূর করে না। ফলে রক্তচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা মৃত্যুঝুঁকি পুরোপুরি কমে না।
সহজভাবে বোঝাতে বলা যায়, যদি কোনো কারণে শরীরে ব্যথা হয়, তাহলে শুধু ব্যথানাশক খেলে ব্যথা সাময়িক কমতে পারে, কিন্তু ব্যথার কারণ দূর না করলে সমস্যা থেকেই যায়। তেমনি, রক্তচাপ বাড়ার পেছনের কারণ বন্ধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ রক্তচাপ আসলে একটি সতর্কবার্তা। শরীর আমাদের জানিয়ে দেয় যে কোথাও সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে থাকতে পারে :
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ
- শরীরে প্রদাহ
- রক্তনালির কার্যকারিতা কমে যাওয়া
- প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি
- ক্ষতিকর টক্সিনের প্রভাব
- শরীরের ভেতরের সংকেত ব্যবস্থার ভারসাম্যহীনতা
শুধু ওষুধ দিয়ে রক্তচাপের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করলে, এই মূল কারণগুলো অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়।
রক্তচাপের সংখ্যার মানে কী?
রক্তচাপ মাপা হয় মিলিমিটার পারদ (mm Hg) এককে এবং এতে দুটি সংখ্যা থাকে
সিস্টোলিক চাপ (উপরের সংখ্যা): হৃদ্যন্ত্র সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময় ধমনিতে যে চাপ পড়ে
ডায়াস্টোলিক চাপ (নিচের সংখ্যা): হৃদ্যন্ত্র শিথিল অবস্থায় থাকাকালীন চাপ
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানদণ্ড অনুযায়ী
১২০/৮০ mm Hg-এর নিচে: স্বাভাবিক রক্তচাপ
১২০–১২৯ / ৮০-এর নিচে: সামান্য বাড়তি রক্তচাপ
১৩০–১৩৯ / ৮০–৮৯: উচ্চ রক্তচাপের প্রথম ধাপ (স্টেজ ১)
১৪০/৯০ বা তার বেশি: উচ্চ রক্তচাপের দ্বিতীয় ধাপ (স্টেজ ২)
১৮০/১২০-এর বেশি: জরুরি অবস্থা, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন
উচ্চ রক্তচাপকে শুধু একটি সংখ্যা বা আলাদা রোগ হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত, যা জানায়—জীবনযাপন বা স্বাস্থ্যের কোথাও সমস্যা হচ্ছে।
ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হলেও, পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সচেতন হলে এবং কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
What's Your Reaction?