উত্তরা অগ্নিকাণ্ড; নানার বাসায় থাকায় প্রাণে রক্ষা পেল রাফসান

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নানার বাসায় থাকায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে পরিবারের বড় সন্তান কাজী রাফসান। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে আগুন লাগে। ভবনটির পঞ্চম তলায় বসবাস করতেন এস কে এফ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের কর্মকর্তা কাজী ফজলে রাব্বি (৩৯), তার স্ত্রী স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আফরোজা আক্তার (৩৭) এবং তাদের দুই বছরের সন্তান ফাইয়াজ রিশান। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তারা তিনজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। পরিবারের বড় সন্তান কাজী রাফসান নিয়মিতভাবে তার নানার বাসায় থাকত। বাবা-মা দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় রাফসান ও ছোট ভাই রিশান সাধারণত নানার বাড়িতেই থাকত। শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার রাতেই ফজলে রাব্বি ছোট ছেলে ফাইয়াজ রিশানকে নানার বাসা থেকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। সেই সিদ্ধান্তই রাফসানের জীবন বাঁচায়। দুর্ঘটনার সময় রাফসান নানার বাসায় থাকায় অগ্নিকাণ্ড থেকে সে অক্ষত থাকে। এই অগ

উত্তরা অগ্নিকাণ্ড; নানার বাসায় থাকায় প্রাণে রক্ষা পেল রাফসান

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নানার বাসায় থাকায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে পরিবারের বড় সন্তান কাজী রাফসান।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে আগুন লাগে। ভবনটির পঞ্চম তলায় বসবাস করতেন এস কে এফ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের কর্মকর্তা কাজী ফজলে রাব্বি (৩৯), তার স্ত্রী স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আফরোজা আক্তার (৩৭) এবং তাদের দুই বছরের সন্তান ফাইয়াজ রিশান। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তারা তিনজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।

পরিবারের বড় সন্তান কাজী রাফসান নিয়মিতভাবে তার নানার বাসায় থাকত। বাবা-মা দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় রাফসান ও ছোট ভাই রিশান সাধারণত নানার বাড়িতেই থাকত। শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার রাতেই ফজলে রাব্বি ছোট ছেলে ফাইয়াজ রিশানকে নানার বাসা থেকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। সেই সিদ্ধান্তই রাফসানের জীবন বাঁচায়। দুর্ঘটনার সময় রাফসান নানার বাসায় থাকায় অগ্নিকাণ্ড থেকে সে অক্ষত থাকে।

এই অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজন ছাড়াও ভবনের আরও তিনজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেশীরা জানান, গভীর রাতে আগুন লাগার পর পুরো ভবনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দা জানালা ও সিঁড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।

একসঙ্গে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে রাফসানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow