উপকার করে খোঁটা দেওয়া পাপ
মানুষকে উপকার করে খোঁটা দেওয়া খুবই নিন্দনীয় স্বভাব। এ ধরনের কাজ সমাজেও যেমন খারাপ চোখে দেখা হয়, ইসলামেও জঘন্য অপরাধ ও কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। পৃথিবীতে সবাইকে অন্যের সহযোগিতা নিয়ে চলতে হয়। বিপদে একে অন্যের বন্ধুত্ব কামনা করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন মিলেমিশে থাকে। তার মধ্যে ভালো কিছু নেই, যে মিলেমিশে থাকতে পারে না। যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ (আল মুজামতুল আউসাত : হাদিস ৫৭৮৭)। পরোপকার একটি মহৎ গুণ। তবে কারও উপকার শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করা উচিত, পার্থিব স্বার্থে নয়। কখনো এদিকে লক্ষ করা উচিত নয় যে, যার উপকার করা হয়েছে, তার পক্ষ থেকে কী ধরনের আচরণ আসছে। খোঁটা দেওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসে না। কেননা কোরআনে করিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের দান-সদকাকে পণ্ড করো না খোঁটা ও কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে।’ (সুরা বাকারা: ২৬৪)। খোঁটা দিতে পারে তো কেবল সে-ই, যে উপকার করে পার্থিব প্রাপ্তির আশায়। ফলে সে যখন তার আশানুরূপ ফল পায় না, তখন হতাশায় ভেঙে যায় তার মনের স্বচ্ছ আয়না। সেই হতাশার প্রকাশ ঘটে খোঁটার চূর্ণবিচূর্ণ কাচের আঘাতের মাধ্যমে। তাই মুমিন ব্যক্তি কখনো
মানুষকে উপকার করে খোঁটা দেওয়া খুবই নিন্দনীয় স্বভাব। এ ধরনের কাজ সমাজেও যেমন খারাপ চোখে দেখা হয়, ইসলামেও জঘন্য অপরাধ ও কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। পৃথিবীতে সবাইকে অন্যের সহযোগিতা নিয়ে চলতে হয়। বিপদে একে অন্যের বন্ধুত্ব কামনা করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন মিলেমিশে থাকে। তার মধ্যে ভালো কিছু নেই, যে মিলেমিশে থাকতে পারে না। যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ (আল মুজামতুল আউসাত : হাদিস ৫৭৮৭)।
পরোপকার একটি মহৎ গুণ। তবে কারও উপকার শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করা উচিত, পার্থিব স্বার্থে নয়। কখনো এদিকে লক্ষ করা উচিত নয় যে, যার উপকার করা হয়েছে, তার পক্ষ থেকে কী ধরনের আচরণ আসছে। খোঁটা দেওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসে না। কেননা কোরআনে করিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের দান-সদকাকে পণ্ড করো না খোঁটা ও কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে।’ (সুরা বাকারা: ২৬৪)।
খোঁটা দিতে পারে তো কেবল সে-ই, যে উপকার করে পার্থিব প্রাপ্তির আশায়। ফলে সে যখন তার আশানুরূপ ফল পায় না, তখন হতাশায় ভেঙে যায় তার মনের স্বচ্ছ আয়না। সেই হতাশার প্রকাশ ঘটে খোঁটার চূর্ণবিচূর্ণ কাচের আঘাতের মাধ্যমে। তাই মুমিন ব্যক্তি কখনো খোঁটা দেওয়ায় অভ্যস্ত হয় না। কারণ তারা জানে, এর প্রতিদান তারা পাবেই। কেননা ‘আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও তাদের সম্পদ খরিদ করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে, এর বিনিময়ে।’ (সুরা তাওবা : ১১১)
কখনো আবার ইখলাসের সঙ্গে (নিঃস্বার্থ) উপকার করলেও পরবর্তী সময় নগদপ্রাপ্তির দিকে দৃষ্টি চলে যায়। ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বিনিময় তার পাওয়ার কথা ছিল, তা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। কাজেই পরোপকারের সুফল লাভের জন্য শুধু শুরুর দিকের ইখলাসই যথেষ্ট নয়, পরবর্তী সময় সেই ইখলাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকাও জরুরি। অন্যথায় তার ইখলাসের সঙ্গে করা উপকারও নিষ্ফল হয়ে যায়। তাই তো আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা নিজ সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, আর ব্যয় করার পর খোঁটা দেয় না এবং কোনো কষ্টও দেয় না, তারা নিজ প্রতিপালকের কাছে তাদের প্রতিদান পাবে। তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা: ২৬২)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিন ব্যক্তি এমন, কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা যাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আবু জর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এ কথাটি তিন-তিনবার বললেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তারা কারা, তারা তো সর্বস্বান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল? তিনি বললেন—১. যে ব্যক্তি পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে। ২. যে ব্যক্তি উপকার করার পর খোঁটা দেয় এবং ৩. যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালায়।’ (মুসলিম : হাদিস ১০৬)। আল্লাহ সবাইকে বোঝার ও আমল করার তওফিক দিন।
লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক
What's Your Reaction?