উৎপাদন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন দিগন্তে ইসিএল
চট্টগ্রামের ইসিএল কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা প্রাঙ্গণে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এই সভায় শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা স্তরের মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মু. আনোয়ারুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসিএল কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মো. মফিজুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী আব্দুল মালেক মোড়ল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), ইসিএল কোম্পানি লিমিটেড। মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা সরাসরি শোনা, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করা এবং ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের সঙ্গে শ্রমিকদের কার্যকর সংযোগ তৈরি করা। সভায় শ্রমিকরা তাদের দৈনন্দিন কাজের অভিজ্ঞতা, কর্মপরিবেশের সীমাবদ্ধতা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। শ্রমিক প্রতিনিধিরা সভায় জানান, কারখানায় ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাত
চট্টগ্রামের ইসিএল কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা প্রাঙ্গণে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এই সভায় শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা স্তরের মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মু. আনোয়ারুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসিএল কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মো. মফিজুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী আব্দুল মালেক মোড়ল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), ইসিএল কোম্পানি লিমিটেড।
মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা সরাসরি শোনা, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করা এবং ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের সঙ্গে শ্রমিকদের কার্যকর সংযোগ তৈরি করা। সভায় শ্রমিকরা তাদের দৈনন্দিন কাজের অভিজ্ঞতা, কর্মপরিবেশের সীমাবদ্ধতা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
শ্রমিক প্রতিনিধিরা সভায় জানান, কারখানায় ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের অভাব এবং সহায়ক সরঞ্জামের সংকট কাজের গতিকে ব্যাহত করছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা গেলে উৎপাদনের মান ও গতি দুটোই বাড়বে বলে তারা মত দেন।
এক শ্রমিক প্রতিনিধি বলেন, আমরা চাই কাজের পরিবেশ আরও উন্নত হোক। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সহায়ক সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হলে আমরা আরও দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে পারব। এতে শ্রমিকদের মনোবল যেমন বাড়বে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের সুনামও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, রাতের বেলায় কারখানার আশপাশে মাদক সেবন ও চুরির ঘটনা শ্রমিকদের চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করছে। এ জন্য কোম্পানির আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গাগুলো পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তাব দেন তিনি।
সভায় শ্রমিকরা জনবল সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাদের মতে, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা গেলে কাজের উৎপাদন আরও ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি মার্কেটিং কার্যক্রম জোরদার করা, উন্নত বিশ্বের বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যের প্রচার বাড়ানো এবং কারখানার সামনের জায়গা ব্যবহার করে দোকান ও মার্কেট স্থাপনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করার প্রস্তাবও দেন তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান মু. আনোয়ারুল আলম বলেন, শ্রমিকরাই একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির মূল শক্তি। তাদের সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রস্তাবনা কখনোই অবহেলা করা যায় না। আজকের আলোচনায় যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
বিশেষ অতিথি মো. মফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের মতামতের ভিত্তিতে কাজের গতি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যেসব প্রক্রিয়ায় সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সিস্টেমভিত্তিক সমাধান দেওয়া হবে। এতে শুধু উৎপাদনই নয়, শ্রমিকদের মনোবলও বাড়বে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী আব্দুল মালেক মোড়ল বলেন, শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা স্তরের মধ্যে সুসংহত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। এই মতবিনিময় সভা সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মতবিনিময় সভা শেষে শ্রমিক-কর্মচারী ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের সবার অংশগ্রহণে খাবারের আয়োজন করা হয়। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আয়োজনে একসাথে বসে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে কারখানা প্রাঙ্গণে এক মিলনমেলায় রূপ নেয় । এতে শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় এবং ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয়পক্ষ।
What's Your Reaction?