উৎপাদন খরচ উঠছে না পোলট্রি খামারিদের : বিপিএ

21 hours ago 5

ঈদ উপলক্ষে বেশি দামে মুরগির বাচ্চা কিনতে বাধ্য হলেও এখন সেই সিদ্ধান্ত চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের প্রান্তিক খামারিদের। বাজারে ব্রয়লারের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না তারা।

অন্যদিকে, অভিযোগ উঠেছে করপোরেট গ্রুপগুলো ঈদের আগে বাচ্চার দাম বাড়িয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছে। যা খামারিদের দুর্দশাকে আরও গভীর করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

বুধবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। 

বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, বর্তমানে প্রান্তিক খামারিরা মুরগি বিক্রি করছেন ১৫০-১৬০ টাকায়। অথচ তাদের উৎপাদন খরচ হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা। এতে প্রতিটি মুরগিতে তারা ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনছেন। এই ক্ষতি কতদিন বহন করা সম্ভব? সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, খামারিদের বিপর্যয় এখানেই শেষ নয়। বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিম্নমানের এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা বাচ্চাগুলো সহজেই ভাইরাসের শিকার হচ্ছে। যার ফলে মৃত্যুহার বাড়ছে। অধিকাংশ খামারির মুরগি মারা যাচ্ছে, যা তাদের লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একদিকে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, অন্যদিকে ভাইরাসজনিত মৃত্যু- সব মিলিয়ে তারা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন।

প্রান্তিক খামারিরা সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বড় করপোরেট কোম্পানিগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করছে। অন্যদিকে, প্রান্তিক খামারিরা প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে খামারিরা ধীরে ধীরে উৎপাদন থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন। এর ফলে দেশের পোলট্রি খাত করপোরেট নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে এবং সাধারণ জনগণ উচ্চমূল্যে মাংস ও ডিম কিনতে বাধ্য হবে।

এমন অবস্থায় প্রান্তিক খামারিদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু দাবিও জানান তিনি। দাবিগুলো হচ্ছে- করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিক মুনাফা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে; প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে; পোলট্রি খাতে স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচির উন্নয়ন করতে হবে; বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে পোলট্রি খাত থেকে প্রান্তিক খামারিদের বিদায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Read Entire Article