ঋণ থেকে মুক্তির বিশেষ ৪ দোয়া
ঋণ মানুষের জীবনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি এটি মানসিক অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও সামাজিক অস্বস্তিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইসলাম ঋণ পরিশোধে যেমন গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি ঋণ থেকে নিরাপদ থাকতে ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করারও শিক্ষা দিয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও আল্লাহর কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাইতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও এ বিষয়ে বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত এমন বিশেষ চারটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া তুলে ধরা হলো। ১. গোনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের পর এ দোয়া পড়তেন— اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল মাছামি ওয়াল মাগরাম। (সহিহ বোখারি: ২৩৯৭) অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ২. দুশ্চিন্তা, অলসতা ও ঋণের ভার থেকে মুক্তির দোয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করতেন— اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ
ঋণ মানুষের জীবনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি এটি মানসিক অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও সামাজিক অস্বস্তিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইসলাম ঋণ পরিশোধে যেমন গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি ঋণ থেকে নিরাপদ থাকতে ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করারও শিক্ষা দিয়েছে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও আল্লাহর কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাইতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও এ বিষয়ে বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত এমন বিশেষ চারটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া তুলে ধরা হলো।
১. গোনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের পর এ দোয়া পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল মাছামি ওয়াল মাগরাম। (সহিহ বোখারি: ২৩৯৭)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
২. দুশ্চিন্তা, অলসতা ও ঋণের ভার থেকে মুক্তির দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজানি, ওয়া আউযুবিকা মিনাল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউযুবিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া আউযুবিকা মিন দালাইদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল। (সহিহ বোখারি: ২৮৯৩)
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং ঋণের ভার ও মানুষের দমনপীড়ন থেকে।
৩. অলসতা, বার্ধক্য, গোনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয়ের দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ، وَالْهَرَمِ، وَالْمَأْثَمِ، وَالْمَغْرَمِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল কাসালি, ওয়াল হারামি, ওয়াল মাছামি, ওয়াল মাগরামি। (সহিহ বোখারি: ৬০০৭)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অলসতা, অধিক বার্ধক্য, গুনাহ এবং ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
৪. ঋণের বোঝা ও মানুষের অত্যাচার থেকে মুক্তির দোয়া
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি পাঠ করতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালাইদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল। (সহিহ বোখারি: ২৮৯৩)
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং ঋণের ভার ও মানুষের দমনপীড়ন থেকে।
ইসলামের শিক্ষা
ইসলামে অযথা ঋণগ্রস্ত হওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঋণ নেওয়া বৈধ হলেও তা দ্রুত পরিশোধের চেষ্টা করা এবং আল্লাহর কাছে ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির জন্য নিয়মিত দোয়া করা একজন মুমিনের দায়িত্ব। মহানবী (সা.)-এর শেখানো এসব দোয়া শুধু ঋণমুক্তির আবেদনই নয়; বরং দুশ্চিন্তা, অলসতা, গোনাহ ও জীবনের নানা সংকট থেকে আল্লাহর সাহায্য কামনারও অন্যতম উত্তম আমল।
What's Your Reaction?