এআই ভিডিও ছড়ানোর হুমকির মামলায় সাংবাদিক শফিক কারাগারে
সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়। বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন। গত ২১ জুলাই রাতে রাজধানীর মগবাজারে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের পাশের এলাকা থেকে হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিয়াউল হক। আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি সহযোগীদের সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ অবস্থায় তাকে জামিন দেওয়া হলে পলাতক হওয়ার পাশাপাশি মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া এবং তার পরিচয়-ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, মা
সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন।
গত ২১ জুলাই রাতে রাজধানীর মগবাজারে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের পাশের এলাকা থেকে হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিয়াউল হক।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি সহযোগীদের সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ অবস্থায় তাকে জামিন দেওয়া হলে পলাতক হওয়ার পাশাপাশি মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া এবং তার পরিচয়-ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে পরে শফিককে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে।
মামলার নথিতে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান শফিক বর্তমানে কোন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা করেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে, হাফিজুর রহমান শফিক নতুন দিনের দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন-এ কর্মরত বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শফিকের জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানির সময় তাকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ারফাইটার আন্দাম হোসেন বাদী হয়ে হাফিজুর রহমান শফিক, মো. ফজলুল হক, মো. লিটন মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে শফিক বিভিন্ন সময় বাদীর কাছে অর্থ দাবি করতেন। দাবি করা অর্থ না দিলে তাকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার ফেসবুক পেজ থেকে বাদীকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয় এবং আবারও অর্থ দাবি করা হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, অন্য দুই আসামি ওই ভিডিও নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে বাদীর ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। এছাড়া এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
এমডিএএ/এমএএইচ/
What's Your Reaction?