এআইয়ের দাপটে ঝুঁকিতে ইলেকট্রিশিয়ান-প্লাম্বারদের চাকরি
একসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ছিল বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বিষয়। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির আবির্ভাবের পর এআই নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পায়। শুরু থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে আসছিলেন যে, এআই ভবিষ্যতে বহু পেশার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে মত দিয়েছিলেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য। প্রযুক্তি পরিষেবা প্রতিষ্ঠান কগনিজেন্ট-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। যে পরিবর্তন ঘটতে প্রায় এক দশক সময় লাগবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তা বাস্তবে তিন বছরেরও কম সময়ে দৃশ্যমান হয়ে গেছে। প্রতিবেদনটি বলছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই বিভিন্ন শিল্প ও পেশায় আরও গভীরভাবে প্রবেশ করবে। এমনকি যেসব কাজকে এতদিন প্রযুক্তির প্রভাবমুক্ত বলে মনে করা হতো, সেগুলোও আর পুরোপুরি নিরাপদ নয়। কগনিজেন্ট-এর প্রধান গবেষক ওলি ও’ডোনোঘুয়ের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে কাউকেই সম্পূ
একসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ছিল বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বিষয়। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির আবির্ভাবের পর এআই নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পায়। শুরু থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে আসছিলেন যে, এআই ভবিষ্যতে বহু পেশার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে মত দিয়েছিলেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য। প্রযুক্তি পরিষেবা প্রতিষ্ঠান কগনিজেন্ট-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। যে পরিবর্তন ঘটতে প্রায় এক দশক সময় লাগবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তা বাস্তবে তিন বছরেরও কম সময়ে দৃশ্যমান হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই বিভিন্ন শিল্প ও পেশায় আরও গভীরভাবে প্রবেশ করবে। এমনকি যেসব কাজকে এতদিন প্রযুক্তির প্রভাবমুক্ত বলে মনে করা হতো, সেগুলোও আর পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
কগনিজেন্ট-এর প্রধান গবেষক ওলি ও’ডোনোঘুয়ের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে কাউকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাবে না। তার বক্তব্য, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার কিংবা অন্যান্য কারিগরি পেশাজীবীদেরও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব পেশা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বরং কাজের ধরন বদলে যাবে। উদাহরণ হিসেবে প্লাম্বিংয়ের কথা বলা যায়। পাইপ মেরামত বা যন্ত্রাংশ স্থাপনের মতো শারীরিক কাজ এখনো মানুষের হাতেই করতে হবে। কিন্তু সমস্যা শনাক্ত করা, সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া কিংবা পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজগুলো ক্রমশ এআইনির্ভর হয়ে উঠতে পারে।
একই চিত্র দেখা যেতে পারে ইলেকট্রিক্যাল কাজেও। ত্রুটি শনাক্তকরণ, ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট, নিরাপত্তা বিশ্লেষণ এবং মেরামতের পরিকল্পনা তৈরিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফলে কর্মীদের শুধু হাতে-কলমে দক্ষ হলেই চলবে না, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও এআইভিত্তিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে দক্ষতার ধারাবাহিক উন্নয়নই হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কারণ এআই হয়তো অনেক কাজ সহজ করে দেবে, কিন্তু প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন থেকেই যাবে।
কেএসকে
What's Your Reaction?