এক কাজীতেই রাজি জেলা রেজিস্ট্রার!

পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের দায়িত্বই তার হাতে ১২০ দিনের মেয়াদে দায়িত্ব নিলেও তিন বছর ধরে চলছে নবায়ন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভায় নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের দায়িত্বই এক ব্যক্তির হাতে যাওয়ায় এই আলোচনা আবার সামনে এসেছে। অস্থায়ীভাবে ১২০ দিনের জন্য দেওয়া দায়িত্ব টানা প্রায় তিন বছর ধরে বহাল থাকা এবং সর্বশেষ দাপ্তরিক আদেশে পৌরসভার সব ওয়ার্ডের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভায় জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা এক আদেশে কাজী মতিয়ার রহমানকে পূর্বের দায়িত্বের পাশাপাশি ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে কার্যত পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বড় অংশ তার অধীনে চলে এসেছে। যদিও আদেশে দায়িত্বের মেয়াদ ১২০ দিন উল্লেখ রয়েছে, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ২০২৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে একইভাবে অস্থায়ী দায়িত্ব নবায়নের মাধ্যমে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক আইনের দৃষ্টিতে

এক কাজীতেই রাজি জেলা রেজিস্ট্রার!
  • পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের দায়িত্বই তার হাতে
  • ১২০ দিনের মেয়াদে দায়িত্ব নিলেও তিন বছর ধরে চলছে নবায়ন

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভায় নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের দায়িত্বই এক ব্যক্তির হাতে যাওয়ায় এই আলোচনা আবার সামনে এসেছে। অস্থায়ীভাবে ১২০ দিনের জন্য দেওয়া দায়িত্ব টানা প্রায় তিন বছর ধরে বহাল থাকা এবং সর্বশেষ দাপ্তরিক আদেশে পৌরসভার সব ওয়ার্ডের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভায় জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা এক আদেশে কাজী মতিয়ার রহমানকে পূর্বের দায়িত্বের পাশাপাশি ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে কার্যত পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বড় অংশ তার অধীনে চলে এসেছে। যদিও আদেশে দায়িত্বের মেয়াদ ১২০ দিন উল্লেখ রয়েছে, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ২০২৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে একইভাবে অস্থায়ী দায়িত্ব নবায়নের মাধ্যমে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টি ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল হতে পারে।

জানা যায়, দর্শনা পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা হাবিবুর রহমানের কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। যার ফলে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা কাজী মতিয়ার রহমান পান ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব। পরবর্তীতে ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব থাকা কাজী ইসমাইল হোসেন অবসরপ্রাপ্ত হলে ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বও পান তিনি। এছাড়া মাওলানা ওমর আলী ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত হলে সেই দায়িত্বও পান কাজী মতিয়ার রহমান।

আরও পড়ুন-
চালু হচ্ছে অনলাইন বিবাহ-তালাক রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা: আইন উপদেষ্টা
রাকসুর ভোট চাইতে গিয়ে মন দেওয়া-নেওয়া: অতঃপর জীবনসঙ্গী দুই শিক্ষার্থী
হাতির পিঠে চড়ে বরযাত্রা, নববধূ ফিরলেন ঘোড়ার গাড়িতে
গাড়ি না পেয়ে ইজিবাইকে বিয়ে করতে গেলেন বর

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগরের একটি আধা-সরকারি পত্রের মাধ্যমে মতিয়ার রহমানের নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়েছিল। এ নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হয়েও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পান এবং পরবর্তীতে একাধিক ওয়ার্ডে তার দায়িত্ব বিস্তৃত হয়।

এ বিষয়ে ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হয়ে ৩নং ওয়ার্ডের স্থায়ী কাজী হলেন কীভাবে? অস্থায়ী ১২০ দিনের দায়িত্ব নিয়ে কীভাবে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করলেন? একাই নয়টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি মতিয়ার রহমান।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হওয়া এবং নির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকার বিধান থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শূন্য পদে যোগ্য উত্তরাধিকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান থাকলেও সেটিও অনুসরণ করা হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্বে অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী আনিসুর রহমান দাবি করেন, তিনি কখনো লিখিতভাবে দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানাননি। অথচ দাপ্তরিক আদেশে তার অপারগতার কথা উল্লেখ করে নতুনভাবে দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সচেতন মহলের মতে, একজন ব্যক্তির হাতে প্রায় পুরো পৌরসভার নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম ন্যস্ত হওয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ভবিষ্যতে বিবাহ ও তালাকের বৈধতা, দেনমোহর ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা সাব-রেজিস্ট্রার মো. হাবিবুল্লাহ জানিয়েছেন, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রারের এখতিয়ারভুক্ত।

রেজিস্ট্রার মো. লোকমান হোসেন বলেন, আমি ছুটিতে। অফিসে গিয়ে ফাইল দেখে বলতে পারবো।

এফএ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow