এক ছাগলেই ভাগ্য বদল মমতাজ বেগমের

২০২২ সালের কথা। ৯ হাজার টাকা এনজিও থেকে অনুদান পেয়ে একটি গর্ভবতী ছাগল কিনেছিলেন মমতাজ বেগম। এক মাস পরই ছাগলটি তিনটি বাচ্চা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে। ছাগলের সংখ্যা বেড়ে ৯১টিতে দাঁড়ায়। এর মধ্যে ৬১টি বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেছেন মমতাজ। এখনো তার কাছে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টি ছাগল রয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের গৃহবধূ মমতাজ বেগম। মাত্র একটি ছাগল দিয়ে শুরু করে চার বছরে তিনি গড়ে তুলেছেন ৯১টি ছাগলের একটি সফল খামার, যা বদলে দিয়েছে তার পরিবারের ভাগ্য। ছাগল বিক্রির টাকাতেই চলছে তাদের সংসার। মেয়েদের বিয়ে, সন্তানের পড়াশোনা এবং চিকিৎসার খরচ—সবই মেটানো হয় খামারের আয় থেকে। তবে বর্তমানে লিভারজনিত রোগে আক্রান্ত মমতাজ বেগম। যা তার জীবনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ‘মমতাজ আপার কষ্ট আমরা নিজের চোখে দেখছি। উনি যেভাবে একটার পর একটা ছাগল বাড়াইছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণার। আগে আমরা ভাবতাম, ছাগল পালন করে তেমন কিছু হয় না। কিন্তু এখন দেখি, ঠিকভাবে করলে এইটা দিয়াও সংসার চালানো যায়। আমরাও এখন আগ্রহী হচ্ছি’ অসুস্থতা সত্ত্বেও থেমে যাননি তিনি। প্রতিদিন ঘরের কাজের

এক ছাগলেই ভাগ্য বদল মমতাজ বেগমের

২০২২ সালের কথা। ৯ হাজার টাকা এনজিও থেকে অনুদান পেয়ে একটি গর্ভবতী ছাগল কিনেছিলেন মমতাজ বেগম। এক মাস পরই ছাগলটি তিনটি বাচ্চা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে। ছাগলের সংখ্যা বেড়ে ৯১টিতে দাঁড়ায়। এর মধ্যে ৬১টি বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেছেন মমতাজ। এখনো তার কাছে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টি ছাগল রয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের গৃহবধূ মমতাজ বেগম। মাত্র একটি ছাগল দিয়ে শুরু করে চার বছরে তিনি গড়ে তুলেছেন ৯১টি ছাগলের একটি সফল খামার, যা বদলে দিয়েছে তার পরিবারের ভাগ্য।

ছাগল বিক্রির টাকাতেই চলছে তাদের সংসার। মেয়েদের বিয়ে, সন্তানের পড়াশোনা এবং চিকিৎসার খরচ—সবই মেটানো হয় খামারের আয় থেকে। তবে বর্তমানে লিভারজনিত রোগে আক্রান্ত মমতাজ বেগম। যা তার জীবনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

‘মমতাজ আপার কষ্ট আমরা নিজের চোখে দেখছি। উনি যেভাবে একটার পর একটা ছাগল বাড়াইছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণার। আগে আমরা ভাবতাম, ছাগল পালন করে তেমন কিছু হয় না। কিন্তু এখন দেখি, ঠিকভাবে করলে এইটা দিয়াও সংসার চালানো যায়। আমরাও এখন আগ্রহী হচ্ছি’

অসুস্থতা সত্ত্বেও থেমে যাননি তিনি। প্রতিদিন ঘরের কাজের পাশাপাশি ছাগলের পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ খামার চালিয়ে নিতে এখন তিনি নানা সমস্যার মুখোমুখি। বিশেষ করে নিরাপদ পানির অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন কোমরসমান কাদা ও পানি পারি দিয়ে খাল থেকে পানি আনতে হয়, যা তার শারীরিক অবস্থার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

এক ছাগলেই ভাগ্য বদল মমতাজ বেগমেরছাগল পরিচর্যায় ব্যস্ত মমতাজ বেগম ও তার স্বামী/ছবি-জাগো নিউজ

খামারের জন্য উপযুক্ত ঘর এবং জায়গার সংকটও রয়েছে। ভবিষ্যতে ছাগলের সংখ্যা আরও বাড়লে এ সংকট তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন মমতাজ বেগম।

আরও পড়ুন: চাকরি ছেড়ে হলেন কৃষি উদ্যোক্তা, পেলেন সফলতা
মুরগি ও মাছের সমন্বিত খামারে জীবন বদলে গেছে সজীবের
কটাক্ষকে জয় করে কৃষিতে কলেজছাত্র মিনহাজুলের সাফল্য
চাকরি ছেড়ে বাঁশ-বেতের কারুশিল্পে স্বপ্ন গড়লেন সুইটি

মমতাজ বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমার এ ছাগলই এখন আমাদের বাঁচার অবলম্বন। এইগুলা বেচে সংসার চলে। মেয়েদের পড়াশোনা চলে, আমার চিকিৎসাও চলে। কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ায় আগের মতো সবকিছু সামলানো অনেক কষ্টকর হয়ে গেছে। তারপরও হাল ছাড়ি নাই। যত কষ্টই হোক, এই খামার আমি ধরে রাখতে চাই।’

‘আমার এ ছাগলই এখন আমাদের বাঁচার অবলম্বন। এইগুলা বেচে সংসার চলে। মেয়েদের পড়াশোনা চলে, আমার চিকিৎসাও চলে। কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ায় আগের মতো সবকিছু সামলানো অনেক কষ্টকর হয়ে গেছে। তারপরও হাল ছাড়ি নাই। যত কষ্টই হোক, এই খামার আমি ধরে রাখতে চাই’—মমতাজ বেগম

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা পানি। খামারের ছাগলগুলোর জন্য প্রতিদিন অনেক পানি লাগে। কিন্তু বাড়ির পাশে কোনো গভীর নলকূপ নেই। তাই বাধ্য হয়ে কোমরসমান কাদা-পানি পারি দিয়ে খাল পার হয়ে অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি আনতে হয়। আমার এই অসুস্থ শরীরে এই কাজ করা খুবই কষ্টের। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি। যদি একটা নলকূপ থাকতো, তাহলে এই কষ্ট অনেকটা কমে যেতো।’

এক ছাগলেই ভাগ্য বদল মমতাজ বেগমেরবাড়িতে টিউবওয়েল না থাকায় কাদা-পানি মাড়িয়ে পানি আনতে হয় মমতাজ বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের/ছবি-জাগো নিউজ

স্বামী খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমার স্ত্রী অনেক কষ্ট করে এই খামার দাঁড় করাইছে। আমি অসুস্থ থাকায় আগে তেমন কিছু করতে পারতাম না। এখনো যতটা পারি, তাকে সাহায্য করি। আমরা ভালো জাতের পাঁঠা কিনে ছাগলের বংশ বাড়াইছি। তাই বাচ্চাগুলোও ভালো হয়। ভালো দামে বিক্রি করা যায়। ঘর সংকটে প্রতিবছর ছোট থাকতেই ছাগল বিক্রি করে দেই।’

সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‌‘এখন আমাদের বড় সমস্যা জায়গা আর খামারের ঘর। ছাগলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জায়গার সংকট বাড়ছে। সামনে আরও কয়েকটা ছাগল বাচ্চা দেবে। তখন এই সংকট আরও বাড়বে। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করে একটা ভালো ঘর আর জায়গার ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমরা আরও বড় পরিসরে খামার করতে পারবো।’

আরও পড়ুন: বেকার যুবকদের পথ দেখাচ্ছেন উদ্যোক্তা আল-আমিন
শেফালীর নকশিকাঁথায় স্বাবলম্বী আড়াইশো নারী
চলচ্চিত্রের জগৎ ছেড়ে ব্যবসার আঙিনায়, হয়েছেন বর্ষসেরা মাইক্রো উদ্যোক্তা

প্রতিবেশী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘মমতাজ আপার কষ্ট আমরা নিজের চোখে দেখছি। উনি যেভাবে একটার পর একটা ছাগল বাড়াইছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণার। আগে আমরা ভাবতাম, ছাগল পালন করে তেমন কিছু হয় না। কিন্তু এখন দেখি, ঠিকভাবে করলে এইটা দিয়াও সংসার চালানো যায়। আমরাও এখন আগ্রহী হচ্ছি।’

এক ছাগলেই ভাগ্য বদল মমতাজ বেগমেরছাগল পরিচর্যায় ব্যস্ত মমতাজ বেগম ও তার স্বামী/ছবি-জাগো নিউজ

আরেক প্রতিবেশী শামীম হোসেন বলেন, ‘মমতাজ বেগম ৯ হাজার টাকা ধার করে তার জার্নি শুরু করেছেন। এখন লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। তার সংসারের অবস্থা আগের থেকে অনেক ভালো হয়েছে। আমরা তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছি। আমরাও চাই তার মতো স্বাবলম্বী হতে।’

শুধু নিজের ভাগ্য বদল নয়, অন্য নারীদের ভাগ্য বদলানোর পরামর্শও দিয়েছেন এই সংগ্রামী নারী। গ্রামের নারীদের উদ্দেশ করে মমতজা বেগম বলেন, ‘ছাগল পালন খুব কঠিন না। একটু যত্ন নিলেই হয়। আমি চাই, আমার মতো আরও অনেক নারী এগিয়ে আসুক। নিজের পায়ে দাঁড়াক। সংসারে সুখ আসুক।’

এক ছাগলেই ভাগ্য বদল মমতাজ বেগমেরছাগলকে খাওয়াচ্ছেন মমতাজ বেগমের স্বামী খোরশেদ আলম/ছবি-জাগো নিউজ

সফল উদ্যোক্তা মমতাজ বেগমের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসীন সাদেক।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমন সাহসী নারীদের সফলতায় সরকারও অংশ নিতে চায়। আমরা তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো। টিউবওয়েলের জন্য আবেদন করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।’

এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow