এক নজরে দেখে নিন আর্জেন্টিনার সাত বিশ্বকাপ ফাইনালের আদ্যোপান্ত

ফুটবল ইতিহাসে কিছু জাতীয় দল শুধু শিরোপা জেতে না, তারা একটি যুগের পরিচয় হয়ে ওঠে। আর্জেন্টিনা তেমনই একটি নাম। মারিও কেম্পেস, দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে লিওনেল মেসি- প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিশ্বমঞ্চে ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা। ২০২৬ সালে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এটি তাদের ইতিহাসের সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। এই সাতটি ফাইনালের পথচলায় রয়েছে গৌরব, কান্না, বিতর্ক, কিংবদন্তির জন্ম এবং অমর সব স্মৃতি। ১৯৩০ বিশ্বকাপ (উরুগুয়ে) বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম আসরেই ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও-তে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও পিউসেলে ও স্তাবিলের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক উরুগুয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে টানা তিন গোল করে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। ফলে প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে উরুগুয়ে, আর আর্জেন্টিনাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় রানার্সআপ হয়েই। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ৫টি ম্যাচ খেলে জয় পায় ৪টিতে এবং হার এক ম্যাচে। ১৯৭৮ বিশ্বকাপ (আর্জেন্টিনা) ১৯৭৮ সালে

এক নজরে দেখে নিন আর্জেন্টিনার সাত বিশ্বকাপ ফাইনালের আদ্যোপান্ত

ফুটবল ইতিহাসে কিছু জাতীয় দল শুধু শিরোপা জেতে না, তারা একটি যুগের পরিচয় হয়ে ওঠে। আর্জেন্টিনা তেমনই একটি নাম। মারিও কেম্পেস, দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে লিওনেল মেসি- প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিশ্বমঞ্চে ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা। ২০২৬ সালে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এটি তাদের ইতিহাসের সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। এই সাতটি ফাইনালের পথচলায় রয়েছে গৌরব, কান্না, বিতর্ক, কিংবদন্তির জন্ম এবং অমর সব স্মৃতি।

১৯৩০ বিশ্বকাপ (উরুগুয়ে)

বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম আসরেই ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও-তে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও পিউসেলে ও স্তাবিলের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক উরুগুয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে টানা তিন গোল করে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। ফলে প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে উরুগুয়ে, আর আর্জেন্টিনাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় রানার্সআপ হয়েই। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ৫টি ম্যাচ খেলে জয় পায় ৪টিতে এবং হার এক ম্যাচে।

1978

১৯৭৮ বিশ্বকাপ (আর্জেন্টিনা)

১৯৭৮ সালে এসে নিজেদের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে মারিও কেম্পেসের দ্বিতীয় গোল ও বার্তোনির গোল ইতিহাস গড়ে দেয়। মারিও কেম্পেস ছিলেন পুরো টুর্নামেন্টের সেরা নায়ক। ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে হারায় হল্যান্ডকে (বর্তমানে নেদারল্যান্ডস)। টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে ৫টিতেই জয় আদায় করে নেয় আর্জেন্টিনা। ড্র করে একটি ম্যাচ ও পরাজয় একটি ম্যাচে।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ (মেক্সিকো)

এটি ছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ। যদিও ফাইনালে তিনি গোল করেননি; কিন্তু বুরুসাগার জয়সূচক গোলের অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেন তিনি। এটি আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। ফাইনালে আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে হারায় পশ্চিম জার্মানিকে। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনটি গোল করে ব্রাউন, ভালদানো ও বুরুচাগা। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। ৭ ম্যাচের মধ্যে ৬টিতেই জয় পায় এবং ড্র করে ১টি ম্যাচ।

Maradona

১৯৯০ বিশ্বকাপ (ইতালি)

ম্যারাডোনার নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠলেও এবার স্বপ্নভঙ্গ হয়। বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে পশ্চিম জার্মানির ব্রেমের একমাত্র গোলে শিরোপা হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় লাল কার্ডও দেখেন। টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচের মধ্যে ২টি জয়, ৩টি ড্র ও দুইটি হার বরণ করে আর্জেন্টিনা।

২০১৪ বিশ্বকাপ (ব্রাজিল)

লিওনেল মেসির প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল। গঞ্জালো হিগুয়েইনের একাধিক সুযোগ নষ্ট এবং অতিরিক্ত সময়ে ১১৩ মিনিটে আবারো সেই জার্মানির মারিও গোৎসের অসাধারণ গোল আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে দেয়। মেসি জেতেন গোল্ডেন বল; কিন্তু ট্রফি ছুঁতে পারেননি। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ৭ ম্যাচের ৫টি জয়, ১টি ড্র ও ফাইনালে একমাত্র পরাজয় বরণ করে।

২০২২ বিশ্বকাপ (কাতার)

বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল। মেসির জোড়া গোল, এমবাপের হ্যাটট্রিক এবং টাইব্রেকারে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের নায়কোচিত পারফরম্যান্সে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ৩-৩ ব্যবধানে ড্র থাকে। শেষে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় আলবিসেলেস্তারা। টুর্নামেন্টে ৭টি ম্যাচের মধ্যে ৪টি জয়, ১টি হার ও ২টি ড্র করে আর্জেন্টিনা। ড্র করা দুই ম্যাচ পেনাল্টিতে জয় পায় মেসিরা।

Messi

২০২৬ বিশ্বকাপ (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো)

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল। স্পেনের বিপক্ষে জিততে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়বে আর্জেন্টিনা এবং জার্সিতে যুক্ত হবে চতুর্থ তারকা।

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার মোট রেকর্ড (২০২৬ ফাইনালের আগে)

• ফাইনাল খেলেছে: ৭টি (২০২৬ সহ)
• শিরোপা জিতেছে: ৩টি
• রানার্সআপ: ৩ বার
• ২০২৬: ফল অপেক্ষমাণ

ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা’ গোল থেকে মেসির স্বপ্নপূরণ- আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাস আসলে এক অনন্ত আবেগের গল্প। ১৯৭৮ সালে কেম্পেস, ১৯৮৬-তে ম্যারাডোনা এবং ২০২২-এ মেসি- প্রতিটি যুগে একজন মহাতারকা দেশকে শিখরে তুলেছেন।

এবার ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে আর্জেন্টিনা শুধু চতুর্থ বিশ্বকাপই জিতবে না, ফুটবল ইতিহাসে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম দল হিসেবে ৬৪ বছর পর নতুন এক সোনালি অধ্যায়ও রচনা করবে।

আরআর/আইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow