এক বছরেও চালু হয়নি মধ্যনগরে ভূমি অফিস
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা, দক্ষিণ ও উত্তর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নতুন ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি গত বছরের জুলাই (২০২৫) মাসে মহিষখলা বাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও এখনো শুরু হয়নি কার্যকর সেবা কার্যক্রম। প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভূমি অফিস থেকে কোনো ধরনের সরকারি সেবা না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিস ভবন নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ এবং জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে জমি নামজারি, খাজনা পরিশোধ, ভূমি উন্নয়ন কর, রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে এখনো তাদের যেতে হচ্ছে পুরনো মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষকে আরও বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই জানান, নতুন ভূমি অফিস চালু হওয়ার খবরে তারা আশাবাদী হলেও বাস্তবে কোনো সুফল পাচ্ছেন না। দ্রুত অফিসটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন ভূমি অফিসটিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা, দক্ষিণ ও উত্তর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নতুন ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি গত বছরের জুলাই (২০২৫) মাসে মহিষখলা বাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও এখনো শুরু হয়নি কার্যকর সেবা কার্যক্রম।
প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভূমি অফিস থেকে কোনো ধরনের সরকারি সেবা না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিস ভবন নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ এবং জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে জমি নামজারি, খাজনা পরিশোধ, ভূমি উন্নয়ন কর, রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে এখনো তাদের যেতে হচ্ছে পুরনো মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষকে আরও বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই জানান, নতুন ভূমি অফিস চালু হওয়ার খবরে তারা আশাবাদী হলেও বাস্তবে কোনো সুফল পাচ্ছেন না। দ্রুত অফিসটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন ভূমি অফিসটিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল থাকলেও এখনো প্রাতিষ্ঠানিক কোড বরাদ্দ না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক এ জটিলতার কারণে অফিসটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা নিরসন করে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
গোলাপপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আমিনুল এহসান বলেন, আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি আলাদা ভূমি অফিস। অফিস ভবন হয়েছে, লোকবলও আছে, কিন্তু সেবা নেই। প্রতিটি কাজের জন্য এখনো মধ্যনগরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
বংশীকুন্ডা গ্রামের মো. সুমন মিয়া বলেন, নতুন অফিস চালু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম ভোগান্তি কমবে। কিন্তু এখনো আগের মতোই দূরে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত অফিসটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হোক।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ও উত্তর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন ভূমি অফিস স্থাপন করা হয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কোড অনুমোদন না পাওয়ায় এখনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, অচিরেই অফিসটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হবে এবং এলাকাবাসী কাঙ্ক্ষিত ভূমি সেবা নিজ এলাকাতেই পাবেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক কোড অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে জনগণ দ্রুত সেবা পেতে পারেন।
What's Your Reaction?