এক মাস কর্টিসল ককটেল পান করলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা ট্রেন্ড প্রায়ই ভাইরাল হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘কর্টিসল ককটেল’ নামে একটি পানীয়। দাবি করা হচ্ছে, এটি শরীরের স্ট্রেস লেভেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, সকালের ক্লান্তি দূর করে এবং সারাদিনের শক্তি বাড়ায়। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্লগে এই পানীয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কর্টিসল ককটেল কি সত্যিই এতটা কার্যকর? আর এক মাস ধরে প্রতিদিন এটি পান করলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে? কর্টিসল ককটেল কী? কর্টিসল ককটেল মূলত একটি সহজ পানীয়, যা ইলেক্ট্রোলাইট, ভিটামিন সি এবং খনিজ উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করা, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সকালে শক্তি ফিরিয়ে আনা। সাধারণত এই পানীয় তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এক গ্লাস পানি, এক চিমটি সামুদ্রিক লবণ, ভিটামিন সি পাউডার বা কমলার রস, লেবুর রস এবং কখনো কখনো ডাবের পানি । অনেকেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কফি বা নাস্তার আগে এটি পান করেন। কর্টিসল কেন গুরুত্বপূর্ণ? কর্টিসলকে সাধারণত ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়। তবে এর কাজ শুধু
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা ট্রেন্ড প্রায়ই ভাইরাল হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘কর্টিসল ককটেল’ নামে একটি পানীয়। দাবি করা হচ্ছে, এটি শরীরের স্ট্রেস লেভেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, সকালের ক্লান্তি দূর করে এবং সারাদিনের শক্তি বাড়ায়। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্লগে এই পানীয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কর্টিসল ককটেল কি সত্যিই এতটা কার্যকর? আর এক মাস ধরে প্রতিদিন এটি পান করলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে?
কর্টিসল ককটেল কী?
কর্টিসল ককটেল মূলত একটি সহজ পানীয়, যা ইলেক্ট্রোলাইট, ভিটামিন সি এবং খনিজ উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করা, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সকালে শক্তি ফিরিয়ে আনা।
সাধারণত এই পানীয় তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এক গ্লাস পানি, এক চিমটি সামুদ্রিক লবণ, ভিটামিন সি পাউডার বা কমলার রস, লেবুর রস এবং কখনো কখনো ডাবের পানি । অনেকেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কফি বা নাস্তার আগে এটি পান করেন।
কর্টিসল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কর্টিসলকে সাধারণত ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়। তবে এর কাজ শুধু মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ঘুম-জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্বাভাবিক অবস্থায় সকালে কর্টিসলের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে, যা আমাদের ঘুম থেকে জাগতে এবং দিনের কাজ শুরু করতে সাহায্য করে। কিন্তু দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব বা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে কর্টিসলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ক্লান্তি, উদ্বেগ, ওজন বৃদ্ধি এবং নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উপাদানগুলো কি সত্যিই উপকারী?
কর্টিসল ককটেল নিয়ে সরাসরি কোনো বড় গবেষণা না থাকলেও এর উপাদানগুলো নিয়ে আলাদা আলাদা গবেষণায় কিছু ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে।
ইলেক্ট্রোলাইট
ইলেক্ট্রোলাইট শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে মেজাজ ভালো থাকতে পারে এবং ক্লান্তি কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে যারা সকালে ডিহাইড্রেশনের শিকার হন, তাদের জন্য ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় উপকারী হতে পারে।
ভিটামিন সি
ভিটামিন সি শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, এটি শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে শরীরের স্ট্রেস পরিস্থিতিতে কর্টিসলের প্রতিক্রিয়া কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। ফলে মানসিক চাপের সময় শরীর তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম
ম্যাগনেসিয়ামকে প্রায়ই ‘রিল্যাক্সেশন মিনারেল’ বলা হয়। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে এবং পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ শরীরে কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
এক মাস ধরে প্রতিদিন পান করলে কী হতে পারে?
যদি প্রতিদিন সকালে কর্টিসল ককটেল পান করা হয়, তাহলে অনেকেই শরীরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে সকালে দ্রুত সতেজ অনুভব করা, ডিহাইড্রেশন কমে যাওয়া, শক্তি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া এবং সারাদিন তুলনামূলকভাবে ভালো থাকা।
যারা পর্যাপ্ত পানি পান করেন না বা খাদ্যতালিকায় খনিজ উপাদানের ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই পানীয় কিছু বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে হারানো ইলেক্ট্রোলাইট পূরণে এটি সহায়ক হতে পারে।
তবে এটি কোনো জাদুকরি পানীয় নয়। শুধু কর্টিসল ককটেল পান করলেই মানসিক চাপ দূর হবে বা কর্টিসলের মাত্রা নাটকীয়ভাবে কমে যাবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। স্বাস্থ্যকর ঘুম, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাসই কর্টিসল নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
যদিও এই পানীয়ের বেশিরভাগ উপাদান নিরাপদ, তবুও অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত ভিটামিন সি পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া বা হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। তাই কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যা থাকলে নিয়মিত এই পানীয় পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: ওয়েবএমডি , টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?

