এক মৌসুমেই ৯০৪ কোটি মিনিট ফুটবল দেখেছেন ভারতীয় দর্শকরা!
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয়তা কী পরিমানে বেড়েছে, তার নতুন প্রমাণ মিলেছে এক গবেষণায়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশটির দর্শকেরা সব মিলিয়ে ৯.০৪ বিলিয়ন মিনিট, অর্থাৎ প্রায় ৯০৪ কোটি মিনিট প্রিমিয়ার লিগের ফুটবল দেখেছেন তারা। শুধু টেলিভিশনে ম্যাচ দেখার সময়ই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। ‘দ্য বিউটিফুল গেম’স ইন্ডিয়ান ডেকেড’ শীর্ষক গবেষণাটি করা হয়েছে নিলসেনের সঙ্গে অংশীদারত্বে, যেখানে ভারতের ফুটবল দর্শকদের গত এক দশকের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় বিএআরসি-র তথ্য ও নিলসেনের ভোক্তা গবেষণার সমন্বয় করা হয়েছে। এর চিত্র বলছে, ভারতে প্রিমিয়ার লিগ এখন আর শুধু শহুরে ফুটবলপ্রেমীদের বিনোদন নয়; বরং এটি বিশাল এক জাতীয় দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছে। পাঁচ বছরে দর্শক ২.৪ গুণ ভারতে প্রিমিয়ার লিগের সম্মিলিত রিচ গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ২.৪ গুণ। বর্তমানে দেশটিতে ইংলিশ লিগটির অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি ৪৫ লাখ। এই বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় দিকগুলোর একটি হলো- প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু বা অন্য বড় শহরকেন্দ্রিক নয়। ভারতের ছোট শহর ও অপেক্ষাকৃত কম নগরায়িত রাজ্যগুলোতেও লিগটির দর
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয়তা কী পরিমানে বেড়েছে, তার নতুন প্রমাণ মিলেছে এক গবেষণায়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশটির দর্শকেরা সব মিলিয়ে ৯.০৪ বিলিয়ন মিনিট, অর্থাৎ প্রায় ৯০৪ কোটি মিনিট প্রিমিয়ার লিগের ফুটবল দেখেছেন তারা। শুধু টেলিভিশনে ম্যাচ দেখার সময়ই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।
‘দ্য বিউটিফুল গেম’স ইন্ডিয়ান ডেকেড’ শীর্ষক গবেষণাটি করা হয়েছে নিলসেনের সঙ্গে অংশীদারত্বে, যেখানে ভারতের ফুটবল দর্শকদের গত এক দশকের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় বিএআরসি-র তথ্য ও নিলসেনের ভোক্তা গবেষণার সমন্বয় করা হয়েছে। এর চিত্র বলছে, ভারতে প্রিমিয়ার লিগ এখন আর শুধু শহুরে ফুটবলপ্রেমীদের বিনোদন নয়; বরং এটি বিশাল এক জাতীয় দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছে।
পাঁচ বছরে দর্শক ২.৪ গুণ
ভারতে প্রিমিয়ার লিগের সম্মিলিত রিচ গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ২.৪ গুণ। বর্তমানে দেশটিতে ইংলিশ লিগটির অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি ৪৫ লাখ।
এই বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় দিকগুলোর একটি হলো- প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু বা অন্য বড় শহরকেন্দ্রিক নয়। ভারতের ছোট শহর ও অপেক্ষাকৃত কম নগরায়িত রাজ্যগুলোতেও লিগটির দর্শক দ্রুত বাড়ছে।
রাজস্থান, বিহার-ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্য পাঁচ বছর আগে মোট দর্শকের প্রায় ১২ শতাংশের জোগান দিত। এখন সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশে। অর্থাৎ এই অঞ্চলগুলোতে প্রিমিয়ার লিগের দর্শকসংখ্যা বেড়েছে ২০০ শতাংশেরও বেশি।
একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও। এক মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার শহরগুলো থেকে মোবাইল ও ওয়েব প্ল্যাটফর্মে মোট দর্শনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে। কানেক্টেড টিভির ক্ষেত্রে এই শহরগুলোর অবদান আরও বেশি- প্রায় ৬৩ শতাংশ।
অর্থাৎ ভারতের ফুটবল দর্শকের বড় একটি অংশ এখন আর কেবল ঐতিহ্যবাহী মহানগরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং স্মার্ট টিভির বিস্তার প্রিমিয়ার লিগকে পৌঁছে দিয়েছে দেশের নতুন নতুন দর্শকের কাছে।
প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পেছনে আন্তর্জাতিক ফুটবলেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলো ক্লাব ফুটবলের তারকাদের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, ফ্রান্স, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য দেশের হয়ে খেলা প্রিমিয়ার লিগের তারকাদের নতুন করে চিনতে পারেন দর্শকেরা। জাতীয় দলের জার্সিতে তাদের পারফরম্যান্স দেখার পর সেই আগ্রহই পরে ফিরে আসে ক্লাব ফুটবলে।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের পরের মৌসুমে ভারতে প্রিমিয়ার লিগের দর্শকসংখ্যা বেড়েছিল ৫৮ শতাংশ। এরপরও ধারাবাহিকভাবে দ্বি-অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে লিগটি।
অর্থাৎ বিশ্বকাপ শুধু এক মাসের ফুটবল উন্মাদনা তৈরি করে থেমে যায়নি; বরং সেটি পরবর্তী প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের জন্য নতুন দর্শক তৈরি করেছে।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রিমিয়ার লিগের ভারতীয় দর্শকদের আর্থিক সক্ষমতা। গবেষণায় তাদের ভারতের অন্যতম ‘প্রিমিয়াম’ ভোক্তা শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ প্রিমিয়ার লিগ ভক্তের মাসিক ক্রেডিট কার্ড বিল ৪০ হাজার রুপির বেশি। ৬৭ শতাংশের সিআইবিআইএল স্কোর ৭৫১ বা তার ওপরে, যা তাদের শক্তিশালী ক্রেডিট প্রোফাইলের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি ৮৭ শতাংশ দর্শক ওটিটি, মিউজিক কিংবা স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মের পেইড সাবস্ক্রাইবার।
অর্থাৎ প্রিমিয়ার লিগের দর্শকেরা শুধু সংখ্যায় বড় নন; বিজ্ঞাপনদাতা, ব্র্যান্ড ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাছেও তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভোক্তা শ্রেণি।
প্রিমিয়ার লিগের ভারতীয় দর্শকদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তাদের ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিউয়িং’ সংস্কৃতি। আগস্ট থেকে মে- একটি মৌসুমে ৩৮০টি ম্যাচ। এর মধ্যে দর্শকরা শুধু সরাসরি ম্যাচই দেখেন না, ম্যাচের হাইলাইটস দেখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা করেন এবং নিজেদের পছন্দের ক্লাব ও খেলোয়াড়কে ঘিরে নানা ধরনের কনটেন্টে যুক্ত থাকেন।
ভারতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের সময়ও এই উন্মাদনার একটি বড় কারণ। ইংল্যান্ডের সঙ্গে সময়ের পার্থক্যের কারণে অনেক ম্যাচ শুরু হয় গভীর রাতে।
গবেষণা বলছে, মোট দর্শন সময়ের ২৭ শতাংশই আসে রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে। অর্থাৎ ভারতীয় দর্শকের বিশাল একটি অংশ কাজ কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা শেষে গভীর রাতেও প্রিমিয়ার লিগের খেলা দেখেন।
এখানেই ফুটবলটির সঙ্গে দর্শকের সম্পর্কের গভীরতাটা স্পষ্ট হয়। এটি কেবল অবসর কাটানোর বিনোদন নয়; অনেকের কাছে সপ্তাহজুড়ে অপেক্ষা করে থাকার মতো একটি নিয়মিত অভ্যাস।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যানগুলো একটি বিষয় পরিষ্কার করে- ভারতে প্রিমিয়ার লিগের গল্প এখন শুধু ‘ফুটবল জনপ্রিয় হচ্ছে’- এতটুকুতে আটকে নেই। বরং ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতাগুলোর একটি সেখানে তৈরি করেছে বিশাল, বিস্তৃত এবং ক্রমবর্ধমান এক দর্শকসমাজ।
শহর থেকে ছোট শহর, টেলিভিশন থেকে মোবাইল, ম্যাচ সম্প্রচার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- সব জায়গাতেই বাড়ছে প্রিমিয়ার লিগের উপস্থিতি। আর বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরগুলো সেই আগ্রহকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দিচ্ছে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে ৯.০৪ বিলিয়ন মিনিটের দর্শন সময় তাই নিছক একটি সংখ্যা নয়। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ভারতের ফুটবল বাজারের দ্রুত বদলে যাওয়ার গল্প- যেখানে প্রিমিয়ার লিগ এখন শুধু বিদেশি একটি ফুটবল লিগ নয়, বরং কোটি কোটি ভারতীয় দর্শকের সাপ্তাহিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?