একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে : অধ্যাপক আলী রীয়াজ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশে একটি জবাবদিহি মূলক রাজনৈতিক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘গণভোট-২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে বলে উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাস আলোচনা করার পরেও গণভোট প্রয়োজন কেন? কারণ সবাই রাজনৈতিক দল না, এর বাহিরেও অনেক মানুষ রয়েছে। এই সুযোগ এত হেলায় কাটানো যাবে না। অনেক সংগ্রামের পর আমরা এ জায়গায় এসেছি।  তিনি আরও বলেন, আগামী সাত দিনে কী করা দরকার আমি আজকে এটাই জানাবে। উত্তরবঙ্গে ১০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে দেড় লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এসব শিক্ষার্থীরা যদি পাঁচজন করেও গ্রামাঞ্চলের মানুষকে গণভোট সম্পর্কে জানায় তাহলে এটি খুব একটা দুরূহ কাজ হবে না। যারা বলছেন এসি রুমে বসে গণভোট নিয়ে কী করা যাবে, তাদের সঙ্গে আমি একমত। আপনারাও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে জনগণ

একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে : অধ্যাপক আলী রীয়াজ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশে একটি জবাবদিহি মূলক রাজনৈতিক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘গণভোট-২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে বলে উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাস আলোচনা করার পরেও গণভোট প্রয়োজন কেন? কারণ সবাই রাজনৈতিক দল না, এর বাহিরেও অনেক মানুষ রয়েছে। এই সুযোগ এত হেলায় কাটানো যাবে না। অনেক সংগ্রামের পর আমরা এ জায়গায় এসেছি। 

তিনি আরও বলেন, আগামী সাত দিনে কী করা দরকার আমি আজকে এটাই জানাবে। উত্তরবঙ্গে ১০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে দেড় লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এসব শিক্ষার্থীরা যদি পাঁচজন করেও গ্রামাঞ্চলের মানুষকে গণভোট সম্পর্কে জানায় তাহলে এটি খুব একটা দুরূহ কাজ হবে না। যারা বলছেন এসি রুমে বসে গণভোট নিয়ে কী করা যাবে, তাদের সঙ্গে আমি একমত। আপনারাও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে জনগণকে বুঝান, যেন গণভোটের পক্ষে থাকে। 

মতবিনিময় সভায় উপস্থিতিদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, গণভোটকে শুধু অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব বলে মনে করবেন না। বাংলাদেশের মানুষ কী পরিমাণ অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেছে তা আমরা জানি। গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেন, যার সবচেয়ে বড় কারণ শেখ হাসিনা চায়নি আপনি-আমি ভোট দিই। এসব কারণেই জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে,- ক্ষমতাসীন সরকার ও দুই বিরোধী সরকার একত্র হয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন ব্যবস্থা করতে হবে। 

তিনি বলেন, আজকের এই দিনে এসেও পিএসসি স্বাধীন না। হালের গরু বিক্রি করে একজন বাবা কষ্ট করে তার সন্তানকে পড়াশোনা করায়। কিন্তু ছাত্রলীগের কারণে ওই সন্তানের সরকারি চাকরির মুখ দেখা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে বিরোধী সরকার দমন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সংবিধানটাকে ছেলেখেলা বানানো হয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ পরিবর্তন হতে চায়, এর সবচেয়ে দারুণ উদাহরণ হলো তরুণরা জুলাইতে মাঠে নেমে এসেছে। যদি আমি-আপনি এই জুলাই শহিদদের কোনো দায় অনুভব করি তাহলে গণভোট নিয়ে সবাইকে জানানো উচিত। 

সভাপতির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, আমি ভোট দিতে যাব মূলত গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার জন্য। আমাদের হাজারো সন্তানের যে রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ আমাদের সামনে এনে দিয়েছে। তাদের কথা স্মরণ করে আমরা যতটুকু করতে পারি তার মধ্যে একটি হলো গণভোটে হ্যাঁ দেওয়া। 

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি ’২৪-এর জুলাই-আগস্টকে স্মরণ করি, তাহলে এটাকে সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটাই হচ্ছে এই গণভোটের প্রস্তুতি। গণভোটের কোনো মার্কা নেই, আমার নিজের মনের ভেতর গভীরে একটা গণভোটের মার্কা আছে। সেই মার্কা হলো লাল, যা আমাদের সন্তানদের রক্তের চিহ্ন। কাজেই হ্যাঁ ভোট মানেই হলো আমাদের সন্তানদের রক্তের ঋণ শোধ করা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, উপউপাচার্য (শিক্ষা) ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার, রেজিস্ট্রার ইফতিখারুল আলম মাসউদ। 

এছাড়াও রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১১টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দসহ দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow