একদিন আগেও ছিল ঘর, আজ আশ্রয় ফ্লাইওভারের নিচে

সোমবারও মাথার ওপর ছিল টিনের ছাউনি। ছোট ছোট ঘরজুড়ে ছিল সংসার, জীবিকার সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার স্বপ্ন। কিন্তু ভয়াবহ আগুনে সব হারিয়ে এখন কালশী ফ্লাইওভারের নিচেই ঠাঁই নিয়েছেন বাউনিয়াবাঁধ বস্তির বহু মানুষ। পাশে পড়ে আছে বস্তাবন্দি সামান্য কিছু মালামাল, চোখেমুখে অনিশ্চয়তা আর ক্লান্তির ছাপ। রাত থেকেই ফ্লাইওভারের নিচে অর্ধশত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ফ্লাইওভারের উল্টো পাশেই বসেছে গরুর হাট। কয়েকটি গরু-ছাগল বাধা রয়েছে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর কাছেই। পশুর বর্জ্য, আবর্জনা সঙ্গে নিয়ে ফ্লাইওভারের নিচে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান নিয়েছে। কেউ মাটিতে বসে আছেন, কেউ পোড়া মালামাল পাহারা দিচ্ছেন। শিশুদের কেউ খালি গায়ে ঘুরছে, কেউ মায়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে আছে অসহায়ত্বের এক নিঃশব্দ দৃশ্য। সকালে তুমুল বৃষ্টি শুরু হলে অন্ধকার হয়ে যায় ফ্লাইওভারের নিচের পরিসর। বৃষ্টিতে ভিজে যান অনেকেই। কেউ আবার বৃষ্টির পানি থেকে বাচঁতে প্লাস্টিকের পলিথিন, বস্তা জড়িয়ে বসে আছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের পর কিছু

একদিন আগেও ছিল ঘর, আজ আশ্রয় ফ্লাইওভারের নিচে

সোমবারও মাথার ওপর ছিল টিনের ছাউনি। ছোট ছোট ঘরজুড়ে ছিল সংসার, জীবিকার সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার স্বপ্ন। কিন্তু ভয়াবহ আগুনে সব হারিয়ে এখন কালশী ফ্লাইওভারের নিচেই ঠাঁই নিয়েছেন বাউনিয়াবাঁধ বস্তির বহু মানুষ। পাশে পড়ে আছে বস্তাবন্দি সামান্য কিছু মালামাল, চোখেমুখে অনিশ্চয়তা আর ক্লান্তির ছাপ।

রাত থেকেই ফ্লাইওভারের নিচে অর্ধশত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ফ্লাইওভারের উল্টো পাশেই বসেছে গরুর হাট। কয়েকটি গরু-ছাগল বাধা রয়েছে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর কাছেই। পশুর বর্জ্য, আবর্জনা সঙ্গে নিয়ে ফ্লাইওভারের নিচে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান নিয়েছে। কেউ মাটিতে বসে আছেন, কেউ পোড়া মালামাল পাহারা দিচ্ছেন। শিশুদের কেউ খালি গায়ে ঘুরছে, কেউ মায়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে আছে অসহায়ত্বের এক নিঃশব্দ দৃশ্য।

jagonews24.com

সকালে তুমুল বৃষ্টি শুরু হলে অন্ধকার হয়ে যায় ফ্লাইওভারের নিচের পরিসর। বৃষ্টিতে ভিজে যান অনেকেই। কেউ আবার বৃষ্টির পানি থেকে বাচঁতে প্লাস্টিকের পলিথিন, বস্তা জড়িয়ে বসে আছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের পর কিছু খাবার সহায়তা মিললেও এখনো স্থায়ী আশ্রয় বা পুনর্বাসনের কোনো নিশ্চয়তা পাননি তারা। ফলে একদিন আগেও যাদের মাথার ওপর একটি ছাদ ছিল, আজ তারা খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত জীবনের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

উচ্ছেদে বাধার ৫ দিন পর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন 
১২৩ ফায়ার ফাইটারের সঙ্গে আগুন যুদ্ধে কাঁধ মিলিয়েছিল জনতা 

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে তারা।

স্থানীয়দের দাবি, আগুনে শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে।

এর আগে গত ২০ মে সরকারি জমি উদ্ধারে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ওইদিন উচ্ছেদ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছিল, অভিযানের সময় স্থানীয়রা পুলিশের ওপর হামলা চালালে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন সদস্য আহত হন।

মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার সেদিন বলেছিলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল। 

ফ্লাইওভারের নিচে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ভাষ্য, আগুন তাদের শুধু ঘরই পোড়ায়নি, কেড়ে নিয়েছে নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার শেষ ভরসাটুকুও। কেউ সন্তানদের নিয়ে সারারাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন, কেউ জানেন না আগামীকাল কোথায় যাবেন।

মোতালেব নামে একজন জানান, বস্তিতে তার একটা দোকান, গোডাউন ও ৩টা ঘর পুড়ে গেছে। আগুন লাগার পর এক কাপড়ে পরিবারসহ বের হয়ে আসতে হয়েছে। আগুনের তাপে বস্তিতে কেউ থাকতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা বের হয়ে যেতে বলেছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে অর্ধেকের বেশি ঘর পুড়ে গেছে। বস্তিজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পোড়া টিন, কাঠ, কাপড়সহ নানান সামগ্রী।

jagonews24.com

বস্তির বাসিন্দা সাদিকুর রহমান প্রায় ১০ বছর ধরে এখানে থাকেন।। স্ত্রী ও ১৪ বছরের মেয়েকে নিয়ে একটি ছোট ঘরেই ছিল তার সংসার। সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে চলছিল জীবন। এখন সেই ঘর নেই, আশ্রয় হয়েছে ফ্লাইওভারের নিচে।

মাটিতে বসে তিনি বলেন, ‘গতকালও একটা ঘর আছিল। ছোট হইলেও নিজের ছিল। আজ পরিবার নিয়ে রাস্তায় বসে আছি। মেয়েটারে নিয়াই বেশি চিন্তা। আগুন লাগার পর কিছুই বাইর করতে পারি নাই। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে এইখানে। এখন কোথায় যাবো, কী করবো, কিছুই বুঝতেছি না। একই জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন রামিসা বেগম। তিনি পল্লবীর বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। আগুনে তার ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে। পাশে রাখা কয়েকটি বস্তা দেখিয়ে তিনি বলেন, এইগুলো ছাড়া আর কিছু নাই। মানুষের বাসায় কাজ করি, যা পাই তা দিয়ে সংসার চালাই। এখন থাকার জায়গাও নাই। রাইতে এইখানেই থাকছি।’

ফ্লাইওভারের নিচে কেউ ইট জোগাড় করে অস্থায়ী চুলা বানানোর চেষ্টা করছেন। কেউ বাচ্চাদের নিয়ে বসে আছেন, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করছেন আশ্রয়ের খোঁজে। অনেকের চোখে ঘুম নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা স্পষ্ট। কেউ বস্তা বিছিয়ে শুয়ে আছেন।

আকাশ নামে একজন বলেন, ‘ঘর গেছে, জিনিসপত্র গেছে। আফসোস নেই। এইগুলো আবার হবে, জীবন আছে। পরিবারের কারও ক্ষতি হয় নাই। জীবন থেমে থাকবো না। কিছু একটা হবেই।’

এসএম/এসএনআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow