একদিনেই ৬৪০ কোটি টাকার সম্পদ হারালেন ফেদেরার
শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনের প্রভাব পড়েছে রজার ফেদেরারের সম্পদে। সুইস ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অন হোল্ডিংয়ের শেয়ারের মূল্য একদিনেই প্রায় ১৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় সাবেক টেনিস তারকার আনুমানিক সম্পদ নেমে এসেছে ৯৫২.৪ মিলিয়ন ডলারে (১১ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা প্রায়)। ফলে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া ফেদেরার আবারও চলে গেলেন সেই তালিকার বাইরে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিনের মাঝামাঝি সময়ে ফেদেরারের সম্পদের মূল্য এক ধাক্কায় কমেছে অন্তত ৫২ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা। তবে এই অর্থ ফেদেরারের হাতে থাকা নগদ অর্থের সরাসরি ক্ষতি নয়; মূলত অন হোল্ডিংয়ের শেয়ারের বাজারমূল্য কমে যাওয়াতেই তার মোট সম্পদের হিসাব কমেছে। অন হোল্ডিংয়ের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের পরই শেয়ারবাজারে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কোম্পানিটির আয় বেড়েছে, মুনাফাতেও বড় উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় মোট বিক্রি কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। এর জেরেই একপর্যায়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ পড়ে যায়। দ্বিতী
শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনের প্রভাব পড়েছে রজার ফেদেরারের সম্পদে। সুইস ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অন হোল্ডিংয়ের শেয়ারের মূল্য একদিনেই প্রায় ১৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় সাবেক টেনিস তারকার আনুমানিক সম্পদ নেমে এসেছে ৯৫২.৪ মিলিয়ন ডলারে (১১ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা প্রায়)। ফলে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া ফেদেরার আবারও চলে গেলেন সেই তালিকার বাইরে।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিনের মাঝামাঝি সময়ে ফেদেরারের সম্পদের মূল্য এক ধাক্কায় কমেছে অন্তত ৫২ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা। তবে এই অর্থ ফেদেরারের হাতে থাকা নগদ অর্থের সরাসরি ক্ষতি নয়; মূলত অন হোল্ডিংয়ের শেয়ারের বাজারমূল্য কমে যাওয়াতেই তার মোট সম্পদের হিসাব কমেছে।
অন হোল্ডিংয়ের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের পরই শেয়ারবাজারে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কোম্পানিটির আয় বেড়েছে, মুনাফাতেও বড় উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় মোট বিক্রি কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। এর জেরেই একপর্যায়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ পড়ে যায়।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে অন হোল্ডিংয়ের নিট বিক্রি হয়েছে ৮৫০.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যা প্রায় ১.০৪ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। কিন্তু বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ৮৭৮.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ১.০৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ কোম্পানিটি প্রত্যাশিত বিক্রির লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
তবে সব সূচকই যে খারাপ ছিল, তা নয়। বরং মুনাফার হিসাবে কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অন হোল্ডিংয়ের নিট মুনাফা হয়েছে ১২৯.৪ মিলিয়ন ডলার। অথচ আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি প্রায় ৫০.৪ মিলিয়ন ডলার লোকসান করেছিল।
কোম্পানিটির মোট মুনাফার হারও বেড়েছে। আগের বছরের ৬১.৫ শতাংশ থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫.৪ শতাংশে। এই ফলাফলের পর পুরো বছরের জন্যও মুনাফার মার্জিনের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করেছে অন হোল্ডিং।
কোম্পানিটির শেয়ারের সঙ্গে ফেদেরারের সম্পদের সম্পর্ক বেশ গভীর। ফোর্বসের অনুমান অনুযায়ী, অন হোল্ডিংয়ের প্রায় ২.৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে ফেদেরারের। বিভিন্ন শ্রেণির শেয়ার মিলিয়ে এই অংশীদারত্বই গত বছর তার সম্পদের মূল্য ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
ফেদেরার ২০১৯ সালে অন হোল্ডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব রয়েছে বলে কোম্পানিটি উল্লেখ করে থাকে। শুধু বিনিয়োগকারী হিসেবেই নয়, পণ্য উন্নয়ন ও ব্র্যান্ডের কৌশল নির্ধারণেও ফেদেরার যুক্ত ছিলেন।
টেনিস কোর্টের বাইরেও নিজের ব্র্যান্ডমূল্যকে কাজে লাগিয়েছেন ২০টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই কিংবদন্তি। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়জুড়ে ইউনিক্লোর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার কোটি কোটি ডলারের পৃষ্ঠপোষকতা চুক্তি ছিল। ফলে খেলা থেকে আয় করা অর্থের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ এবং বিনিয়োগ থেকেই তার সম্পদের বড় অংশ তৈরি হয়েছে।
৪৪ বছর বয়সী ফেদেরার ২০২২ সালে পেশাদার টেনিসকে বিদায় জানান। ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে পুরস্কার অর্থ হিসেবেই তিনি আয় করেছেন আনুমানিক ১৩১ মিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ চুক্তি।
কোর্টে তার সাফল্যও ছিল অসাধারণ। ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বাজারযোগ্য ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন ফেদেরার। অবসরের পরও সেই বাণিজ্যিক মূল্য ধরে রেখেছেন তিনি। বরং বিনিয়োগ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তার সম্পদ আরও বাড়িয়েছে।
তাই অন হোল্ডিংয়ের শেয়ারের এই দরপতনকে ফেদেরারের জন্য স্থায়ী আর্থিক ক্ষতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ শেয়ারের দাম বাড়লে তার সম্পদের হিসাবও আবার বাড়বে। বর্তমানে আনুমানিক ৯৫২.৪ মিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে তিনি বিলিয়নিয়ার হওয়ার সীমারেখা থেকে মাত্র ৪৭.৬ মিলিয়ন ডলার দূরে।
অর্থাৎ শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি একটু ঘুরে দাঁড়ালেই আবারও ১ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ফিরতে পারেন টেনিসের এই কিংবদন্তি।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?