এখন থেকে কি যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা শেষেই দেশে ফিরতে হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অবারিত সুযোগে ধাক্কা দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী বা স্টুডেন্ট ভিসায় বড় পরিবর্তন এনেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কয়েক দশক ধরে চলে আসা পুরোনো নিয়ম বাতিল করে এই ভিসার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে আর অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা যাবে না। এতদিন পড়ালেখা শেষ হওয়ার পর এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন বা অন্য কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৬০ দিন সময় পেতেন। নতুন নিয়মে এই গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় ৬০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, তবে তাকে নতুন করে আবেদন করতে হবে। অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবারও ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে তাকে সরাসরি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিজ্ঞেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) কাছে আবেদন করতে হবে। এই আবেদন পর্যালোচনার সময় আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য পরীক্ষার পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড ও নিরাপত্তা যাচাইয়

এখন থেকে কি যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা শেষেই দেশে ফিরতে হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অবারিত সুযোগে ধাক্কা দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী বা স্টুডেন্ট ভিসায় বড় পরিবর্তন এনেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কয়েক দশক ধরে চলে আসা পুরোনো নিয়ম বাতিল করে এই ভিসার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে আর অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা যাবে না।

এতদিন পড়ালেখা শেষ হওয়ার পর এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন বা অন্য কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৬০ দিন সময় পেতেন। নতুন নিয়মে এই গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় ৬০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, তবে তাকে নতুন করে আবেদন করতে হবে। অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবারও ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

যদি কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে তাকে সরাসরি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিজ্ঞেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) কাছে আবেদন করতে হবে। এই আবেদন পর্যালোচনার সময় আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য পরীক্ষার পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের কঠোর ধাপ পার হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন এই নিয়ম জারি করেছে। নতুন এই নিয়ম ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর থেকে কার্যকর হবে, যার আগে নিয়মটি কংগ্রেসের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে।

ভিসার মেয়াদ ও নতুন সময়সীমা

ঘোষণা অনুযায়ী, ভিসা ব্যবস্থায় প্রধান যে পরিবর্তনগুলো আসছে তা নিচে দেওয়া হলো:

শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী: শিক্ষার্থী (এফ ভিসা) ও বিনিময় দর্শনার্থীরা (জে ভিসা) সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন।

সাধারণ সাংবাদিক: সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ হবে মাত্র ২৪০ দিন।

চীনা সাংবাদিক: চীনা সাংবাদিকদের জন্য এই সময়সীমা আরও কমিয়ে মাত্র ৯০ দিন করা হয়েছে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৭৮ সাল থেকে চলে আসা পুরোনো ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অনেকেই দশকের পর দশক ধরে ‘চিরস্থায়ী ছাত্র’ সেজে অবস্থান করছিলেন। এতে মার্কিন নাগরিকদের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছিল এবং রাষ্ট্রের করদাতাদের কোটি কোটি ডলার অপচয় হচ্ছিল।

ডিএইচএস-এর তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো একের পর এক নতুন কোর্সে ভর্তি হয়ে দেশটিতে অবস্থান করছেন। নতুন নিয়মে এই জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অপব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে দাবি করেছেন ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। নতুন এই নিয়মের ফলে তারা বেশ কিছু সংকটের মুখোমুখি হবেন:

গবেষণায় জটিলতা

দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও পিএইচডি কোর্সের মেয়াদ সাধারণত চার বছরের বেশি হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত

নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীরা চাইলেই সহজে এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কোর্স থেকে অন্যটিতে চলে যেতে পারবেন না। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এই নিয়ম অত্যন্ত কঠোর হবে।

চাকরি খোঁজার চাপ

গ্রেস পিরিয়ড ৩০ দিন করার কারণে স্নাতক শেষ করেই তড়িঘড়ি করে চাকরির সন্ধান করতে হবে, অন্যথায় দেশে ফিরে আসতে হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপের মুখে পড়বেন।

বিশ্বজুড়ে সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ও অভিবাসন আইনজীবীরা এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত ফি ও দীর্ঘস্থায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকবেন না, যা দেশের বৈশ্বিক গবেষণা নেতৃত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসেই ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় এক লাখ ভিসা বাতিল করেছে, যার মধ্যে আট হাজারই ছিল স্টুডেন্ট ভিসা।

সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল 

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow