এটাকে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপান্তর করা যায়: মোস্তফা তারিকুল আহসান
মোস্তফা তারিকুল আহসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে—গল্প: মহাপ্রস্থান, কয়েকটি বালকদিগের গল্প, গল্প গল্প খেলা, মাহবুবের কুটিরশিল্প, নমস্কার, কাআ তরুবর। উপন্যাস: অবগাহন। কবিতা: যদিও জাতিস্মর নই, এ দৃশ্য হননের, কন্টিকিরি রাত, মেঘেদের ইশতেহার, কপিলাবস্তুর পথে। কাব্যনাট্য: আনত কুসুমের ঘ্রাণে। অনুবাদ: বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প-১। ছোটদের গল্প: তিতিরের স্কুলে যেতে দেরি হয়। প্রবন্ধ: সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্য; বাংলাদেশের কবিতা: উপলব্ধির উচ্চারণ; সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যকর্ম; বাংলাদেশের কথাসাহিত্য: মেঘ ও রৌদ্র; বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চা: তত্ত্ব ও অধ্যয়ন; ক্ষেপুউল্লাহ বয়াতির জীবন ও সাহিত্য। সম্প্রতি তার লেখালেখি ও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরুণ কবি ও প্রাবন্ধিক বঙ্গ রাখাল— জাগো নিউজ: এবারের বইমেলা কেমন দেখলেন? একজন লেখক হিসেবে আপনার প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হলো?মোস্তফা তারিকুল আহসান: আমি কেমন দেখলাম বলা মুশকিল। আমি ঠিক বুঝতে পারিনি যে মন্তব্য করবো। মেলা ভালো বলতে প্রকাশকেরা মনে করেন ভালো বই বিক্রি। লেখকেরাও বোধহয় তাই
মোস্তফা তারিকুল আহসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে—গল্প: মহাপ্রস্থান, কয়েকটি বালকদিগের গল্প, গল্প গল্প খেলা, মাহবুবের কুটিরশিল্প, নমস্কার, কাআ তরুবর। উপন্যাস: অবগাহন। কবিতা: যদিও জাতিস্মর নই, এ দৃশ্য হননের, কন্টিকিরি রাত, মেঘেদের ইশতেহার, কপিলাবস্তুর পথে। কাব্যনাট্য: আনত কুসুমের ঘ্রাণে। অনুবাদ: বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প-১। ছোটদের গল্প: তিতিরের স্কুলে যেতে দেরি হয়। প্রবন্ধ: সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্য; বাংলাদেশের কবিতা: উপলব্ধির উচ্চারণ; সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যকর্ম; বাংলাদেশের কথাসাহিত্য: মেঘ ও রৌদ্র; বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চা: তত্ত্ব ও অধ্যয়ন; ক্ষেপুউল্লাহ বয়াতির জীবন ও সাহিত্য।
সম্প্রতি তার লেখালেখি ও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরুণ কবি ও প্রাবন্ধিক বঙ্গ রাখাল—
জাগো নিউজ: এবারের বইমেলা কেমন দেখলেন? একজন লেখক হিসেবে আপনার প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হলো?
মোস্তফা তারিকুল আহসান: আমি কেমন দেখলাম বলা মুশকিল। আমি ঠিক বুঝতে পারিনি যে মন্তব্য করবো। মেলা ভালো বলতে প্রকাশকেরা মনে করেন ভালো বই বিক্রি। লেখকেরাও বোধহয় তাই মনে করেন। তবে সবাই নয়। মেলা ভালো না মন্দ হচ্ছে তা নানা বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। ব্যবস্থাপনা, ভালো মান সম্পন্ন প্রকাশনা, লোকসমাগম, বিক্রি, পাঠক-লেখক যোগাযোগ, প্রচার-প্রসার, এসবের ওপর নির্ভর করে।
আমি গিয়েছিলাম প্রথমদিকে। সেদিন কবি ও প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক নিয়ে আমার আলোচনা ছিল, তা শেষ করে মেলা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। আমার কিছু বন্ধু, প্রকাশকের সঙ্গে দেখা হলো। তবে সব ফাঁকা ফাঁকা মনে হলো। রোজার দিনে প্রথম পর্যায়ে লোকজন কম ছিল। লেখক হিসেবে আমার প্রত্যাশা অনেক। আমাদের বইমেলাকে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপান্তর করা যায়। সারা দুনিয়া থেকে বড় বড় লেখক-প্রকাশক আসবেন। সারা দুনিয়া ব্যাপী এর প্রচার প্রসার হবে। বৈশ্বিক যোগাযোগ বাড়বে আমাদের লেখক, পাঠক ও প্রকাশকের। বড় পরিসরে ভালো ব্যবস্থাপনায় খুব ভালো মেলা আমার আকাঙ্ক্ষা। আশা করে আছি। তবে শেষ পর্যন্ত যে মেলা হচ্ছে, এতেই অনেকের মতো আমিও খুশি।
জাগো নিউজ: আপনার বইয়ের জন্য পাঠকের আগ্রহ কেমন ছিল? এবার মেলা কেমন জমে উঠেছিল বলে মনে করেন?
মোস্তফা তারিকুল আহসান: আমি কখনো পপুলার কিছু লিখিনি, ক্লাসিক ধারার গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ লিখেছি, অনুবাদ করেছি। আগেই পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা, পরে বই হয়েছে। তার পাঠক আছে। বড় প্রকাশনী থেকেই সব বের হয়েছে। অনলাইনে প্রচার ও বিক্রি হয়। আমি নিজে আমার বই নিয়ে প্রচার করতে দ্বিধাগ্রস্ত, স্বস্তি বোধ করি না। তবু বড় প্রকাশক ছাপে; তাতেই বুঝি পাঠকের আগ্রহ আছে এবং ছিল। হ্যাঁ, একসময় প্রচুর ছড়া লিখতাম, ছোটদের নিয়ে গল্প লিখতাম, তবে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য নয়। জনপ্রিয় হতে ইচ্ছে করে না।
জাগো নিউজ: এবারের মেলায় আপনার কয়টি বই এসেছে? কেমন সাড়া পেলেন?
মোস্তফা তারিকুল আহসান: পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে আমার নির্বাচিত গল্প বের হওয়ার কথা। আর ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ: কথা ও কবিতার কথকতা’ নামে আরেকটি গ্রন্থ বের করবে ক্রিয়েটিভ ঢাকা। এখনো বই দুটো বের হয়নি। তাই সাড়া পাওয়ার সুযোগ এখনো হয়নি।
জাগো নিউজ: সামনেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। কোথায় কাটাতে চান?
মোস্তফা তারিকুল আহসান: বহুদিন পর গ্রামে যাচ্ছি সপরিবারে। গ্রামে আমার ভাই-বোন, স্কুল-কলেজের বন্ধু, গ্রামের বহু পরিচিত ঘনিষ্ঠ মানুষজনের সঙ্গে বহুদিন পর দেখা হবে। অনেক মানুষ আছে যারা আমার গল্পের উপন্যাসের চরিত্র, তারা অবশ্য জানে না; তাদের সঙ্গে কথা হবে, দেখা হবে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরার ঘোনা গ্রামে আমার জন্ম, সেখানেই এসএসসি পাস পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। দাঁতভাঙ্গা বিলের উত্তরে আমাদের গ্রাম। খুব আনন্দ হবে মনে হচ্ছে। অনেকদিন তো যেতে পারি না।
জাগো নিউজ: এবার কতগুলো ঈদসংখ্যায় লিখলেন? এ সময়ের ঈদসংখ্যা কেমন হচ্ছে?
মোস্তফা তারিকুল আহসান: সাধারণত ঈদে চাঁদে ঘাড় গুঁজে আমি লিখি না। ঈদসংখ্যা নিয়ে একটি বিরাট ব্যাপার ঘটে, আমি ওই হাঙ্গামায় যেতে চাই না। আমার বন্ধুরা দরোজা বন্ধ করে লেখে। পনেরো পৃষ্ঠার উপন্যাস লেখে। আমি যে কখনো লিখিনি তা না, দুএকবার লিখেছি। আমি লিখি যখন কোনো বিষয় আমাকে গ্রেপ্তার করে ফেলে, সময় সুযোগ মতো আমি বসে পড়ি, পরিকল্পনা করি, ভাবি, তারপর লিখতে থাকি। অনেক লেখা শেষ করতে পারি না। পছন্দ হয় না, ফেলে রাখি। কাজেই সেরা লেখক, সেরা ঈদসংখ্যা নামক যে অদ্ভুদ বিজ্ঞাপন দেখি; তাতে আমার ঈদসংখ্যায় লেখার ইচ্ছে হয় না। তারপরও প্রিয় সম্পাদকের অনুরোধে এবার দুটো পত্রিকায় লিখেছি দুটো ছোট লেখা।
ঈদসংখ্যায় ঠিকমতো না লিখলেও আমি ঈদসংখ্যা কিনি ও পড়ি। আমার কাছে অজস্র ঈদসংখ্যা রয়েছে। ঈদসংখ্যা কেমন হচ্ছে তা বলা সত্যি আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার সময়ে কারা কী লিখছেন, কীভাবে লিখছেন তা জানা আমার খুব জরুরি। নিজেকে আপডেট রাখা লেখকের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ঈদসংখ্যা পড়ি।
জাগো নিউজ: ছেলেবেলার মজার কোনো ঈদস্মৃতি পাঠককে জানাবেন কি?
মোস্তফা তারিকুল আহসান: ছোটবেলায় আমরা তিনভাই বাবার সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তে যেতাম নতুন জামাকাপড় পরে আর সঙ্গে নিয়ে যেতাম বাবার অনুরোধে নামাজ পড়ার পাটি। এখনকার মতো চকচকে সৌদি আরবের জায়নামাজ তখন ছিল না। আর নামাজ পড়া হতো মাটিতে, ঈদগাহে। বিশাল বড় এক বটগাছের নিচে। ঘোনা ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ মাঠ ছিল সেটি। আমি আর আমার পিঠাপিঠি ছোট ভাই, তখন স্কুলে নিচের দিকে পড়ি। বড় ভাই অনেক বড়, বারো বছরের, গম্ভীর মানুষ। আমরা দুজন খুব হাসতে হাসতে যেতাম। বড় ভাই চোখ বড় করে তাকাতেন। আমাদের প্রধান কাজ ছিল কখন নামাজ শেষ হবে আর আমরা নানা রকমের খাবার খাবো।
টাকা-পয়সা আগেই কিছু পকেটে ঢুকেছে মায়ের কাছ থেকে, বাবা কিছু দেবে এ আশায় আমরা বসে থাকি। একজন মাওলানা ছিলেন, খুব পণ্ডিত; সবাই বলতো। তো তিনি বলতেন, যারা রোজা রাখেননি, তাদের ঈদগাহে আসার কোনো দরকার নেই। ভারত থেকে উচ্চতর লেখাপড়া করা মাওলানা, কেউ কিছু বলতে পারেন না। যাই হোক, খোতবার পরে দুরাকাত নামাজ পড়ার পর, মোনাজাত হওয়ার আগে আরও খানিক বক্তৃতা হয়। ঈদগাহের উন্নতি বিষয়ক কথাবার্তা। আমরা উসখুস করি, জিলেপি বোধহয় ঠান্ডা হয়ে গেল! বড় ভাই দেন এক ধমক। বাবা কিছু না বলে পকেট থেকে ছোট ভাইয়ের হাতে কয়েকটা টাকা দিলে আমরা ফাকফোকর দিয়ে পালাই।
রাস্তার ওপারে শয়ে শয়ে দোকানে খাবারের পসরা। আরও ছোটখাটো জিনিস। রাস্তার ওপরে উঠতে গিয়ে ছোট ভাই পায়ে আঘাত পায়, কিছু মনে করে না। সুপদর বাবার দোকান থেকে প্রথমে জিলেপি আর পেঁয়াজু কিনে খাওয়া পর্ব শুরু হয়। বোনেরা কোথায় আছে খুঁজতে হবে। ওরা তো নামাজে আসে না। ওদের সাথে আরও অনেক কিছু কেনা হবে, মজার মজার খাবার জিনিস ছোট আপা বেশি খোঁজ রাখে। আমরা দুজন নয়নজুলির ধারে ওদের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতাম।
এসইউ
What's Your Reaction?