এনবিআরের তদন্তে মাহতাবুর রহমানের বিলাসবহুল বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন, সব অভিযোগ অস্বীকার ব্যবসায়ীর

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসিরের বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ, অর্থের উৎস এবং তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অন্যান্য সংস্থা। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু উপকরণ এবং ব্যয়ের উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মাহতাবুর রহমান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিলাসবহুল ওই বাড়িটিতে রয়েছে নয়টি ডাইনিং স্পেস। আসবাবপত্রের পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অধিকাংশ উপকরণ বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স ও লেবাননের প্রকৌশলীরা নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন বলেও জানা গেছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাড়িটি নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু উপকরণ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আমদানি করা হয়নি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থের পরিমাণ মাহতাবুর রহমানের আয়কর নথিতে উল্লেখিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মাহতাবুর র

এনবিআরের তদন্তে মাহতাবুর রহমানের বিলাসবহুল বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন, সব অভিযোগ অস্বীকার ব্যবসায়ীর

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসিরের বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ, অর্থের উৎস এবং তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অন্যান্য সংস্থা। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু উপকরণ এবং ব্যয়ের উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মাহতাবুর রহমান।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিলাসবহুল ওই বাড়িটিতে রয়েছে নয়টি ডাইনিং স্পেস। আসবাবপত্রের পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অধিকাংশ উপকরণ বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স ও লেবাননের প্রকৌশলীরা নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাড়িটি নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু উপকরণ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আমদানি করা হয়নি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থের পরিমাণ মাহতাবুর রহমানের আয়কর নথিতে উল্লেখিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মাহতাবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে যুক্ত একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পদ কেনার অভিযোগে যেসব রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীর নাম বিভিন্ন সময়ে এসেছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই মাহতাবুর রহমান সহযোগিতার ভূমিকা পালন করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ বিদেশে স্থানান্তর, সম্পদ ক্রয়ে সহায়তা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং এসবের বিনিময়ে কমিশন পেতেন। ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেই তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হলেও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির। তিনি বলেন, “আমার আয়ের প্রধান উৎস আল হারামাইন পারফিউমস। বাংলাদেশে লোকসান থাকলেও বিশ্বব্যাপী এটি একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। আমি কখনো হুন্ডির ব্যবসা করিনি। আমার কোনো অবৈধ ব্যবসা নেই। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া আর কোথাও আমার কোনো ব্যবসা নেই।”

তবে আল হারামাইন পারফিউমসের ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও শোরুম থাকার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, এনবিআরের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ছোট এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের অর্থ কিনে নিয়ে তা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে না পাঠিয়ে অর্থ পাচারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে সমন্বয় করা হতো। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বিশ্বের ৮৬টি দেশে বিস্তৃত হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাবেক সরকারের সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আতিথেয়তা দেওয়াকেই দায়ী করছেন মাহতাবুর রহমান নাসির। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে মন্ত্রী-এমপিরা দুবাই সফরে যাওয়ার আগে আমাকে জানাতেন। তারা পৌঁছালে বিমানবন্দরে গাড়ি পাঠানো, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা—এসব করতে হতো। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও অনেক সময় এ ধরনের অনুরোধ আসত। তখন এসব না করাই ছিল কঠিন। এখন মনে হচ্ছে, সেই আতিথেয়তাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

দীর্ঘ নয় বছর এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এ ব্যবসায়ী দাবি করেন, ওই আতিথেয়তার বিনিময়ে তিনি কোনো ব্যক্তিগত বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেননি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow