‘এপিটাফ ছড়া’ লেখার কলাকৌশল!
এপিটাফ হচ্ছে সমাধিলিপি। যেখানে মৃত মানুষের জীবনের সারকথা, দর্শন কিংবা শোককে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই মৃত ব্যক্তির কবরের ফলকে খোদাই করার জন্য এই ছোট ও গম্ভীর ছড়াগুলো লেখা হতো। প্রাচীন গ্রিস ও মিশরে মৃত ব্যক্তিকে স্মরণ করার জন্য এই প্রথা শুরু হলেও মধ্যযুগে এটি একটি শক্তিশালী সাহিত্যে রূপ নেয় এবং জনপ্রিয়তা পায়।
এপিটাফ ছড়া লেখার কৌশল
ক. মৃত্যু, শোক, ফেলে আসা জীবন, দর্শন বা শ্লেষ এর বিষয়বস্তু।
খ. সাধারণত ২ থেকে ৪ চরণের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ছড়া এটি।
গ. এমনভাবে লেখা হবে যেন তা সহজে পড়া যায় এবং মনে থাকে।
ঘ. এপিটাফ ছড়া মূলত দুই ধরনের হতে পারে
১. স্মৃতিচারণমূলক : যেখানে মৃত ব্যক্তির কাজ, স্বভাব, তাঁর রেখে যাওয়া বাণী বা লেখা স্মরণ করা হয়।
২. দার্শনিক : মৃত্যু যে অনিবার্য, সেই ধ্রুব সত্যকে তুলে ধরা হয়। এমনভাবে লেখা হয়, যেন মৃত ব্যক্তি নিজেই পথচারীর সাথে কথা বলছেন।
উদাহরণ
১ : স্মৃতিচারণমূলক এপিটাফ
‘তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিব না।/
কোলাহল করি সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না।/
–নিশ্চল নিশ্চুপ/
আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর ধূপ।’
এপিটাফ হচ্ছে সমাধিলিপি। যেখানে মৃত মানুষের জীবনের সারকথা, দর্শন কিংবা শোককে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই মৃত ব্যক্তির কবরের ফলকে খোদাই করার জন্য এই ছোট ও গম্ভীর ছড়াগুলো লেখা হতো। প্রাচীন গ্রিস ও মিশরে মৃত ব্যক্তিকে স্মরণ করার জন্য এই প্রথা শুরু হলেও মধ্যযুগে এটি একটি শক্তিশালী সাহিত্যে রূপ নেয় এবং জনপ্রিয়তা পায়।
এপিটাফ ছড়া লেখার কৌশল
ক. মৃত্যু, শোক, ফেলে আসা জীবন, দর্শন বা শ্লেষ এর বিষয়বস্তু।
খ. সাধারণত ২ থেকে ৪ চরণের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ছড়া এটি।
গ. এমনভাবে লেখা হবে যেন তা সহজে পড়া যায় এবং মনে থাকে।
ঘ. এপিটাফ ছড়া মূলত দুই ধরনের হতে পারে
১. স্মৃতিচারণমূলক : যেখানে মৃত ব্যক্তির কাজ, স্বভাব, তাঁর রেখে যাওয়া বাণী বা লেখা স্মরণ করা হয়।
২. দার্শনিক : মৃত্যু যে অনিবার্য, সেই ধ্রুব সত্যকে তুলে ধরা হয়। এমনভাবে লেখা হয়, যেন মৃত ব্যক্তি নিজেই পথচারীর সাথে কথা বলছেন।
উদাহরণ
১ : স্মৃতিচারণমূলক এপিটাফ
‘তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিব না।/
কোলাহল করি সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না।/
–নিশ্চল নিশ্চুপ/
আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর ধূপ।’
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের কবরের এপিটাফে তাঁর এই লেখাটি রয়েছে। এখানে তিনি তাঁর চেনা মানুষদের উদ্দেশ্য করে বলছেন, জীবনের সব কোলাহল শেষ করে তিনি চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন। আর কখনও জেগে উঠে কারও কাজে বাধা দেবেন না। ধূপ যেমন নিজে পুড়ে অন্যকে সুগন্ধ বিলায়, কবিও তেমন নিজের জীবনের কষ্ট ও সাধনার মাধ্যমে সমাজকে সাহিত্যের সুবাস দিয়ে গেছেন।
উদাহরণ
২ : দার্শনিক এপিটাফ
‘আমিও ভাই হেঁটেছি এমন ঠিক তোমারই মতো,
বুকে নিয়ে স্বপ্ন-আশা, বিষাদ শত শত।
আজকে আমি ঘুমিয়ে আছি মাটির শীতল ঘরে,
এখানে কাল তুমিও আসবে- হয়তো আমার পরে!’
ব্যাখ্যা
এই ছড়াটিতে মৃত ব্যক্তি যেন সরাসরি পথচারীর সাথে কথা বলছেন। তিনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আজ যে মানুষটি বেঁচে আছে এবং কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, মৃত ব্যক্তিটিও একসময় ঠিক তেমনই জীবন্ত ছিলেন। ‘স্বপ্ন-আশা’ ও ‘বিষাদ’, এই শব্দগুলো দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে জীবন মানেই আনন্দ-বেদনা, যা সবার জন্যই নির্ধারিত। ছড়াটির শেষ দুই চরণে ‘মৃত্যু অনিবার্য’ বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
আজ যিনি কবরে শুয়ে আছেন, কাল হয়তো বর্তমান পথচারীটিও সেই একই জায়গায় চলে আসবেন। এটি মূলত জীবনের কঠিন সত্যটিকে মনে করিয়ে দেয় এবং মানুষের অহংকার চূর্ণ করে।
ছড়ামর্শ লাইভ প্রশিক্ষণ (১ম ব্যাচ)-এ আমি শেখাতে যাচ্ছি ছড়া লেখা শেখার এমন চমৎকার সব কৌশলের বিস্তারিত। জয়েন করতে ইনবক্স করুন।