এপ্রিল-জুনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সব সূচকে প্রবৃদ্ধি

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। সহজে টাকা জমা, উত্তোলন, স্থানান্তর ও প্রবাসী আয় গ্রহণের সুযোগ থাকায় দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই সেবা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন- এই তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রায় সব সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। এ সময়ে আমানত, লেনদেন ও হিসাবধারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি নতুন এজেন্ট ও আউটলেটও যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ১২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। মার্চ শেষে এর পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৫৬২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৫৬৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানতের মধ্যে শহরাঞ্চলের এজেন্টগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে ৯ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। আর গ্রামাঞ্চলের এজেন্টগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ ৪২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত বেশি রয়েছে প্রায় ৩২ হাজার ৯৭৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩

এপ্রিল-জুনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সব সূচকে প্রবৃদ্ধি

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। সহজে টাকা জমা, উত্তোলন, স্থানান্তর ও প্রবাসী আয় গ্রহণের সুযোগ থাকায় দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই সেবা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন- এই তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রায় সব সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

এ সময়ে আমানত, লেনদেন ও হিসাবধারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি নতুন এজেন্ট ও আউটলেটও যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ১২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। মার্চ শেষে এর পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৫৬২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৫৬৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানতের মধ্যে শহরাঞ্চলের এজেন্টগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে ৯ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। আর গ্রামাঞ্চলের এজেন্টগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ ৪২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত বেশি রয়েছে প্রায় ৩২ হাজার ৯৭৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৮৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মার্চ শেষে এই পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

জুন প্রান্তিকে শহরাঞ্চলের এজেন্টগুলোতে ২৫ হাজার ৭৫৮ কোটি ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। বিপরীতে গ্রামাঞ্চলের এজেন্টগুলোতে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৩০ কোটি ৪ লাখ টাকা। ফলে শহরের তুলনায় গ্রামে লেনদেনের পরিমাণ বেশি হয়েছে ৯৪ হাজার ৬৭১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

নতুন হিসাব বেড়েছে সাড়ে ৭ লাখ

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় গ্রাহকের হিসাব খোলার প্রবণতাও বাড়ছে। জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট হিসাবধারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৮১টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০৩টি। সে হিসাবে তিন মাসে নতুন হিসাব বেড়েছে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৮টি।

বেড়েছে এজেন্ট ও আউটলেট

গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ শেষে দেশে এজেন্টের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ১৮৪টি। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪২৩টিতে। অর্থাৎ তিন মাসে নতুন এজেন্ট যুক্ত হয়েছে ২৩৯টি।

একই সময়ে আউটলেটের সংখ্যাও বেড়েছে। মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউটলেট ছিল ২০ হাজার ৩৩৯টি। জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৫৯৭টি। ফলে তিন মাসে আউটলেট বেড়েছে ২৫৮টি।

কমেছে এজেন্টের মাধ্যমে রেমিট্যান্স

তবে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসার পরিমাণ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন প্রান্তিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে ৫ হাজার ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা রেমিট্যান্স এসেছে।

এর আগের মার্চ প্রান্তিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের প্রান্তিকের তুলনায় জুন প্রান্তিকে রেমিট্যান্স কমেছে ৩ হাজার ৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

এক যুগে বিস্তৃত এজেন্ট ব্যাংকিং

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৩ সালে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালুর অনুমোদন পায় বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া। একই বছরের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপর ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া। পরে দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকও এ কার্যক্রমে যুক্ত হয়।

শুরুতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য। সময়ের সঙ্গে এর পরিধি বাড়ায় এখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র সঞ্চয় সংগ্রহ, প্রবাসী আয় বিতরণ ও দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে এজেন্ট ব্যাংকিং।

ইএআর/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow