এবার ইসলামী ব্যাংকের বিক্রেতা নেই, বেক্সিমকোর ক্রেতা সংকট অব্যাহত
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর দুই কার্যদিবস ক্রেতা সংকটে পড়ে ইসলামী ব্যাংক। তবে তৃতীয় কার্যদিবসে এসে কোম্পানিটির শেয়ারের বিক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় চলে এসেছি কোম্পানিটির শেয়ার। অপরদিকে, বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্রেতা সংকট অব্যাহত রয়েছে। ফলে দিনের সর্বনিম্ন দামেও কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) কোম্পানি দুটির শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়। এর পরপরই বাজারে কোম্পানি দুটির শেয়ার বিক্রির চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। মঙ্গলবার লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে কোম্পানি দুটির শেয়ারের চরম ক্রেতা সংকট দেখা দেয়। দিনের সর্বনিম্ন দামে লাখ লাখ শেয়ার বিক্রির আদেশ আসলেই, সেই দামে কেনার আগ্রহ দেখাননি বিনিয়োগকারীরা। ফলে শেয়ার বিক্রির আদেশ বসানো বিনিয়োগকারী হতাশ হন। একই অবস্থা থাকে বুধবার (১০ জুন)। তবে বৃহস্পতিবার কোম্পানি দুটির শেয়ারের দুই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই দিনের সর্বনিম্ন দামে বেক্সিমকোর বিপুল পরিমাণ শেয়
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর দুই কার্যদিবস ক্রেতা সংকটে পড়ে ইসলামী ব্যাংক। তবে তৃতীয় কার্যদিবসে এসে কোম্পানিটির শেয়ারের বিক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় চলে এসেছি কোম্পানিটির শেয়ার।
অপরদিকে, বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্রেতা সংকট অব্যাহত রয়েছে। ফলে দিনের সর্বনিম্ন দামেও কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) কোম্পানি দুটির শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়। এর পরপরই বাজারে কোম্পানি দুটির শেয়ার বিক্রির চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
মঙ্গলবার লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে কোম্পানি দুটির শেয়ারের চরম ক্রেতা সংকট দেখা দেয়। দিনের সর্বনিম্ন দামে লাখ লাখ শেয়ার বিক্রির আদেশ আসলেই, সেই দামে কেনার আগ্রহ দেখাননি বিনিয়োগকারীরা। ফলে শেয়ার বিক্রির আদেশ বসানো বিনিয়োগকারী হতাশ হন। একই অবস্থা থাকে বুধবার (১০ জুন)।
তবে বৃহস্পতিবার কোম্পানি দুটির শেয়ারের দুই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই দিনের সর্বনিম্ন দামে বেক্সিমকোর বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব আসে। বিপরীতে শূন্য হয়ে যায় ক্রয় আদেশের ঘর। অপরদিকে, লেনদেনের অল্প সময়ের মধ্যেই দিনের সর্বোচ্চ দামে ইসলামী ব্যাংকের বিপুল শেয়ারের ক্রয় আদেশ আসে, অন্যদিকে, শূন্য হয়ে যায় বিক্রয় আদেশের ঘর।
শেয়ারবাজারে লাগাতার পতন ঠেকাতে না পেরে, গত পাঁচ বছরে কয়েক দফায় শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। প্রথমবার করনো মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে মার্চে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়। তবে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তা তুলে নেওয়া হয়।
এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা দিলে ২০২২ সালের জুলাইয়ে আবারও ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে বিএসইসি। এ পর্যায়ে শেয়ার লেনদেন ব্যাপক কমে গেলে সমালোচনায় পড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পর্যায়ক্রমে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয় বিএসইসি। তবে অদৃশ্য কারণে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস অব্যাহত রাখা হয়।
স্টেকহোল্ডারদের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে সোমাবর (৮ জুন) কোম্পানি দুটির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব। যে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় গত মঙ্গলবার। ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার কারণে কোম্পানি দুটির শেয়ারের ব্যাপক দরপতন হলেও, বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন মূল্য সংশোধনের মাধ্যমে এখন কোম্পানি দুটির শেয়ার দাম যুক্তিসংগত পর্যায়ে পৌছাবে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফ্লোর প্রাইসের কারণে দীর্ঘদিন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দাম ৩২ টাকা ৬০ পয়সায় আটকে ছিলো। তবে ২০২৪ সালে গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ফ্লোর প্রাইস ভেঙে হু হু করে উপরে উঠতে থাকে কোম্পানিটির শেয়ার দাম। অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৭০ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত উঠে।
এরপর কয়েক দফায় উঠা-নামা করলেও কোম্পানিটির শেয়ার দাম ফ্লোর প্রাইসের ওপরেই ছিলো। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ব্যবধানে বিজীয় হওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দাম কমতে শুরু করে। দফায় দফায় দাম কমে মে মাসের শুরুতেই কোম্পানিটির শেয়ার দাম আবার ফ্লোর প্রাইসে চলে আসে। এরপর ওই ফ্লোর প্রাইসেই আটকে থাকে কোম্পানিটির শেয়ার দাম।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে মঙ্গলবার কোম্পানিটির শেয়ার দামের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলে লেনদেনের শুরুতেই বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির কয়েক লাখ শেয়ার দিনের সর্বোনিম্ন দামে বিক্রির প্রস্তাব বসান। বুধবারও একই চিত্র দেখা যায়। এতে কোম্পানিটির শেয়ার ২৬ টাকা ৫০ পয়সা নেমে আসে।
টানা দুই কার্যদিবস ক্রেতা সংকটে ভোগার পর বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের ক্রেতার চাপ বেড়েছে। আজ এ প্রতিবেদন লেখার সময় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪০টি শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দাম ২৯ টাকা ১০ পয়সা করে ক্রয়ের আদেশ দিয়ে রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। অপরদিকে বিক্রয় আদেশের ঘর শূন্য পড়ে রয়েছে।
অপরদিকে বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস নির্ধারিত ছিলো ১১০ টাকা ১০ পয়সা। এই দামে দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীরা বিপুল শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ক্রেতারা সংকটে বিক্রি হচ্ছিল না। মঙ্গলবার কোম্পানিটির শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও, পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।
মঙ্গলবার লেনদেন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির কয়েক লাখ শেয়ার দিনের সর্বোম্ন ৯৯ টাকা ১০ দামে বিক্রির আদেশ দেন। অপরদিকে ক্রেতার ঘর ছিলো শূন্য। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই চিত্র অব্যাহত থাকে। বুধবারও দিনের সর্বনিম্ন দামে কোম্পানিটির কয়েক কোটি শেয়ার বিক্রয়ের আদেশ আসে। তবে ক্রেতা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের হতাশ হতে হয়।
আজ বৃহস্পতিবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বেক্সিমকোর ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৭টি শেয়ার দিনের সর্বনিম্ন দাম ৮০ টাকা ৩০০ পয়সা করে বিক্রির আদেশ দিয়ে রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। অপরদিকে ক্রয় আদেশের ঘর শূন্য পড়ে রয়েছে।
এমএএস/এসএনআর
What's Your Reaction?