এবার পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব

পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব। এ জন্য দেশ দুইটি আলোচনা করছে বলে পাকিস্তানের দুইটি সূত্র জানিয়েছে। গত বছর উভয় দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের কয়েক মাস পর এই আলোচনা শুরু হওয়ায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। তবে সৌদি আরব পকিস্তানকে যে ঋণ দিয়েছে তার আওতায় এ চুক্তি হতে পারে। সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান যখন তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে, তখন সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব নিরাপত্তা অংশীদারত্ব নতুনভাবে সাজাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে দুই মিত্র দেশ। গত সেপ্টেম্বরে সই হওয়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়, কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একটি সূত্র জানায়, আলোচনার মূল বিষয় হলো পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে উন্নত এবং পাকিস্তানে নির্মিত জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সরবরাহ। অন্য সূত্রটি জানায়, জেএফ–১৭ই প্রধান বিকল্প হলেও আরও কিছু সামরিক সরঞ্জাম নিয়েও আলোচনা

এবার পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব

পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব। এ জন্য দেশ দুইটি আলোচনা করছে বলে পাকিস্তানের দুইটি সূত্র জানিয়েছে। গত বছর উভয় দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের কয়েক মাস পর এই আলোচনা শুরু হওয়ায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। তবে সৌদি আরব পকিস্তানকে যে ঋণ দিয়েছে তার আওতায় এ চুক্তি হতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান যখন তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে, তখন সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব নিরাপত্তা অংশীদারত্ব নতুনভাবে সাজাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে দুই মিত্র দেশ।

গত সেপ্টেম্বরে সই হওয়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়, কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, আলোচনার মূল বিষয় হলো পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে উন্নত এবং পাকিস্তানে নির্মিত জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সরবরাহ। অন্য সূত্রটি জানায়, জেএফ–১৭ই প্রধান বিকল্প হলেও আরও কিছু সামরিক সরঞ্জাম নিয়েও আলোচনা চলছে।

প্রথম সূত্রের দাবি, পুরো চুক্তির মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার হতে পারে। এর মধ্যে ২০০ কোটি ডলার হবে ঋণ রূপান্তর, আর বাকি অর্থ যাবে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম কেনায়। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এ সপ্তাহে সৌদি আরব সফর করেন। সেখানে তিনি সৌদি বিমানবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল তুর্কি বিন বান্দার বিন আবদুলআজিজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল ও বিশ্লেষক আমির মাসুদ বলেন, জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত হওয়ায় এর বাজারযোগ্যতা বেড়েছে এবং এটি তুলনামূলকভাবে কম খরচের। পাকিস্তান দাবি করেছে, গত বছর মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই ছিল।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে, আর সৌদি আরব বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সালে সৌদি আরব পাকিস্তানকে ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত ও বাকিতে তেল সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সম্প্রতি পাকিস্তান অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে প্রতিরক্ষা কূটনীতি জোরদার করেছে। গত মাসে দেশটি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র চুক্তি করে, যেখানে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও জেএফ–১৭ বিক্রি নিয়ে আলোচনা চলছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সম্প্রতি বলেন, দেশটির অস্ত্র শিল্পের সাফল্য অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে। বর্তমানে পাকিস্তান ৭০০ কোটি ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow